kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা

গ্রেপ্তার রিমান্ড আদালতে যুবক, চার্জশিটে শিশু!

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



গ্রেপ্তার রিমান্ড আদালতে যুবক, চার্জশিটে শিশু!

এজাহারে তারা যুবক। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলন করে তাদের যুবক (প্রাপ্তবয়স্ক) বলেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। এমনকি আদালতেও তাদের যুবক হিসেবে পুলিশ উপস্থাপন করেছিল। আদালতের বিচারকও তাদের যুবক বলেই ঘোষণা করেন এবং সেই অনুযায়ী তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার অনুমতিও দেন। রিমান্ড শেষে তারা ১৬৪ ধারায় হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। আদালত সেই জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। তাই গ্রেপ্তারের পর থেকে তারা কয়েদি ও হাজতিদের সঙ্গে কারাগারে ছিল। অথচ অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) তাদের শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশু হিসেবে আদালতও তাদের সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। এমন ঘটনা ঘটেছে বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ছয় আসামির ক্ষেত্রে।

এ ছয় আসামি হলো রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজী, জয় চন্দ সরকার ওরফে চন্দন, ওলিউল্লাহ ওরফে অলি, তানভীর হোসেন, নাজমূল হাসান ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ। তাদের মধ্যে আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ গত বুধবার জামিন পেয়েছে।

আইনে যা আছে : শিশু আইন ২০১৩-এর ৪ ধারা অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী সবাই শিশু। একই আইনের ৪৪(৩) উপধারায় বলা আছে, ‘শিশুকে গ্রেপ্তার করিবার পর গ্রেপ্তারকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের কারণ, স্থান, অভিযোগের বিষয়বস্তু ইত্যাদি সম্পর্কে তাত্ক্ষণিকভাবে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন। তবে শর্ত থাকে যে গ্রেপ্তার করিবার পর কোনো শিশুকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানো যাইবে না।’ ৪৪(৪) উপধারায় বলা হয়েছে, ‘উপধারা (৩)-এর অধীন (শিশুর) বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা উক্ত সনদের অবর্তমানে স্কুল সার্টিফিকেট বা স্কুলে ভর্তির সময় প্রদত্ত তারিখসহ প্রাসঙ্গিক দলিলাদি উদঘাটনপূর্বক যাচাই-বাছাই করিয়া তাহার বয়স লিপিবদ্ধ করিবেন।’

শিশু আইনে আরো বলা আছে, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশু গ্রেপ্তারের বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন। তারা যৌথভাবে শিশুর সঙ্গে আলোচনা করে মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করবেন।

৪৪(৫) উপধারায় বলা আছে, ‘সংশ্লিষ্ট থানায় শিশুর জন্য উপযোগী কোনো নিরাপদ স্থান না থাকিলে গ্রেপ্তারের পর হইতে আদালতে হাজির না করার সময় পর্যন্ত শিশুকে নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। তবে শর্ত থাকে যে নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ক্ষেত্রে শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক বা ইতোমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হইয়াছেন এইরূপ কোনো শিশু বা অপরাধী এবং আইনের সংস্পর্শে আসা কোনো শিশুর সহিত একত্রে রাখা যাইবে না।’

পুলিশের খাতায় তারা যুবক (প্রাপ্তবয়স্ক) : রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর প্রতিদিনই মামলার অগ্রগতি নিয়ে পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেই সংবাদ সম্মেলনের সূত্র ধরেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশের তথ্য বলছে, ১ জুলাই এজাহারভুক্ত আসামি ওলিউল্লাহ ওরফে অলি (২২) ও তানভীর হোসেন (২০) আদালতে  স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রিফাত হত্যা মামলায় প্রথম আটক হন জয় চন্দ সরকার ওরফে চন্দন। তাকে ঘটনার পরদিন গত ২৭ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তারের স্থান জানায়নি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামিদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ৪ জুলাই জয় চন্দ সরকার ওরফে চন্দন (২১), ৫ জুলাই নাজমুল হাসান এবং পর্যায়ক্রমে রিশান ফরাজী (২০) ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ (১৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কোপানো হয়। ওই দিন বিকেলে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ওই দিনই রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ ওরফে দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড (২৫) গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলো রিফাত ফরাজী (২৩), তার ভাই রিশান ফরাজী (২০), জয় চন্দ সরকার ওরফে চন্দন (২১), মো. মুসা, মো. রাব্বি আকন (১৯), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রায়হান (১৯), মো. হাসান (১৯), রিফাত (২০), অলি (২২) ও টিকটক হৃদয় (২১)। অর্থাৎ মামলায় রিশান, চন্দন ও অলিকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

পুলিশের তথ্য মতে, রিফাত হত্যা মামলার ছয় আসামি যাদের অভিযোগপত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক দেখানো হয়েছে, জবানবন্দি দেওয়ার সময় তাদের প্রত্যেককে প্রাপ্ত বয়স্ক হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

বরগুনার প্রবেশন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সদর থানায় কোনো শিশু গ্রেপ্তার হলে থানায় দায়িত্বরত শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে আমাকে অবহিত করেন। সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করি। রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক আসামিকে আদালতের নির্দেশে যশোর শিশু সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া গত ৩ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশে রিফাত হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত ছয় শিশুকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ছয় শিশুকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি পুলিশ আমাদের জানায়নি। যদি যোগাযোগ করত তাহলে গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গেই আদালতে উপস্থাপন করে আমরা ব্যবস্থা নিতাম।’

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি রাতুল শিকদারকে যশোরে শিশু (কিশোর/কিশোরী) উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল গত ১০ জুলাই রাতে। এরপর তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। ১৪ জুলাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

ছয় আসামির বয়সের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর আসামিদের শারীরিক গঠন দেখে মনে হয়েছে তারা প্রাপ্তবয়স্ক। সে হিসেবেই তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এমনকি তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। পরে ৩০ আগস্ট ছয় আসামির পরিবার থেকে সরবরাহকৃত জন্মসনদ, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক। সে হিসেবেই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।’

শ্রাবণের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শ্রাবণ বরগুনা জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। তাকে স্কুল কম্পাউন্ড থেকে ১ জুলাই পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু ৮ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করে। রিমান্ডের আবেদনে শ্রাবণের বয়স ১৯ বছর দেখানো হয়েছিল। বিধিবহির্ভূতভাবে তাকে একই মামলায় দুইবার রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। সাধারণ অপরাধীদের সঙ্গে এই কিশোরকে জেলখানায় রাখা হয়। ২৪ জুলাই বিষয়টি জেলখানা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

জানা গেছে, শ্রাবনের জামিন শুনানির সময় পুরো কাগজপত্র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকের নজরে আনা হয়। বিচারক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আটকের সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দশম শ্রেণির ছাত্রকে কেন প্রাপ্তবয়স্ক দেখানো হলো তার কারণও জানতে চান। কিন্তু এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতকে কিছু জানাতে পারেননি।

শ্রাবনের আইনজীবী আরো বলেন, শ্রাবনের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য গত ৩ সেপ্টেম্বর বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে আবেদন করা হয়েছে। বিচারক আবেদনটি মঞ্জুর করে নথিতে রেখেছেন।

বিচারসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে বলেছে, যে আদালতে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিল, সেই একই আদালত তাদেরই অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে সংশোধনাগারে পাঠাল। যেহেতু আসামিদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আদালত ঘোষণা করেছে। এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবেই বিচারক তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনার দায়ভার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার ওপর বর্তায়। তা ছাড়া অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির সময় বিচারক এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেন। শিশু আদালতেও বয়স নির্ধারণের জন্য আইন রয়েছে। 

জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির বলেন, ‘আমাদের তদন্ত শেষ, এখন আদালত সিদ্ধান্ত নিবেন।’

আদালতেও তারা প্রাপ্তবয়স্ক : রিফাত হত্যা মামলার (জিআর-২১৪/১৯ বর) ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশনামা কালের কণ্ঠের কাছে রয়েছে। গত ১৮ জুলাইয়ের ২৮ নম্বর আদেশে বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী বলেছেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী আসামি আরিয়ান হোসেন শ্রাবনের (১৯) জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মতে লিপিবদ্ধ করা হলো। আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হোক।

একই দিন পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রিশান ফরাজীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানান। পুলিশ সুপারের স্বাক্ষরিত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যের কপি কালের কণ্ঠের কাছে রক্ষিত আছে। সেখানে রিশানের বয়স পুলিশ সুপার উল্লেখ করেননি। পরের দিন রিশানের বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত দিনের হেফাজতে (রিমান্ড) চেয়ে আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে একই আদালতের বিচারক আদেশে বলেন, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যা কার্যে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও সহযোগী আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামি রিশান ফরাজীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করা হলো। এ আদেশেও রিশানের বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুকে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে বরিশালের প্রবেশন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ পারভেজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গুরুতর অপরাধে গ্রেপ্তারকৃত কোনো শিশুকে যখন রিমান্ডের জন্য আদালতে তোলা হয়, তখন প্রবেশন কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত থাকেন। শিশু যখন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়, তখনো প্রবেশন কর্মকর্তার উপস্থিতির বিষয়টি আদালত নিশ্চিত করেন। সম্প্রতি উচ্চ আদালত এ ব্যাপারে আটটি নির্দেশনাও দিয়েছেন। এমনকি শিশু আদালতে যখন মামলার বিচারকাজ চলে তখনো প্রবেশন কর্মকর্তার একান্ত উপস্থিতির বিষয়টি শিশু আইনেই বলা আছে।’

অভিযোগপত্রে তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক (শিশু) : রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। আসামিদের মধ্যে রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিও রয়েছেন। তিনি ছিলেন মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। পরে তাঁকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এখন জামিনে আছেন। বয়সের ভিত্তিতে দাখিল করা অভিযোগপত্রের প্রথম খণ্ডে মিন্নিসহ ১০ জন আসামির নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে রিফাত ফরাজীকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির নাম। এতে রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই রিশান ফরাজীকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ১৫ আসামির সবাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে, যা অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনো মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

অভিযোগপত্র অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের তালিকাটি হলো এমন: রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজী (১৭), রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার (১৫), আবু আবদুল্লাহ্ ওরফে রায়হান (১৬), ওলিউল্লাহ্ ওরফে অলি (১৬), জয় চন্দ  সরকার ওরফে চন্দন (১৭), নাইম (১৭), তানভীর হোসেন (১৭), নাজমুল হাসান (১৪), রাকিবুল হাসান নিয়ামত (১৫), সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ (১৭), মারুফ মল্লিক (১৭), প্রিন্স মোল্লা (১৫), রাতুল শিকদার জয় (১৬), আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ (১৬)। রাতুল বাদে অন্যরা গত ৩ সেপ্টেম্বর যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেওয়ার আগ পর্যন্ত বরগুনা কারাগারেই ছিল। তাদের মধ্যে রিশান ফরাজী বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ভূবন চন্দ  হাওলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ছয় আসামিকে যখন পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল, তখন তাদের স্বজনরা বয়সের ব্যাপারে কোনো তথ্য দেয়নি।’ শিশু আর যুবকের জবানবন্দির আইনি ভিত্তি সমান নয় মন্তব্য করে পিপি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।’

তবে শিশুদের বিচারের ক্ষেত্রে শিশু আইন ২০১৩-এর ৩৩ (১) উপধারায় বলা হয়েছে, ‘অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কারাদণ্ড প্রদান করা যাইবে না।’ তবে এ ক্ষেত্রে দুটি শর্ত রয়েছে, যাতে করে শিশুদের কারাদণ্ড দেওয়া যায়, তবে সেটা তার অপরাধের জন্য দেওয়ার দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদের বেশি হবে না।

বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, এই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও শিশু-আদালতে তাদের অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) বছর এবং অন্যূন ৩ (তিন) বছর সাজা দিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দে  পাঠাতে পারেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা