kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

৬৬ মিনিটেই আফগান ইতিহাস

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৬৬ মিনিটেই আফগান ইতিহাস

বৃষ্টিতে মগ ভর্তি চা কিংবা কফি হাতে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা বেশ উপভোগ্য ব্যাপারই। কিন্তু চট্টগ্রাম টেস্টের পঞ্চম দিনের সকালে একই রকম ছবিতে রশিদ খানের চোখে-মুখে বরং ‘দুর্ভোগ’ই ফুটে উঠছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট জয়টি যে প্রকৃতির ভোগেই চলে যাচ্ছিল প্রায়!

তবু চাইছিলেন যেন কিছুক্ষণ হলেও খেলা হয়। কিছুক্ষণ মানে কতক্ষণ? আফগানিস্তান দলের সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার সৈয়দ হজরত সাদাত জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের প্রেস বক্সে এসে জানিয়ে গেলেন সেটিই, ‘এক ঘণ্টা।’ শেষ দিনের খেলা বাংলাদেশ শুরু করেছিল ৬ উইকেটে ১৩৬ রান নিয়ে।

বাকি ৪ উইকেট নিতে দুই দফায় আফগানদের সময়ও লাগল এর কাছাকাছিই। প্রথম দফায় দুপুর ১টায় খেলা শুরুর পর মাত্র ৭ মিনিটই ব্যাটিং করতে পেরেছিল স্বাগতিকরা। বৃষ্টি কমার পরে স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে আরো এক ঘণ্টা ১০ মিনিট খেলা হওয়ার কথা, কিন্তু ৫৯ মিনিটেই আয়োজকদের ইনিংস ১৭৩ রানে শেষ করে দেয় তারা।

সব মিলিয়ে মাত্র ৬৬ মিনিটেই ২২৪ রানের বিশাল জয়ে রঙিন আফগানরা। মাত্র তিন টেস্ট খেলেই দ্বিতীয় জয় তাদের। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এই কৃতিত্ব আর আছে শুধু অস্ট্রেলিয়ারই। তবে এক ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজেই প্রতিপক্ষের টুঁটি চেপে ধরা রশিদের কীর্তি অভূতপূর্বই।

প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া এই লেগ স্পিনার ব্যাট হাতেও করেছিলেন ফিফটি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৯ রান খরচায় নিলেন আরো ৬ উইকেট। ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ফিফটি, অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টেই এ রকম পারফরম্যান্সের উদাহরণ নেই আর কারোরই।

অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকেই তাঁর জয় নিয়ে অবশ্য প্রকৃতি কম লুকোচুরি খেলেনি। জয় থেকে যখন মাত্র ১ উইকেটের দূরত্ব, তখনো নামে বৃষ্টি। এর ঠিক আগেই সৌম্য সরকারের ক্যাচ পড়ে মিড অফে, তাতে রশিদেরও মাথায় হাত। থাবা বসাতে শুরু করেও বৃষ্টি মাত্র কয়েক মুহূর্তের স্থায়ী হওয়ায় হাঁপ ছেড়ে বাঁচে আফগানরা। সেই সৌম্যকে ফিরিয়েই ঐতিহাসিক এক জয়ের ভোঁ-দৌড় রশিদের।

এই লেগির বল ডিফেন্স করতে গিয়ে শর্ট লেগে ইব্রাহিম জাদরানের ক্যাচ হন সৌম্য (১৫)। অথচ এর আগে সকাল থেকে বৃষ্টি যেভাবে ঝরছিল, তাতে এই শিরোনামই যেন তৈরি হতে বসেছিল যে, ‘হেরেও হারল না বাংলাদেশ’। শেষ দিনে জেতার জন্য ২৬২ রান দরকার ছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু দুপুর ১টায় যখন আবার খেলা শুরু হয়, তখন আর রানের হিসাব নিয়ে কোনো আগ্রহই অবশিষ্ট নেই।

তখন সেটি শুধুই হয়ে উঠেছে টিকে থাকার লড়াই। সে লড়াইয়ের প্রথম পর্বে মাত্র ১৩ বল খেলতে পারে সাকিব আল হাসান ও সৌম্যর জুটি। তুমুল বৃষ্টিতে খেলা আর হওয়া সম্ভব বলে মনে না হলেও শেষ পর্যন্ত হলো। নির্ধারিত হলো যে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া খেলা চলবে ৭০ মিনিট। এই এক ঘণ্টা ১০ মিনিটে সর্বোচ্চ খেলা হওয়া সম্ভব ছিল ১৯ ওভারের মতো।

কিন্তু ১১ মিনিট বাকি থাকতে ১৫.১ ওভারেই বাংলাদেশের ব্যর্থতার কফিনে ঠোকা হয়ে যায় শেষ পেরেক। যেটি মারার সূচনা আবার অধিনায়ক সাকিবকে দিয়েই। দ্বিতীয় দফায় খেলার শুরুর পর প্রথম বলেই চায়নাম্যান জহীর খানকে চালাতে যান তিনি। বাইরের বলে কাট করতে গিয়ে সাকিব (৪৪) হন কট বিহাইন্ড।

অধিনায়কের এমন শটে টেল এন্ডারদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক ছিল না। মেহেদী হাসান মিরাজকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে এরপর জয়ের তুলিতে শেষ ছোঁয়া দেওয়ার শুরু রশিদের। নিশ্চিত আউটেও মিরাজ রিভিউ নিয়ে ফেলায় পরে তাই তাইজুল ইসলাম আউট না হয়েও আউট। বল তাঁর ব্যাটের ভেতরের কানা নিয়ে এর পরই প্যাডে লেগেছিল।

এই ভুলের দায় মিরাজের ওপরই চাপালেন সাকিব। তবে দিনের শেষে সেটি নিয়ে বিন্দুমাত্র আফসোস করার কিছু থাকার কথা নয় বাংলাদেশের। এই টেস্টে যা পারফরম্যান্স তাঁদের, তাতে প্রকৃতিও বোধ হয় চায়নি যে স্বাগতিকরা ম্যাচটি বাঁচিয়ে ফেলুক। তাই ১১ মিনিট ও ২০ বল বাকি থাকতেই হারের লজ্জায় বিলীন বাংলাদেশ।

জয়ের আলোয় আলোকিত আফগানিস্তান। জেতা ম্যাচ ড্র করার নিয়তি সম্ভবত প্রকৃতিও তাদের জন্য লিখতে চায়নি। তাহলে যে অবিচারই হতো তাঁদের প্রতি। সেটি যাতে না হয়, সে জন্য মাত্র এক ঘণ্টাই দরকার ছিল রশিদ খানের। লেগেছে এর চেয়ে মাত্র ৬ মিনিট বেশি!

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা