kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে উদ্যোগ

আসছে ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আসছে ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকা

খেলাপি ঋণের বোঝা ও তারল্য সংকটে থাকার মধ্যেও পুঁজিবাজার গতিশীল করতে ব্যাংকের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক নিজে বিনিয়োগের পাশাপাশি সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) কম্পানিকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে ঋণ দিতে পারবে। ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল ও বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে রেপোর মাধ্যমে তারল্য সুবিধা নিতে পারবে।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে পুঁজিবাজারে সাময়িক তারল্য সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে; যা দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী বরাবর পাঠানো হয়েছে। তবে পুঁজিবাজারের এই তারল্য সুবিধা গ্রহণে ব্যাংককে ৯টি শর্ত পরিপালন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এই তারল্য সুবিধা নিয়ে ব্যাংকগুলো সীমার মধ্যেই পুঁজিবাজারে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ পাবে। বর্তমানে একটি বাদে প্রায় সব ব্যাংকেরই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা, তবে প্রায় ৮৫ শতাংশই ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হিসেবে আছে। এই ট্রেজারি বিল ও বন্ডে রাখা বিনিয়োগের একটি অংশ বিকল্পভাবে পুঁজিবাজারে আনার লক্ষ্যে এই সুযোগ সৃষ্টি করল বাংলাদেশ ব্যাংক।

কয়েক মাস ধরে পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থা চলছে। আর এই অবস্থায় পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বাজারে সক্রিয় হতে পারেনি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। তারা বলছে, মন্দাবস্থায় পুঁজিবাজার লাভজনক না হওয়ায় ব্যাংক থেকে নতুন ফান্ড পায়নি তারা। তারল্য সুবিধা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পর পুঁজিবাজারে তারল্যের জোগান বাড়বে। ব্যাংক নিজে এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে পুঁজিবাজারে ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকার জোগান আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে ৩০টি ব্যাংক তালিকাভুক্ত রয়েছে। খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ ও পর্যাপ্ত আমানত না আসায় সংকটে রয়েছে বেশির ভাগ ব্যাংক। পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা তারল্য সংকট কাটার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে গতিশীলতা বাড়বে। সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে ব্যাংক থেকে ঋণ পাবে, আবার ব্যাংকের মুনাফাও বাড়বে।

এমটিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সিইও খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। সরাসরি পুঁজিবাজার উপকৃত না হলেও পরোক্ষভাবে পুঁজিবাজার গতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়বে, আবার তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানও অর্থের জোগান পাবে। ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়লে মুনাফাও বাড়বে, যা পুঁজিবাজারে আসবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংকের অগ্রিম ও আমানতের অনুপাত নির্ধারিত মাত্রা অপেক্ষা কম এবং এসএলআর সংরক্ষণের পর অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। এসব ব্যাংকের জন্য আইনি সীমার মধ্যে থেকে পুঁজিবাজারে মৌল ভিত্তিসম্পন্ন শেয়ার ও ইউনিটে বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই অবস্থায় ব্যাংকগুলো নিজস্ব পোর্টফোলিওতে সরাসরি বিনিয়োগ অথবা সাবসিডিয়ারি কম্পানিতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে তারল্য সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি গতিশীল পুঁজিবাজার নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

তারল্য সুবিধা গ্রহণে ৯ শর্ত : পুঁজিবাজার গতিশীল করতে তারল্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণে ৯টি শর্ত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কম্পানি আইন অনুযায়ী, তারল্য সুবিধা গ্রহণেচ্ছু ব্যাংকের একক (Solo) ও সমন্বিত (Consolidated)) উভয় ভিত্তিতে বিবেচ্য মূলধন সর্বোচ্চ সীমার কম হতে হবে। সোলো ভিত্তিতে বিবেচ্য মূলধন উপাদানের ২৫ শতাংশ এবং সমন্বিত ভিত্তিতে বিবেচ্য মূলধন উপাদানের ৫০ শতাংশ কম হতে হবে। তারল্য সুবিধা গ্রহণের পরও বর্ণিত বিনিয়োগসীমা পরিপালন করতে হবে।

এই সুবিধায় পাওয়া অর্থ ব্যাংক নিজস্ব পোর্টফোলিওতে সরাসরি বিনিয়োগ অথবা সাবসিডিয়ারি কম্পানিকে বিনিয়োগের জন্য ঋণ দিতে পারবে। এই তারল্য বিনিয়োগের জন্য ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারিকে পৃথক বিও হিসাব খুলতে হবে। ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য থেকে ট্রেজারি বন্ড বা বিল রেপোর মাধ্যমে এই তারল্য সুবিধা গ্রহণ করতে হবে। ট্রেজারি বন্ড বা বিলের রেপো মূল্যের ৫ শতাংশ মার্জিন রেখে তারল্য সুবিধা নিতে পারবে ব্যাংক। নগদে রেপোর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখে সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজের বাজারমূল্য আদায়যোগ্য অর্থ অপেক্ষা কম হলে তা এর আগে গৃহীত মার্জিন থেকে সমন্বয় করা হবে। সমন্বয়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে ব্যাংক তা প্রদান করতে বাধ্য থাকবে। প্রাথমিকভাবে রেপোর মেয়াদ ২৮ দিন হলেও তহবিল ব্যবহারের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে তা সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত ঘূর্ণমান রাখা যাবে। এরূপ রেপোর জন্য কোনো অকশনের প্রয়োজন হবে না এবং সুদের হার হবে ৬ শতাংশ।

তারল্য সুবিধা গ্রহণের অর্থের পরিমাণ উল্লেখপূর্বক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ও সদ্য খোলা বিও হিসাবের প্রমাণপত্রসহ মহাব্যবস্থাপক, ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করতে হবে। প্রদানযোগ্য তারল্য সুবিধার পরিমাণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। পুনর্বিবেচনার জন্য কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ রেপো নবায়নের প্রয়োজন হলে তহবিল ব্যবহারের প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্টের হিসাবসহ মহাব্যবস্থাপক, ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পাঁচ কার্যদিবস আগে আবেদন করতে হবে। সার্কুলার জারির তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন দাখিল করতে হবে এবং বাংলাদেশে প্রচলিত সংশ্লিষ্ট আইন ও সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারি করা অন্যান্য নির্দেশনার পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা