kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

আবার আফগান পরীক্ষায় সাকিবরা

নোমান মোহাম্মদ   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবার আফগান পরীক্ষায় সাকিবরা

ত্রিদেশীয় সিরিজে ফেভারিট কারা? মাস চারেক আগে এ প্রশ্নের উত্তর হতো এক রকম; এখন অন্য রকম। ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার প্রকাশ্য প্রত্যাশা নিয়ে যায় যে দল, যাদের গোপন প্রত্যাশা থাকে এমনকি শিরোপা জয়ের—সেই বাংলাদেশের সামনে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে কোনো প্রতিপক্ষ নাকি! হলোই বা এটি টি-টোয়েন্টি! না হয় এই ফরম্যাটে গত বছর আফগানদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার স্মৃতিতে ধুলোর আস্তরণ পড়েনি!

কিন্তু বিশ্বকাপ প্রত্যাশায় হোঁচট, শ্রীলঙ্কা সফরে বিপর্যয় আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্টে মহা বিপর্যয়ের পর সমীকরণ গেছে পাল্টে। ত্রিদেশীয় সিরিজে ফেভারিটের তকমা সেঁটে আছে এখন আফগানদের গায়ে। বাংলাদেশ তাতে আন্ডারডগ মাত্র! টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে রোমাঞ্চকর জয়েও সে অবস্থা বদলাচ্ছে না।

আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে কিছুটা পিছিয়ে থেকেই তাই মাঠে নামবে সাকিব আল হাসানের দল।

তাও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি জেতায় রক্ষা। নইলে তো ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ২০ মিটার পিছিয়ে শুরু করার অবস্থা হতো বাংলাদেশের। রশিদ খানের দলের বিপক্ষে জয়ের আশা করার মতো সাহসও থাকত না হয়তো।

সেই সাহস কিছুটা ফিরছে আফিফ হোসেনের দুঃসাহসী ব্যাটিংয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১৪৫ রানের লক্ষ্যে নেমে হারের পথেই ছিল বাংলাদেশ। ৬০ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে। এরপর ক্রিজে গিয়ে আফিফের ব্যাটে তারুণ্যের দুর্বিনীত ঝংকার। সাহসের উদ্ধত প্রকাশে ২৬ বলে ৫২ রানের ইনিংস। এ অবিশ্বাস্য ইনিংসেই মুখরক্ষা বাংলাদেশের। নইলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আজ মাঠে নামার আগে মুখ দেখানোর জো থাকত না যে!

তিন ফরম্যাটের মধ্যে আফগানরা সবচেয়ে দুর্বল টেস্টে। অথচ তাতেই বাংলাদেশকে নাকানি-চুবানি খাইয়েছে চট্টগ্রামে। সবচেয়ে শক্তিশালী যে টি-টোয়েন্টিতে, তা না বললেও চলছে। বিশেষত বোলিংয়ে রশিদ-নবী-মুজিবের স্পিন ত্রয়ী তো বিশ্ব ক্রিকেটেরই অন্যতম ভয়ংকর ত্রিফলা। টেস্টে ঘূর্ণির জবাব ঘূর্ণিতে দেওয়ার পরিকল্পনায় সফল হয়নি বাংলাদেশ। আজ স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের সামনে থাকছে পুরনো চ্যালেঞ্জই। তাতে যদি টপ-মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তিতে আবার তাকিয়ে থাকতে হয় আট নম্বর ব্যাটসম্যানের দিকে—তাহলে হাসিমুখে ম্যাচ শেষ করার সম্ভাবনা সামান্যই।

বাংলাদেশ দল তা জানে। আর আফগান বোলারদের সামলানোর ছক কাটা আছে বলে কাল অনুশীলনের ফাঁকে জানান ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি, ‘ওদের সম্পর্কে আমাদের ভালো ধারণা রয়েছে। আফগান স্পিনাররা খুব ভালো। পাশাপাশি দারুণ কিছু পেসার রয়েছে। বিশ্বমানের ওই বোলিং লাইন মাথায় রেখেই আমরা প্রস্তুতি নেব।’ নিজ দলের ব্যাটসম্যানদের প্রতি আস্থার ঘোষণাও দেন তিনি, ‘ওদের সামলানোর জন্য আমাদের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। অনেক ম্যাচ ওদের বিপক্ষে খেলেছি; সাফল্যও পেয়েছি। আফগান বোলারদের সামলানোর মতো ব্যাটসম্যান আমাদের আছে। শুধু নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থেকে নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস রাখতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে সিঙ্গেলস নেওয়া।’ যে জায়গায় বাংলাদেশ মোটেই সড়গড় নয়।

সড়গড় নয় টি-টোয়েন্টির অনেক জায়গাতেই। সে কারণেই তো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পা হড়কানোর দশা হয়েছিল। তাতে নিজেদের ব্যর্থতা আড়ালের উপায় নেই; পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দেন ম্যাকেঞ্জি, ‘ওরা বাংলাদেশ সফরে এসেছে সাফল্য-ক্ষুধা নিয়ে। জিম্বাবুয়ে বোর্ড ও আইসিসির মধ্যে যে টানাপড়েন, সেটি ওদের তাতিয়ে তুলেছে। আমাদের ওপর তাই ওরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। খুব ভালো কিছু বাউন্সার দেয়; যেমন মুশফিকের আউট হওয়ার বলটিই।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে পেসের চেয়ে স্পিনটাই বড় দুশ্চিন্তা। নিজেদের স্কোয়াডে কাল অবশ্য বাড়তি পেসার আবু হায়দারকে যোগ করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আফগান স্পিন। তাতে কুঁকড়ে জয়ের লক্ষ্য থেকে সরছেন না ব্যাটিং কোচ, ‘হারের চিন্তা করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খেলছে এবং এখানে আমাদের রেকর্ড খুবই ভালো। পরিসংখ্যান দেখুন। আমার বিশ্বাস, প্রতিটি ম্যাচেই জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলাম।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার অনুমোদন ম্যাকেঞ্জির, ‘আমার কাচে মনে হয়, কখনো কখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শত্রু বাংলাদেশই। কারণ আমরা নিজেদের ওপর অনেক চাপ দিই। দর্শক থেকে গণমাধ্যম সবারই উচিত ক্রিকেটারদের ওপর বিশ্বাস রাখা। আমরা যদি কাল (আজ) হেরেও যাই, তবু পরের ম্যাচে জিতব বলে দলের ওপর আস্থা রাখতে হবে। আমরা হারের জন্য খেলি না। কোনো রকম ভয় ছাড়া শতভাগ ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব আমরা।’

ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে দ্বিমতের উপায় নেই। কিন্তু দল হারের মধ্যে থাকলে ভয় হামাগুড়ি দিয়ে চলে আসবে, চাপ আসবে দৌড়ে দৌড়ে—সে বাস্তবতাও বদলাচ্ছে না। টুর্নামেন্টে ফেভারিট না হলেও, আজকের দ্বৈরথে আন্ডারডগ হলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাই জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা