kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় তদন্ত র‌্যাবে

ওমর ফারুক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় তদন্ত র‌্যাবে

চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তদন্তে গাফিলতি, গ্রেপ্তার খালেদ-শামীম-ফিরোজ জিজ্ঞাসাবাদে যাঁদের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন তাঁদের কাউকে গ্রেপ্তারে উদ্যোগ না নেওয়া, অভিযানে রহস্যজনক আচরণ ইত্যাদি।     

পুরান ঢাকার আওয়ামী লীগের দুই নেতা এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার মালিকানাধীন পাঁচ কোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের ঘটনায় তিন থানায় সাতটি মামলা হলেও গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অনেক তথ্য পাওয়া গেলেও সেই তথ্য অনুযায়ী অভিযান না চালানোয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এসব প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

অন্যদিকে যখন ডিবি পুলিশ খালেদ ও জি কে শামীমের মামলা তদন্ত করছিল তখন এ দুজনের মামলা র‌্যাবের কাছে স্থানান্তর হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক যুবলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে, যা সারা দেশের মানুষ ব্যাপক প্রশংসা করছে। র‌্যাব একের পর এক অভিযান ও অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও পুলিশকে সেখানে নীরব মনে হচ্ছে। পুলিশ কয়েকটি ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে; কিন্তু জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অথচ র‌্যাব কী করে গ্রেপ্তার করতে পারছে, সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাব মিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ অভিযান চালানো দরকার। এতে দেশের মানুষ লাভবান হবে। চলমান অভিযানে পুলিশের তদন্তে গতি না থাকায় মামলা র‌্যাবের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বুধবার খালেদের মামলা পুলিশের কাছ থেকে র‌্যাবের কাছে স্থানান্তর করার পর গতকাল র‌্যাব তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে ২০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত তাঁর ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে জানান, জি কে শামীমকেও পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাওয়া গেছে। র‌্যাব সূত্র জানায়, র‌্যাব-৩-এর অফিসে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। অথবা টিএফআই সেলেও তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

ডিবির তদন্তকালে খালেদের মামলা র‌্যাবের তদন্ত করার প্রয়োজন কেন হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাঁদের গ্রেপ্তার করার পর আমরা তদন্ত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যে তথ্য পাওয়া যাবে, তাতে যদি আর কারো নাম আসে, তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।’ 

র‌্যাবের অন্য এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, খালেদ ও শামীমকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য র‌্যাবের তরফ থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আবেদন করা হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সেই আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মামলা তদন্তের জন্য র‌্যাবকে দায়িত্ব দিয়ে আদেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশের ভিত্তিতেই র‌্যাব তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।

অন্যদিকে পুরান ঢাকার আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার বাড়ি থেকে পাঁচ কোটি টাকা ও আট কেজি সোনা পাওয়ার ঘটনায় গেণ্ডারিয়া, সূত্রাপুর ও ওয়ারী থানায় সাতটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এনামুল হক এনু, রুপন ভূঁইয়া, হারুনুর রশীদ ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের খুব একটা তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না।

৮২/১ নারিন্দা লালমোহন স্ট্রিটের দোতলায় এনুর কর্মচারী আবুল কালাম আজাদের নিজস্ব ফ্ল্যাটের একটি ভল্ট থেকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুই কোটি টাকা ও একটি পিস্তল উদ্ধার করে র‌্যাব। এলাকাটি ওয়ারী থানার অন্তর্গত হওয়ায় এই থানায় অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনে দুটি মামলা হয়। মামলা দুটি তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানি লন্ডারিং মামলা তদন্ত করবে সিআইডি। অস্ত্র মামলাটি আমরা তদন্ত করব।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলা যেহেতু হয়েছে, তাতে তদন্ত তো করতেই হবে। মামলার বিষয়ে জানার জন্য আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।’ অন্যদিকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে পুলিশকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা দুই ভাইয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা পাঁচ কোটি পাঁচ লাখ টাকা ও আট কেজি স্বর্ণালংকার গেণ্ডারিয়া, সূত্রাপুর ও ওয়ারী থানায় জমা দিয়েছে র‌্যাব-৩। এর মধ্যে এক কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়েছে গেণ্ডারিয়া থানায়। আর সূত্রাপুর থানায় জমা দেওয়া হয়েছে এক কোটি পাঁচ লাখ ৫১ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্বর্ণালংকার জমা দেওয়া হয়েছে আট হাজার ৬৩ গ্রাম (আট কেজি ৬৩ গ্রাম)। ওয়ারী থানায় জমা দেওয়া হয়েছে দুই কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই কোটি টাকা আমাদের এখানে হেফাজতে রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আদালতের অনুমতি নিয়ে দু-তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে এই টাকা পাঠিয়ে দেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা