kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশেষজ্ঞ মত

ছয় মাস পড়লেই সাক্ষরতা অর্জন হয় না

রাশেদা কে. চৌধূরী

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছয় মাস পড়লেই সাক্ষরতা অর্জন হয় না

সাম্প্রতিক সময়ে সাক্ষরতার হার যতটুকু বেড়েছে এর প্রায় সবটুকু অবদানই প্রাথমিক শিক্ষার। তবে বাকি যেসব প্রকল্প বা কর্মসূচি আছে তা একবার চালু হয়, আবার বন্ধ হয়। একজন শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়লে সাক্ষরতা অর্জন করতে পারে। সেখানে ১৫ বছরের বেশি বয়সী একজন ছয় মাস পড়ে কি সেই শিক্ষা অর্জন করতে পারবে? তাই সাক্ষরতার হার বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

সরকার যেভাবে সাক্ষরতার হার নির্ধারণ করছে সেখানেও আমাদের দ্বিমত রয়েছে। কারণ তারা একজনকে বলছে, ‘আপনি লিখতে পারেন, পড়তে পারেন?’ সে বলছে, ‘পারি।’ কিন্তু আমরা যেটা করি, যাকে সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন বলব, সে পেপারটা পড়তে পারে কি না, অঙ্ক পারে কি না সেটা দেখা হয়। ফলে আমাদের হিসাবের সঙ্গে সরকারের হিসাবে পার্থক্যটা হয়। আর সরকারের হিসাবেও যদি সাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশ হয়, এর পরও তো কয়েক কোটি মানুষ নিরক্ষর। সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছিল। এর পর থেকে সময় বাড়িয়েই চলছে।

এখন প্রথম যে কাজটা করা উচিত, আমরা কত বছর বয়স পর্যন্ত মানুষকে সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করব। এখন যদি আমরা ৪৫ বছর পর্যন্ত মানুষকে সাক্ষর করতে চাই, তাহলে তাদের সংখ্যাটা কত? এরপর তাদের ব্যাপারে পরিকল্পনা করতে হবে। আর এই বয়সী মানুষের জীবন-জীবিকার একটা ব্যাপার আছে। সে জন্য সাক্ষরতার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নও থাকতে হবে। এখন যেভাবে চলছে সেভাবে হয় না।

এখন নরসিংদীর একটা ২০ বছর বয়সী নিরক্ষর ছেলের কথা যদি আমরা ধরি, সে তাঁতে বসলে প্রতিদিন ৩০০ টাকা পায়। তাহলে সে সেটা ফেলে কেন আসবে? এ জন্যই কর্মসূচিগুলো ওইভাবে আকর্ষণীয় করতে হবে।

সাক্ষরতা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আমরা একটা বাচ্চাকে পাঁচ বছর পড়ালেখা করানোর পরও মানের প্রশ্ন তুলছি। সেখানে ছয় মাস পড়িয়ে কি সাক্ষরতা জ্ঞানসম্পন্ন করা সম্ভব? আর প্রথম পর্যায় শেষ হলে, দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হতে আরো পাঁচ বছর লেগে যায়। তাহলে যারা ছয় মাস পড়েছে, তাদের কি সেগুলো মনে থাকবে? তাই আমাদের পরিকল্পনাটা যথাযথ করতে হবে। প্রকল্প নয়, দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিতে যথাযথ অর্থায়নের সংস্থান থাকতে হবে।

আর সাক্ষরতার প্রকল্পে এনজিওদের নেওয়া হয়েছে। আমরা গণসাক্ষরতা অভিযান নিয়ে এত বছর ধরে কাজ করি, অথচ ওই সব এনজিওকে চিনি না। তাই সরকারি-বেসরকারি যারাই কাজ করুক, তাদের বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা দরকার, যাতে তারা ঠিকমতো কাজগুলো করতে পারে। এটা খুবই দরকার। প্রায়ই ঢালাওভাবে এনজিওদের দোষ দেওয়া হয়। অথচ কতবার আমরা বলেছি, সিলেকশনের আগে জানাতে। আমরা সুপারিশ করব না, কিন্তু তথ্য তো দিতে পারব। কিন্তু আমাদের এ ব্যাপারে ডাকাই হয় না।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, গণসাক্ষরতা অভিযান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

অনুলিখন : শরীফুল আলম সুমন

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা