kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হারের আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা নাকি অন্য কিছু?

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হারের আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা নাকি অন্য কিছু?

এত খারাপের মধ্যে একটি ভালো ব্যাপারই আপাতত খুঁজে পাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। হাসতে হাসতেই বললেন, ‘ভালো ব্যাপার হলো, এই ম্যাচটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্যে পড়ছে না!’

যে চ্যাম্পিয়নশিপে নভেম্বরের ভারত সফর দিয়ে ঢুকছে বাংলাদেশ। তার আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে হারের শঙ্কায় কাঁপতে থাকা দলের অধিনায়ক এখান থেকেও ম্যাচ জেতার দুটি উপায়ই দেখছেন। অদৃষ্ট নয়তো আজ তাঁর ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে অবিশ্বাস্য কিছু।

কাল বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে দ্বিতীয় সম্ভাবনার কথা বলার আগে ঠিক করে জেনে নিলেন, ‘আর কত লাগে আমাদের?’

তাঁকে বলা হলো, ‘২৬২’।

এবারও মুখে হাসির ফোয়ারা ছুটিয়ে বললেন, ‘ওই তো দুটি সেঞ্চুরি লাগবে। না, না...একজন দেড় শ, আরেকজন ১২০ করলেই হয়ে যায়।’ হয়েছিল কার্ডিফেও। ২০১৭-র চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ২৬৫ রান তাড়ায় ৩৩ রানেই বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারানোর পর জয়ের আশার মরা গাঙে জোয়ারই বইয়ে দেয় সাকিব ও মাহমুদ উল্লাহর সেঞ্চুরি।

তবে এই টেস্টে সে রকম কিছুর আশা সম্ভবত করছেন না সাকিব নিজেও। আফগান স্পিনে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ অধিনায়ক তাই আরেকটি সম্ভাবনায়ও যেতে চাইলেন, ‘এখন বৃষ্টি যদি আমাদের বাঁচিয়ে দেয়!’

বৃষ্টি অবশ্য চার দিনেই হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা বিলীন করেছে। সকালে খেলা শুরু করতে তাই এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিলম্ব। দিনের খেলার আগাম সমাপ্তিও বৃষ্টির কারণেই। ৩৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ চতুর্থ দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ১৩৬ রান তুলে। লেগ স্পিনার রশিদ খান ও চায়নাম্যান জহীর খান মিলে যা করে যাচ্ছিলেন, তাতে দিনের শেষে সাকিবের ঠিকানাও সাজঘর হতে পারত। ১১ রানে সাকিবের ব্যাকফুট ড্রাইভে উঠে যাওয়া রিটার্ন ক্যাচ রশিদের হাতে লেগে ছিটকে যায়।

ওভাবে জীবন পাওয়া সাকিব ৩৯ রানে অপরাজিত। তাঁর সঙ্গী সৌম্য সরকার এখনো রানের খাতা খোলেননি। অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবীর বিপক্ষে ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন নিয়ে নামার চিন্তায় ব্যাটিং অর্ডারে ওপেনিং থেকে সরিয়ে সৌম্যকে নিয়ে আসা হয়েছে আট নম্বরে। তাঁর জায়গায় সাদমান ইসলামের সঙ্গে ওপেন করেন লিটন দাস। তিনে উঠিয়ে আনা হয় প্রথম ইনিংসে আটে ব্যাটিং করে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকা মোসাদ্দেক হোসেনকে। কিন্তু দুজনেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ। ষষ্ঠ ওভারেই লিটনের রিভার্স সুইপ খেলার চেষ্টায় সেটি স্পষ্ট।

জহীরের বলে কট বিহাইন্ডের আবেদনে ফিল্ড আম্পায়ার সাড়া দিলেও রিভিউ নিয়ে বাঁচা লিটন বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ব্যাটের কানায় লেগে একবার স্লিপে অল্পের জন্য ক্যাচ হওয়া থেকেও বেঁচে যান। সেই জহীরের বলেই এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়ে শেষ হয় লিটনের (৯) ইনিংস। একই বোলারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন মোসাদ্দেকও (১২)। চারে নামা মুশফিকুর রহিমকে বোকা বানিয়ে এরপর রশিদেরও ধ্বংসযজ্ঞের শুরু। তাঁর লেগ স্পিনে টার্ন করে বেরিয়ে যাবে ভেবে ডিফেন্স করতে গেলেও মুশফিকের (২৩) ব্যাট ফাঁকি দিয়ে বল আঘাত হানে প্যাডে। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা বলে মমিনুল হককেও (৩) এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেছেন আফগান অধিনায়ক। মাহমুদ উল্লাহর (৭) বিদায়ও রশিদের গুগলি বুঝতে না পেরে। ডিফেন্স করতে গিয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ।

১২৫ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে মাহমুদ উল্লাহর বিদায়ের পর সংশয় যে চার দিনেই বাংলাদেশ ম্যাচ হেরে যায় কি না! জহীর (২/৩৬) আর রশিদের (৩/৪৬) তোপের মাঝে ওপেনার সাদমান ইসলামের (৪১) প্রতিরোধ ভেঙে নিজের বিদায়ি টেস্ট জয় দিয়ে রাঙানোর পথ আরো খুলেছেন নবীও (১/৩২)। হারের খাদে পড়ার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের অবশ্য এমন বিপর্যয়ের দিনেও একটি সাফল্য আছে।

সেটি কী? আফগানদের লিড ৪০০ ছাড়িয়ে যেতে না দেওয়া!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা