kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

‘রাজহংস’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

বিমান বাংলাদেশে যেতে হবে সরকারি কর্মকর্তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিমান বাংলাদেশে যেতে হবে সরকারি কর্মকর্তাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশের চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করেন। এরপর বিমানটির ভেতরে ঘুরে দেখেন তিনি। ছবি : পিআইডি

আকাশপথে চলাচলে যেসব রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট আছে সেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইনসে ভ্রমণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘এখন বিমান বাংলাদেশে উঠলেই গর্বে বুক ভরে যায়। আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সরকারি অফিসাররা যে যেখানেই যান, বিমান বাংলাদেশেই যেতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ভিভিআইপি টার্মিনালে বিমান বাংলাদেশের চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ড্রিমলাইনারের নাম আমি দিয়েছি, যাতে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে সবাই পরিচিত হতে পারেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে বাংলাদেশ। পৃথিবীর বহু দেশ দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও তাদের মূল্যস্ফীতি বেশি। আমরা প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ধরে রাখতে পেরেছি। প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগসহ আমাদের অনেক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার পরও আমরা  আমাদের দেশে চমৎকার একটা পরিবেশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুটি কার্গো বিমান কিনব, কার্গো ভিলেজ করে দেব। রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সব পদক্ষেপ নেব। বাংলাদেশকে উন্নত দেশ করতে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী, বরিশালসহ সব বিমানবন্দর আরো উন্নত করার কাজ করছি।’

আরো উড়োজাহাজ কেনার আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তিনটি ৭৭৭-৩০০ ইআর বিমান এনেছি। ৭৮৭-৮ এনেছি চারটি। ড্যাশ বোম্বার্ডিয়ার আসছে আরো তিনটি। আমরা খবর পেয়েছি, বোয়িং আরো দুটি বিমান বিক্রি করবে। এখন পর্যন্ত কেউ অর্ডার দেয়নি। সুযোগটা আমরা নেব। আমাদের রিজার্ভ মানি যথেষ্ট ভালো অবস্থায় আছে। আমার মনে হয়, কোনো সমস্যা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘এত কষ্ট করে যে বিমান কিনে দিয়েছি, সেটার যাতে যত্ন হয়, নষ্ট না হয় তা আন্তরিকতা দিয়ে দেখতে হবে। যাত্রীসেবার বিষয়টিও সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে একটা সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারি। লন্ডনে বিমানের আরো দুটি স্লট নেওয়ার চেষ্টা করছি। আর বোয়িং যদি আমেরিকায় না যায় এটা তাদেরই মান-সম্মানের ব্যাপার। এখানে উপস্থিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিষয়টি দেখবেন।’

এদিকে ফিতা কেটে উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ এই ড্রিমলাইনারের অভ্যন্তরে ঘুরে দেখেন এবং বিমানের পাইলট ও অন্য ক্রুদের সঙ্গে কথা বলেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানের বহরে চতুর্থ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার যুক্ত হয়। এটি জাতীয় পতাকাবাহী ‘বিমানের’ বহরে যুক্ত হওয়া ১৬তম উড়োজাহাজ। বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বিমান কারখানা থেকে ওই দিনই বিকেলে সরাসরি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

গত বছরের আগস্ট ও ডিসেম্বর মাসে প্রথম ও দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘আকাশ বীণা’ ও ‘হংসবলাকা’ ঢাকায় এসে পৌঁছে। গত জুলাই মাসে তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ ঢাকায় অবতরণ করে।

বিমানের একটি সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড্রিমলাইনারগুলোর নাম রাখেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কম্পানির ১০টি নতুন বিমান কেনার জন্য ২১০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী বোয়িং এরই মধ্যে চারটি ৭৭৭-৩০০ইআর, দুটি ৭৩৭-৮০০ এবং চারটি ড্রিমলাইনার বিমান হস্তান্তর করেছে। ২৭১ আসনের ‘রাজহংস’ বোয়িং ৭৮৭-৮ অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ জ্বালানিসাশ্রয়ী হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। বিমানটি ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল বেগে একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। এটি ৪৩ হাজার ফুট উচ্চতায় ওয়াইফাই পরিষেবা দেবে। এর ফলে যাত্রীরা আকাশ থেকে ইন্টারনেটের সাহায্যে বিশ্বের যেকোনো স্থানে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। সিভিল এভিয়েশনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ড্রিমলাইনারটি শিগগিরই ফ্লাইট শুরু করবে বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা