kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাতে নির্বাচন কমিশন ভবনে অগ্নিকাণ্ড

পুড়েছে ইভিএমসহ বেশ কিছু সামগ্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাতে নির্বাচন কমিশন ভবনে অগ্নিকাণ্ড

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ১২ তলা ভবনের বেইসমেন্টে গতকাল রবিবার রাত ১১টার দিকে আগুন লাগে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট। এই বেইসমেন্টেই ইভিএম, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী নানা গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী রয়েছে বলে জানা গেছে।

রাত দেড়টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তবে ইভিএমসহ বেশ কিছু সামগ্রী পুড়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আগুনের সূত্রপাত কী করে, তা তদন্ত না করে বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও ইসি কর্মকর্তারা।

ইসি কর্মকর্তারা তাত্ক্ষণিক দাবি করেছেন, আগুনে জাতীয় পরিচয়পত্র ডাটাবেইসের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অগ্নিকাণ্ডে কিছু ইভিএমের ক্ষতি হতে পারে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার কামরুল হাসান জানান, রাত ১১টা ৬ মিনিটে আগুনের সূত্রপাতের খবরে প্রথমে পাঁচটি ইউনিট গিয়ে নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে আরো সাতটি ইউনিট গিয়ে তাদের সঙ্গে অংশ নেয়। রাত ১২টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি আরো জানান, কিভাবে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন লাগার সময় ভেতরে কেউ ছিল না, বাইরে সিকিউরিটি গার্ড ছিল।

ইসি সচিব মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, মোট চার হাজার ৫০০ ইভিএম সংগ্রহ করা হয়েছে। কিছু ইভিএম সেখানে ছিল। তবে কতগুলো বেইসমেন্টে ছিল, তা নির্দিষ্ট করে তিনি বলতে পারেননি। তিনি জানান, এ ঘটনা তদন্তে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার সাইদুল ইসলাম বলেন, আশঙ্কা করছি ইভিএমের কিছু ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ বিষয়ে পরে জানাতে পারব। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। বড় ধরনের শঙ্কা করছি না আমরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।’

নির্বাচন ভবনের বেইসমেন্টে ‘ইভিএম সংরক্ষণে’র বিশেষ ব্যবস্থার গুদাম রয়েছে। ভবনের ১১ তলার জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেইস। ব্রিগেডিয়ার সাইদুল বলেন, ‘ভোটার ডাটাবেইসের কোনো ক্ষতি হবে না।’

অগ্নিকাণ্ডের ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে এনআইডি জিডি ও ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা নির্বাচন ভবনে উপস্থিত হন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারও মধ্যরাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রশিক্ষিত লোকবল কাজে নামে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. আনিসুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে চলে যাই। পুলিশ চারদিক থেকে ভবনটি ঘিরে ফেলে, যাতে কোনো কিছু চুরি না হতে পারে। এ ছাড়া আমরা ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করি।’

ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বেইসমেন্ট-১-এ আগুন লাগে। সেখানে সার্ভারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র রয়েছে। জায়গাটি খুবই প্রটেক্টেড। সেখানে মানুষের অবাধ যাতায়াত নেই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা