kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আফগান ঘূর্ণিতে চূর্ণ

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আফগান ঘূর্ণিতে চূর্ণ

কেউই ছাড়লেন না কিছু। না ছাড়লেন সাদমান ইসলাম। না ছাড়লেন রশিদ খান।

প্রথমজন ছাড়ার বল ছাড়লেন না। পরেরজনও বল হাতে ছাড়লেন না বাংলাদেশকে। এর আগে ব্যাটিংয়েও দলকে প্রায় সাড়ে তিন শ রানের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ফিফটি করে অবদান রেখেছেন তিনি।

বাংলাদেশের ইনিংস শুরু বাজে শটে সাদমানের উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। টেস্ট অধিনায়কত্বের অভিষেকে প্রথম ওভারেই উইকেট পাওয়া রশিদের ছোবলেই এরপর রক্তাক্তও হয়েছে বাংলাদেশ। এমনই যে টেস্ট পরিবারের নবীন সদস্যের সামনেও ফলোঅনের লজ্জা মুখ হাঁ করে ছিল।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে সেই হাঁ করা মুখ বন্ধ করতে পারার কৃতিত্বও অবশ্য দাবি করতে পারে স্বাগতিকরা। এ জন্যই যেকোনো পেসার না খেলিয়ে তারা নামিয়েছে বাড়তি একজন ব্যাটসম্যান। সেই মোসাদ্দেক হোসেনের (৪৪*) ব্যাটেই ফলোঅনের লজ্জা এড়িয়ে ৮ উইকেটে ১৯৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। আফগানদের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ১৪৮ রানে পিছিয়ে তারা। মোসাদ্দেকের সঙ্গী তাইজুল ইসলামও (১৪*) খেলে ফেলেছেন ৫৫ বল। নবম উইকেটে তাঁরা দুজন মিলে গড়েছেন নিজেদের সর্বোচ্চ ৪৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিও। তৃতীয় দিন শুরুর সময় তাই তাইজুলের কাছেও যত দূর সম্ভব দলকে এগিয়ে দেওয়ার আশা থাকবে বাংলাদেশ শিবিরের। চট্টগ্রাম টেস্টে স্বাগতিকদের অসহায়ত্বের ছবি তো এটিই!

কিভাবে ব্যাটিং করবেন, স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের কারো কারো মধ্যে সে দ্বিধাও দলের বিপর্যয়ে ভূমিকা রেখেছে। হঠাৎ করে মমিনুল হকের মনে হলো চড়াও হয়ে খেলবেন। লফটেড শটে একাধিক বাউন্ডারি মেরে লোভ আরো বেড়ে গিয়ে থাকবে হয়তো বা। তাই মোহাম্মদ নবিকে উড়িয়ে মারতে গেলেন ততক্ষণে ৬৯ বলে নিজের ত্রয়োদশ টেস্ট ফিফটি করে ফেলা মমিনুল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে করা আগের ছয়টি ফিফটিকেই সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এবারও সে রকম কিছু করতে পারলে দিনের শেষে দলও বিপর্যয়ে থাকে না। কিন্তু ওই যে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন মিড অনে! সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে মমিনুল আউট হওয়ার সময় ফলোঅন এড়াতে সাকিব আল হাসানের দলের লাগে আরো ১৩ রান!

ভালো খেলতে খেলতে আউট হওয়ার পুরনো রোগে আবারও কাবু হয়েছেন লিটন কুমার দাসও। নিজের প্রথম ওভারে তাঁকে ফিরিয়েই শুরু রশিদ খানের। শর্ট বল ভেবে তাঁকে লিটন (৩৩) পুল করতে গেলেন। কিন্তু বল উইকেটে পড়ে স্কিড করল। স্ট্রেইট না খেলে ক্রস ব্যাটে খেলায় বল আঘাত হানল স্টাম্পে। আগের দিনই আফগান অধিনায়ক বলেছিলেন সাকিবকে দ্রুত ফেরাতে হবে। এই লেগস্পিনার সে দায়িত্ব নিজেই কাঁধে তুলে নেন। সাকিবকে (১১) ফেলেন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে। বাংলাদেশ অধিনায়ক রিভিউ নিয়েও বাঁচেননি। এক বল পর ক্যামেরায় বারবার দেখেও উপসংহারে পৌঁছনোর মতো কিছু না পাওয়ায় বাঁচেননি মুশফিকুর রহিমও (০)।

রশিদের বল ডিফেন্স করেছিলেন তিনি। তাতে বল কোথায় ড্রপ খেয়ে শর্ট লেগ ফিল্ডারের হাতে গিয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত না হলেও ফিল্ড আম্পায়ার আউটের ‘সফট সিগন্যাল’ দিয়েই শরণাপন্ন হন থার্ড আম্পায়ারের। তাতে উইকেটের ধুলোর কারণে ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না যে মুশফিকের বুটের ডগায় নাকি মাটিতে ড্রপ খেয়েছে বল। ক্যামেরায় বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে দেখে নিশ্চিত হতে না পারায় থার্ড আম্পায়ারও ফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তেই স্থির থাকেন। তাতে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে অস্থিরতা বাড়ে আরো।

তিন বলের মধ্যে সাকিব-মুশফিককে ফেরানো রশিদ বিদায়ঘণ্টা বাজান মাহমুদ উল্লাহরও। যিনি শর্ট বল দেখে পুল করতে যান। কিন্তু বল তেমন বাউন্স না করে নিচু হয়। মাহমুদের (৭) ব্যাট ফাঁকি দিয়ে বল আঘাত হানে স্টাম্পে। ১০৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে সেখানেই প্রায় শেষ বাংলাদেশ। মমিনুল তখনো থাকলেও শেষ পর্যন্ত ফলোঅনের লজ্জার আশঙ্কাই বাড়িয়ে গেছেন। ৪৭ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার আগে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম ফিফটি করা রশিদ পারফরম্যান্সের দ্যুতি ছড়ালেও অনুজ্জ্বল বাংলাদেশের ব্যাটিং।

বাড়তি একজন ব্যাটসম্যানে ফলোঅনের লজ্জা এড়ানো গেলেও ম্যাচের লাগাম তাই এখনো আফগানদের হাতেই। প্রতিপক্ষকে এমন বাগে পাওয়ার পর জেতার সুযোগ নিশ্চিতভাবেই হাতছাড়া করতে চাইবেন না রশিদ খানরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা