kalerkantho

বিশেষজ্ঞ মত

নিবিড় তদারকি ছাড়া অপচয় রোধ করা যাবে না

ড. সামছুল হক

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নিবিড় তদারকি ছাড়া অপচয় রোধ করা যাবে না

আমাদের দেশে মহাসড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন ব্যয় বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চেয়ে বাংলাদেশে এই ব্যয় বেশি বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকও তা স্বীকার করেছে। আসলে আমাদের দেশে অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প নেওয়া হয় সঠিক সমীক্ষা ছাড়াই। দেখা যাচ্ছে, নতুন মহাসড়ক নির্মাণ করার পর মেরামতেও প্রচুর খরচ করতে হচ্ছে প্রতি অর্থবছরে। তার পরও মহাসড়ক অনুপযোগী থাকছে কিছু দিন পর পরই।

বিটুমিনের তৈরি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। এ পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হয় না স্থায়ীভাবে। আবার কোথাও কংক্রিটের অংশ (রিজিড পেভমেন্ট) নির্মাণ করার দরকার হলেও তা করা হচ্ছে না। মহাসড়কে ছোট গর্ত বড় হতেই থাকে। বিশ্বের উন্নত দেশে মহাসড়ক বা সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা জনবল থাকে। তাদের মজুরি নির্ধারিত থাকে। এই নির্ধারিত জনবল তাদের আয়ের প্রয়োজনেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। আর আমাদের দেশে মহাসড়ক বলতে যা বোঝায় তা এখনো সে হারে বাড়েনি। মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নীতিমালার খসড়া করা হয়েছে বহু বছর আগে। তা চূড়ান্ত করা হয়নি। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের তহবিল সংগ্রহের জন্য আলাদা বোর্ড করা হয়েছে। এ বোর্ডেরও কোনো কর্মকাণ্ড আমরা দেখছি না।

সরকার আইন করে বলেছিল, মহাসড়কে ২২ টনের বেশি ওজনবাহী গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। তা মানা তো হচ্ছেই না; বরং এই আইন, নীতি না মানার জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা হয়েছিল। এমন অবস্থায় সরকার কঠোর অবস্থা থেকে সরে আসে। আসলে অতিরিক্ত ওজনের কারণে মহাসড়ক নির্ধারণ করে দেওয়া জীবন পর্যন্ত টিকতে দিচ্ছে না। বিভিন্ন দেশে না চললেও আমাদের দেশে বিভিন্ন দেশের বড় পণ্যবাহী গাড়িগুলো চালানো হচ্ছে অতিরিক্ত ওজনসহ। এটা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

প্রকৌশলী ও ঠিকাদাররা গর্ত বড় হলে মেয়াদি ও বড় প্রকল্প নেওয়ায় যে মত্ত থাকেন তার মাসুল দিচ্ছে হচ্ছে সরকার ও সাধারণ জনগণ। আমি বলব, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নেওয়ায় মহাসড়ক স্থানে স্থানে জীবন হারাচ্ছে। মেরামতের জন্য প্রকল্প নেওয়া হলে তার বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নের পরও ঠিকাদারদের দায়িত্ব নিয়মিত তদারকির মধ্যে আনতে হবে। নিবিড় তদারকি ছাড়া অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে না। ভাঙতে হবে সিন্ডিকেট। 

 

মন্তব্য