kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘ভিক্টর’ নামে চলছে নিষিদ্ধ ‘সুপ্রভাত’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘ভিক্টর’ নামে চলছে নিষিদ্ধ ‘সুপ্রভাত’

রুট পারমিট বন্ধ থাকা সুপ্রভাত পরিবহনের বাসগুলো রং ও নাম বদলে ভিক্টর পরিবহনের নামে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার রুটে চালানো হচ্ছে। লাইসেন্সহীন চালক দিয়ে ফিটনেস ছাড়াই বেশির ভাগ বাস ভিক্টরের বহরে যোগ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সুপ্রভাত পরিবহনের বাসগুলোর মূল পরিচালনাকারী আশরাফ উদ্দিন ছয় দিন আগে ভিক্টর পরিবহন পরিচালনার মূল হাল ধরেছেন। তিনিই নেপথ্যে থেকে ভিক্টরের নামে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসগুলো রাস্তায় নামাচ্ছেন।

রাজধানীর সদরঘাট থেকে সাভারের বাইপাইল পর্যন্ত ব্যস্ততম রুটে চলতে গিয়ে সুপ্রভাত পরিবহনের মতোই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে ভিক্টর পরিবহনের বাসগুলো। চাকায় পিষে মারছে নিরপরাধ মানুষকে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটালেও গোপন সমঝোতা থাকায় পুলিশ এই কম্পানির বাসে অভিযান চালাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীর তুরাগ এলাকায় ভিক্টর পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় গত বৃহস্পতিবার নিহত হন সংগীত পরিচালক পারভেজ রব। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবহনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনা মিটমাট করতে পারভেজ রবের বাসায় সদলবলে হাজির হয় গত শনিবার। পরিবার সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় তারা চিৎকার-চেঁচামেচি ও হুমকি দিয়ে চলে আসে। এরপর ওই দিন রাতেই ভিক্টর পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয় নিহত পারভেজ রবের ছেলে ইয়াসির আলভী রব ও তাঁর বন্ধু মেহেদী হাসান ছোটনকে। এই ঘটনায় আলভীর কোমর ভেঙে গেছে। তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু মেহেদী বাঁচতে পারেননি। ঘাতক ভিক্টর পরিবহন তাঁর প্রাণপ্রদীপ চিরতরে নিভিয়ে দিয়েছে।

সুপ্রভাত স্পেশাল পরিবহনের বাসের চাপায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর প্রগতি সরণিতে প্রাণ ঝরে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীর। এরপর ব্যাপক জনবিক্ষোভের মুখে ওই পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করা হয়। ওই ঘাতক বাসের (নম্বর ঢাকা মেট্রো ব-১১-৪১৩৫) ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩১ আগস্ট। এখন ওই ঘাতক বাসটিও ভিক্টর পরিবহনের নামে সড়কে নামানোর পাঁয়তারা চলছে।

ঢাকা মহানগরীর সদরঘাট থেকে গাজীপুরের গাজীপুরা পর্যন্ত রুটে চলাচল করত এই পরিবহন। সুপ্রভাত পরিবহনের পাশাপাশি দুই বছর আগে ‘আকাশ সুপ্রভাত’ নামেও বাস চালাত এই কম্পানি। পৃথক দুই নামে এই কম্পানির চার শর মতো বাস আছে। এসব বাসের বড় অংশই আবার লক্কড়-ঝক্কড়, যাত্রী নিয়ে চলাচলের উপযোগী নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রভাত পরিবহনের বাসগুলোর বেশির ভাগই এখন নাম পাল্টে হয়ে গেছে ভিক্টর পরিবহন। এই পরিবহন পরিচালনা করতেন মোটর পার্টস ব্যবসায়ী আশরাফ উদ্দিন। ভিক্টর পরিবহনে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবার তিনি ভিক্টর পরিবহন পরিচালনার দায়িত্বে বসে গেছেন। সুপ্রভাত পরিবহন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অধীনে ছিল। গতকাল সোমবার বারবার চেষ্টা করেও আশরাফ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না।’

পথে নামলেই ভিক্টর পরিবহনের বাসগুলো যেন দানবের মতো পথচারী ও আশপাশের অন্যান্য যানবাহনের ওপর হামলে পড়তে চায়। আর বাসগুলোকে একনজর দেখলেই এগুলোর চালক ও সহকারীর বেপরোয়া আচরণের প্রমাণ মেলে। প্রায় প্রতিটি বাসের সামনের গ্লাস ভাঙা, জানালা নেই, চলতে চলতে থেমে যায়।

গত রবিবার মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ভিক্টর পরিবহনের এমন একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-১১১৯) সহকারীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে হেসে এড়িয়ে যেতে চায়। এমন লক্কড়-ঝক্কড় বাস চলতে ট্রাফিক পুলিশ বাধা দেয় কি না জানতে চাইলে বাবুল হোসেন নামের ওই পরিবহন শ্রমিকের উত্তর, ‘আমাদের গাড়ির ফিটনেস লাগে না।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা