kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশন বসছে আজ

রোহিঙ্গা নিপীড়নের জবাবদিহি প্রসঙ্গ উঠছে প্রথম দিনই

মেহেদী হাসান   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা নিপীড়নের জবাবদিহি প্রসঙ্গ উঠছে প্রথম দিনই

বিশ্বে মানবাধিকারের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৪২তম অধিবেশন আজ সোমবার শুরু হচ্ছে জেনেভায়। রোহিঙ্গা নিপীড়নসহ মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহির লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক তদন্ত কাঠামোর প্রধান নিকোলাস কোমজিয়ান তাঁর প্রথম প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন অধিবেশনের প্রথম দিনই। আগামীকাল মঙ্গলবার ওই প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এ ছাড়া আগামী ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টার (বিশেষ দূত) ইয়াংহি লি ও জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক সত্যানুসন্ধানী মিশন তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে এবং এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

জানা গেছে, মিয়ানমার বাহিনীর জেনোসাইড, হত্যা, জাতিগত নির্মূল, নিপীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বাংলাদেশে রোহিঙ্গার ঢল নামার পর থেকে মানবাধিকার পরিষদ এই ইস্যুতে সরব রয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ছয়টি নিয়মিত অধিবেশনেই। এ ছাড়া একটি বিশেষ অধিবেশন হয়েছে রোহিঙ্গা নিপীড়নের পটভূমিতে। রোহিঙ্গা নিপীড়নের জবাবদিহির লক্ষ্যে বিশেষ কাঠামো, স্বাধীন আন্তর্জাতিক সত্যানুসন্ধানী মিশন গঠন এবং মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সব উদ্যোগ নিয়েছে মানবাধিকার পরিষদ। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মিয়ানমার ইস্যুতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। প্রস্তাবগুলোর অন্যতম হলো ভবিষ্যতে কোনো দিন উপযুক্ত কোনো আদালতে বিচারের জন্য রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য কাঠামো গঠন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মানবাধিকার পরিষদ ও সাধারণ পরিষদ বেশ কিছু উদ্যোগ নিলেও নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে এখনো ঐক্যবদ্ধ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। দৃশ্যত বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমত নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি স্থায়ী সদস্যের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে জিম্মি হয়ে আছে।

বাংলাদেশি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানবাধিকার পরিষদের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এবারও রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে। বিশেষ করে, মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় রোহিঙ্গারা যে ফিরতে রাজি হচ্ছে না এবং বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটে পড়েছে, তা তুলে ধরা হবে।

জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক সত্যানুসন্ধানী মিশন এবারের অধিবেশনে যে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে, তাতে মিয়ানমার বাহিনীর ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানানো হবে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাসহ সংখ্যালঘু বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর জেনোসাইড সংঘটনের লক্ষ্যে মিয়ানমার বাহিনীর ধারাবাহিক যৌন নিপীড়নের তথ্য-উপাত্তও থাকছে ওই প্রতিবেদনে।

নিকোলাস কোমজিয়ানের নেতৃত্বে মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কাঠামো অবশ্য তেমন অগ্রগতির তথ্য দিতে পারছে না। গত জুলাই মাসে দায়িত্ব নেওয়া কোমজিয়ান তাঁর প্রতিবেদনে তদন্ত কাঠামোর সামনের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরবেন।

জানা গেছে, মানবাধিকার পরিষদের ৪২তম অধিবেশন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এবারের অধিবেশনে মানবাধিকারবিষয়ক ৯০টিরও বেশি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। সেগুলোর মধ্যে একটি গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিবেদন। সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

আজ অধিবেশনের শুরুতেই মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের হাইকমিশনার মিশেল ব্লাশেলেত মানবাধিকার পরিষদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরবেন। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা পরিস্থিতিও তাঁর বক্তব্যে স্থান পেতে পারে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা