kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ আষাঢ় ১৪২৭। ১৪ জুলাই ২০২০। ২২ জিলকদ ১৪৪১

অনেকের সংশ্লিষ্টতার দাবি

ক্যাসিনো কারবারেই ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ লোকমান

এস এম আজাদ   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্যাসিনো কারবারেই ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ লোকমান

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, ক্লাবে ক্যাসিনো কারবারে আয়ের টাকা সংশ্লিষ্ট অনেকেই পেতেন। অন্যদের অর্থিক সুবিধা দিয়ে ক্লাবে নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখতে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদের কাছে ক্যাসিনো খেলতে ক্লাবের কক্ষ ভাড়া দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাংকে পাচার করা ৪১ কোটি টাকা ছাড়া ক্যাসিনো কারবারের অন্য কোনো অর্থ তাঁর কাছে নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে মাদকের মামলায় রিমান্ডের কারণে ক্যাসিনো কারবারের আলামত ধরে তাঁকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে পুলিশ সূত্র। অন্যদিকে র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, ক্যাসিনো কারবারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান ও তদন্তে লোকমানের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা হতে পারে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লোকমান ক্যাসিনো কারবারে জড়িত থাকাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

গত বুধবার রাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মনিপুরিপাড়ায় লোকমানের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে র‌্যাব-২। অভিযানে তাঁর বাসা থেকে অবৈধ মদ উদ্ধারের ঘটনায় বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় মামলা হয়। শুক্রবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে কয়েকটি ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানের পর গত রবিবার মতিঝিলে মোহামেডান ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাঁর (লোকমান) বিরুদ্ধে অবৈধ মদ রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতের নির্দেশে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এই সূত্র ধরে নতুন অভিযান বা জব্দ নেই।’

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, চার বোতল মদ রাখার অভিযোগে মামলা হওয়ায় পুলিশ তদন্তে অন্য বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে না। অবশ্য ক্যাসিনোসংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে পুলিশ লোকমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্লাবের অনেকেই ক্যাসিনো ভাড়ার সুবিধা নিয়েছিল। বিএনপির আমলে জুয়ার কারবার থেকে ধারণা নিয়ে এ আমলে তিনি ক্যাসিনো কারবার শুরু করেন। কাউন্সিলর সাঈদ এ কারবারে তাঁকে জড়িত করেন। গত তিন বছর ধরে ক্যাসিনো থেকে বিপুল টাকা আয়ের কারণে লোকমান ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে বের হয়ে আওয়ামী লীগে যুক্ত হলেও বিএনপির সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন।

একটি সূত্র জানায়, লোকমান বলেছেন, তাঁর বাসায় অনেক ভিআইপি ও বিদেশি যায়। তাদের আপ্যায়নের জন্য তিনি মদ রেখেছেন। কখনো অবৈধ মদ রাখার কারণে গ্রেপ্তার হতে পারেন, তা চিন্তাও করেননি লোকমান।

সূত্র জানায়, অস্ট্রেলিয়ার এএনজেড ও কমনওয়েলথ ব্যাংকে ৪১ কোটি টাকা ছাড়া ক্যাসিনো থেকে আয় করা অন্য কোনো টাকা তাঁর হাতে নেই বলে দাবি করেছেন লোকমান। বিদেশে তাঁর আর্থিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হতে পারে।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, লোকমান জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য দিয়েছেন। সেসব তথ্যে অভিযান হবে। আলামত পাওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কানেকশন থাকার কারণে তাঁকে ভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।

লোকমান আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা