kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জি কে শামীম ও ফিরোজ ১০ দিনের রিমান্ডে

খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জি কে শামীম ও ফিরোজ ১০ দিনের রিমান্ডে

টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা জি কে শামীমকে ১০ দিনের রিমান্ডে (জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজত) পেয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার বিকেলে গুলশানের নিকেতন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করার পর গতকাল শনিবার দুপুরে তাঁকে গুলশান থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করে র্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে র্যাব অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে তিনটি মামলা করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে ১৪ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে সাত দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গতকাল রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন পার হয়েছে। খালেদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে গুলশান ও মতিঝিল থানায়।

এ ছাড়া কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে গতকাল আদালতে পাঠিয়ে ২০ দিনের রিমান্ড চায় ধানমণ্ডি থানার পুলিশ। আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গুলশান থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জি কে শামীমের বিরুদ্ধে র্যাবের পক্ষ থেকে মাদক, মানি লন্ডারিং ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি হিসেবে জি কে শামীমসহ গ্রেপ্তার হওয়া আটজনকে রিমান্ডে চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও তাঁর সাত বডিগার্ডকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে র্যাব।

গত শুক্রবার বিকেলে গুলশানের নিকেতন এলাকায় শামীমের অফিসে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে র্যাব। অভিযানে নগদ এক কোটি ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ১৬৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের এফডিআর (স্থায়ী আমানত) পাওয়া যায়, যার মধ্যে তাঁর মায়ের নামে ১৪০ কোটি আর নিজের নামে ২৫ কোটি টাকার। পাওয়া যায় মার্কিন ডলার, মাদকদ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র।

শফিকুল আলম ফিরোজের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তার শুনানি শেষে অস্ত্র মামলায় পাঁচ দিন এবং মাদক আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শফিকুল আলম ফিরোজকে অবৈধ অস্ত্র ও গন্ধহীন হলুদ রঙের ইয়াবা বড়িসহ গত শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে র্যাব।

রিমান্ডের আবেদনে জানানো হয়, শফিকুল আলম ফিরোজ প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ক্রীড়াচক্রের কর্মকাণ্ডের আড়ালে অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপও চলে আসছিল। জব্দ করা আগ্নেয়াস্ত্রটি দিয়ে তিনি ভয় দেখাতেন।

ধানমণ্ডি থানার এসআই আশিকুর রহমান ও এসআই নূরুদ্দিনের দেওয়া এ প্রতিবেদনে ফিরোজকে দুটি মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়।

সাত দেহরক্ষীর চার দিন রিমান্ড : অস্ত্র আইনের মামলায় জি কে শামীমের সাত দেহরক্ষীকে চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় জি কে শামীম ও তাঁর দেহরক্ষীদের আদালতে হাজির করে গুলশান থানার পুলিশ। দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আমিনুল ইসলাম জি কে শামীমের জন্য প্রতিটি মামলায় সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। আর সাত দেহরক্ষীর প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানান। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার অস্ত্র মামলায় জি কে শামীমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই মামলায় সাত দেহরক্ষীর চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

দেহরক্ষীরা হলেন দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।

আসামিপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। আইনজীবীরা দাবি করেন, অস্ত্র মামলা দায়ের সঠিক হয়নি। আইনের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এজাহারে। অস্ত্রের অপব্যবহার করা হয়েছে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যও এজাহারে নেই।

রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি আজাদ রহমান ও হেমায়েত উদ্দিন শুনানি করেন। তাঁরা বলেন, একচ্ছত্রভাবে জি কে শামীম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজ ভাগিয়ে নেন এসব অস্ত্র ব্যবহার করে। একজন মানুষের অস্ত্রধারী এত দেহরক্ষী থাকার নজির এ দেশের কোনো মন্ত্রীরও নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা