kalerkantho

রবিবার। ১০ নভেম্বর ২০১৯। ২৫ কার্তিক ১৪২৬। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খেলাপি ঋণ কিনতে এএমসিকে অর্থ দিতে আগ্রহী এডিবি

সজীব হোম রায়   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খেলাপি ঋণ কিনতে এএমসিকে অর্থ দিতে আগ্রহী এডিবি

অনাদায়ী খেলাপি ঋণ উদ্ধারে সরকার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি (এএমসি) গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। এরই মধ্যে এ কম্পানি গঠনে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ কিনতে যত টাকা লাগে তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিকে দিতে চায় এডিবি। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সংস্থার পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি। তবে বিশ্বের অন্য দুই ক্ষমতাধর সংস্থা বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সংস্থা (আইএমএফ) খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠনের ঘোর বিরোধী। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠনের প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটির প্রধান অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. শুকুর আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা খেলাপি ঋণগুলো উদ্ধার করতে চাই আমরা। এ জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠন। আমরা সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। কোন দেশে কি হলো তা নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কিভাবে টাকা উদ্ধার করা যায় তা নিয়েই আমরা কাজ করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এডিবি এতে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা এ নিয়ে কথাবার্তা চালাচ্ছি।’

সূত্র মতে, দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশি। এ টাকা উদ্ধারে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠনের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি এসংক্রান্ত আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিগুলো ব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। প্রতিটি ব্যাংক পৃথকভাবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, ব্যাংক যে খেলাপি ঋণগুলো আদায়ে ব্যর্থ হয় সেগুলো কম্পানি কিনে নেবে। তারপর কম্পানি সেই খেলাপি ঋণ আদায়ে সোচ্চার হবে। এ ক্ষেত্রে কম্পানিগুলো আদায়কৃত খেলাপি ঋণের ২০, ৩০ বা ৫০ শতাংশ অর্থ নিয়ে নেয়। ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার প্রেক্ষাপট সামনে রেখে বাংলাদেশেও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠনের পথে হাঁটছে সরকার। এতে বিশেষভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এডিবি।

অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠনে ‘সিকিউরিজেশন অব নন পারফরমিং লোন’ নামে পৃথক একটি আইন করা হবে। এ আইনের ওপর ভিত্তি করে একটি পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি করা হবে। এ কম্পানিকে প্রাথমিকভাবে কিছু টাকা দেওয়া হবে। কারণ, এ টাকা দিয়েই ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কেনা হবে। এই টাকার পুরোটাই জোগান দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এডিবি। এ ব্যাপারে এডিবির সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সংস্থা (আইএমএফ) ও বিশ্ব ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠনের পক্ষে না। সংস্থা দুটি বলেছে, খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠনে সে রকম সুফল পায়নি। তাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর সুফল কতটুকু পাওয়া যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দুটি সংস্থাই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি গঠন না করে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোকে আরো সক্রিয় হওয়ার কথা বলেছে। পাশাপাশি ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটরিং আরো বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক। তবে সরকার এ দুটি সংস্থার সঙ্গে একমত নয়। বিশেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করছে, দীর্ঘদিন আদায় না হওয়া খেলাপি ঋণ যেভাবেই হোক আদায় করা উচিত। এ ক্ষেত্রে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর এ জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার শিউলে চলতি মাসের ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে চাইছে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির প্রতিনিধিরা। আর এটি হলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এতে অংশগ্রহণ করবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা