kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রকৃতিতেই লুকিয়ে ম্যাচ বাঁচানোর আশা

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রকৃতিতেই লুকিয়ে ম্যাচ বাঁচানোর আশা

অ্যান্ডি মোলস একটু পুরনো ধাঁচের মানুষ। ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্যে খুব একটা বিশ্বাস নেই তাঁর। আফগানিস্তান দলের হেড কোচের চাই স্থানীয় আবহাওয়া অফিস থেকে লিখিত ও বিস্তারিত ওয়েদার রিপোর্ট। টেস্টের চতুর্থ এবং পঞ্চম দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে চান তিনি। সেই চাহিদা পাওয়ার পর থেকেই দুই দিন ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মাথা প্রায় খেয়েই ছাড়ছেন টিম ম্যানেজার নাজিম জার আব্দুর রহিম!

মাঠের দারুণ পারফরম্যান্সে এই দলটির ক্রিকেটাররাও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম টেস্ট বাঁচানোর সম্ভাবনা প্রায় ‘খেয়ে’ ফেলেছেন। ‘প্রায়’ বলার কারণ, শেষ দুই দিনে বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে যথেষ্টই। সে জন্যই আবহাওয়া নিয়ে এত দুশ্চিন্তা মোলসের। তাতে যে মিশে আছে একরকম নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিও। তবে তৃতীয় দিনের শেষে জয়ের চৌকাঠে এক পা দিয়ে রাখাই আছে আফগানদের।

যে কথা কাল বিকেলের সংবাদ সম্মেলনেও বলে গেলেন আরেক আফগান ‘কীর্তিমান’ হতে হতেও না হওয়া ইব্রাহিম জাদরান। চট্টগ্রামেই আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে ইতিহাস হয়ে গেছেন রহমত শাহ। ইব্রাহিম হতে পারতেন অভিষেকেই সেঞ্চুরি করা প্রথম আফগান। কিন্তু এই ওপেনার ১৩ রান দূরে থাকতেই আউট হওয়ার হতাশা এখন জয় দিয়ে রাঙানোর অপেক্ষায়, ‘এই ম্যাচ আমরা শতকরা ৭০ ভাগ জিতে আছি।’

যে দাবিতে বাড়াবাড়ি নেই কোনো। টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষে ৩৭২ রানে এগিয়ে রশিদ খানের দল। স্বাগতিকদের ২০৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রথম ইনিংসেই তাদের লিড ছিল ১৩৭ রানের। এর সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৩৫ রান তুলে শেষ করেছে তৃতীয় দিন। বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্য ৪০০ পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তার কারণে আফগানরা থেমে যেতে পারে এখানেও। তা থামলেও সাকিব আল হাসানদের যে রান করতে হবে, সে রান তাড়া করে জেতার ঘটনা টেস্ট ক্রিকেটের সুদীর্ঘ ইতিহাসেই আছে মোটে সাতবার।

অথচ তৃতীয় দিনের শুরুতে আর মাত্র ১১ রান যোগ করে অল আউট হয়ে যাওয়ার পরও বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস ছিল। সেটি দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই আফগানরা চাপে পড়ে যাওয়ায়। প্রথম ওভারেই টানা দুই বলে উইকেট তুলে নেন সাকিব। ইনিংসের তৃতীয় বলেই ওপেনার ইহসানউল্লাহ জানাতকে ফেলেন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে। পরের বলেই রিটার্ন ক্যাচে তুলে নেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রহমতকে। ৪ রানে ২ উইকেট হারানো আফগানরা তখন চাপে। সেই চাপ আরো বাড়তে পারত। সাকিবও নিজের দ্বিতীয় ওভারেই পেতে পারতেন তৃতীয় উইকেট। কিন্তু ইব্রাহিমের ডিফেন্সে বল সিলি পয়েন্টে গেলেও মমিনুল হক হাতে জমাতে পারেননি।

শূন্য রানে বেঁচে যাওয়া ইব্রাহিম পরে ৬৫ ও ৬৬ রানেও সুযোগ দিয়েছেন আরো দুইবার। ক্লোজ ইনে সেগুলো কঠিন হলেও এমন নয় যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যাচ হয় না। বিশেষ করে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সেসবও ক্যাচে পরিণত করা জরুরি ছিল বাংলাদেশের। তবে অফস্পিনার নাঈম হাসানের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে হাশমতউল্লাহ শহীদিকে (১২) ফিরিয়ে শুরুর চাপ আরো বাড়ানো গিয়েছিল ঠিকই। আফগানরা ২৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসায় ম্যাচে ফিরে আসার আশাও জেগেছিল স্বাগতিকদের।

কিন্তু সেই আশা ক্রমেই মিলিয়ে দিতে থাকে ইব্রাহিম-আসগর আফগানের পার্টনারশিপ। সেটি যত বড় হতে থাকে, ততই ম্যাচ থেকে দূরে সরে যেতে থাকে বাংলাদেশ। এর প্রভাব পড়ে খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষায়ও। বোলারদের লেন্থ এলোমেলো হয়ে যেতে থাকে। নিয়মিত বিরতিতে হাফভলি এবং শর্ট পিচ বলও করে যেতে থাকেন তাঁরা। এর ফায়দা তুলতেও দেরি করেননি ইব্রাহিম-আসগররা।

এই জুটি ভেঙেছেন তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ৯২ রানের পর এবার ফিফটি করা আসগরের বিদায়ে জুটি ভাঙলেও ততক্ষণে চতুর্থ উইকেটে ১০৮ রানের পার্টনারশিপ গড়া হয়ে গেছে তাঁদের। তাতে লিড পেরিয়ে যায় ২৭০। দিনের শেষে তা ৩৭০-ও পার করে নেওয়ার ক্ষেত্রে অধিনায়ক রশিদের ব্যাট আবারও ভূমিকা রেখেছে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। নাঈমের এক ওভারেই মেরেছেন পাঁচটি বাউন্ডারি। এর আগে সকালে সেই নাঈমকেই তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয় টেস্টে পেলেন ইনিংসে ৫ উইকেটও।

ব্যাটে-বলে রশিদের মতো উজ্জ্বল আরো একাধিক পারফরমার আফগান শিবিরে। সব কিছুর যোগফলেই তারা ‘খেয়ে’ ফেলেছে বাংলাদেশের ম্যাচ বাঁচানোর সম্ভাবনাও!

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা