kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইইউ ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তাগিদ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সব ব্যবস্থা কাজে লাগান

মেহেদী হাসান   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সব ব্যবস্থা কাজে লাগান

মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) মিয়ানমারের বাণিজ্য সুবিধার যৌক্তিকতার ব্যাপারে ইইউ এখনো তদন্ত শুরু না করায় হতাশা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইপি)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ফ্রান্সের স্ট্রসবার্গে প্লেনারি অধিবেশনে ‘মিয়ানমার, বিশেষ করে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনা শেষে গৃহীত প্রস্তাবে ওই হতাশা স্থান পায়। গৃহীত ১৫ দফা প্রস্তাবের একটি অনুচ্ছেদে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট মিয়ানমার সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ ব্যবস্থার আওতায় মিয়ানমার ইইউয়ে যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) পাচ্ছে তার মৌলিক শর্ত হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার। ইইউয়ের নির্বাহী বিভাগ ইউরোপীয় কমিশন মিয়ানমারের জিএসপি পাওয়ার যৌক্তিকতা তদন্ত করবে বলে পার্লামেন্টে গৃহীত প্রস্তাবে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচনা পর্বে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা (এমইপি) মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তাঁরা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে বাণিজ্যসহ সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা কাজে লাগাতে ইউরোপীয় কমিশন এবং ইইউর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানান। বিশেষ করে, ‘জেনোসাইড’, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ গুরুতর সব অপরাধ সংঘটনের অভিযোগের বৈশ্বিক জবাবদিহির উদ্যোগকে সমর্থন করতে ইইউ, এর সদস্য ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এমইপিরা।

ইউরোপীয় কমিশনের কমিশনার ম্যারিন থাইসেন বলেছেন, রাখাইনে ভয়ংকর ঘটনাগুলোর পর গত দুই বছরে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। মিয়ানমার থেকে উত্খাত হয়ে কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ১০ লাখেরও বেশি। এটি এখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরণার্থী শিবির। তিনি বলেন, আশ্রয় শিবিরের ভেতর পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও উগ্রবাদের আশঙ্কা বাড়ছে। প্রত্যাবাসন শুরু করার উদ্যোগ দুই দফায় ব্যর্থ হওয়ার পর বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

ম্যারিন থাইসেন বলেন, মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় একজন রোহিঙ্গাও ফিরতে রাজি হয়নি। রোহিঙ্গা পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রভাব পড়ছে। ইইউ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। এ জন্য মিয়ানমারকে তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, ইবিএসহ দ্বিপক্ষীয় সব ফোরামে ইইউ মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানাচ্ছে। একইভাবে মিয়ানমারের অপরাধীদের জবাবদিহির উদ্যোগকেও ইইউ সমর্থন করছে।

ওই কমিশনার বলেন, ইইউ এরই মধ্যে মিয়ানমারের ১৪ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। আগামী দিনেও এ বিষয়টি পর্যালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দুর্দশা কমাতে ইইউ কাজ করবে।

ইপিতে গৃহীত প্রস্তাবে জাতিসংঘের স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন, বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসার পাশাপাশি এ দেশে তাদের শিক্ষার পূর্ণ সুযোগ, চলাফেরার সুযোগ দেওয়া এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান রয়েছে ওই প্রস্তাবে।

এমইপি রাইসজার্ড করোনেস্কি তাঁর বক্তব্যে প্রায় এক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা তুলে ধরে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব প্রতিবেশীদের ওপর পড়বে। এমইপি হেইদি হাওতালা বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখনই সময়। এমইপি নিনা জিল মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে ইইউর আলোচনার ওপর জোর দেন। এমইপি উরমাস পায়েট বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সরকারের দায়মুক্তি এখনো অব্যাহত আছে। তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বাণিজ্য সম্পর্ক কাটছাঁটসহ সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা কাজে লাগাতে হবে। এমইপি মারিসা মাটিয়াস বলেন, মিয়ানমার বাহিনীর নিপীড়ন থামানোর উদ্যোগ নিতে হবে। মিয়ানমার বাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এমইপি টমাস ডেচোভেস্কি বলেন, মিয়ানমারে অপরাধের তদন্ত ও বিচার করে ইইউকে ‘বিশ্বের ইঞ্জিন’ হওয়ার বিষয়টি বাস্তবে প্রমাণ করতে হবে। এমইপি ভেভিড লেগা বলেন, মিয়ানমার চোখ বন্ধ করে আছে, অপরাধের কথা স্বীকারই করছে না। এমইপি মারিয়া এরিনা মিয়ানমারে চলমান জেনোসাইডের কথা উল্লেখ করে ওই দেশটির সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য সম্পর্ক কাটছাঁট করার তাগিদ দেন। এমইপি ফিল বেনিয়ন রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করার পাশাপাশি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা