kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রহমতের স্বপ্নপূরণের মঞ্চে অস্বস্তিতে বাংলাদেশ

আফগানিস্তান : ৯৬ ওভারে ২৭১/৫ (প্রথম দিনের শেষে)

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রহমতের স্বপ্নপূরণের মঞ্চে অস্বস্তিতে বাংলাদেশ

একজন নিজের দলকে পথ দেখালেন। তাতে গোটা প্রতিপক্ষই পথ হারানোর পথে। আরেকজন নার্ভাস নাইনটি নাইনে ছিলেন। সেটি পেরিয়ে ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছলেও দিনের শেষে তাঁর দলেরই ‘নার্ভাস’ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। পথ হারানোর পথে থেকে নার্ভাস হয়ে পড়া দলটি বাংলাদেশই।

তাইজুল ইসলাম ৯৯ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন। মোহাম্মদ রফিক ও সাকিব আল হাসানের পর তৃতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছতেও সময় বেশি নেননি এই বাঁহাতি স্পিনার। তাও আবার দ্রুততম বাংলাদেশি হিসেবে নিজের ২৫তম টেস্টেই। এমন কীর্তির দিনেও শেষ বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসা তাইজুলের মলিন মুখই বলে দিচ্ছিল তাঁর মঞ্চে আসলে দিনজুড়ে আলো ছড়িয়েছেন অন্য কেউ।

সেই ‘অন্য কেউ’ হলেন আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ের প্রাণভোমরা রহমত শাহ। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ২২ গজ তাঁর জন্য হয়ে গেল স্বপ্নপূরণের মঞ্চ। টেস্ট পরিবারের নবীন সদস্য দেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয়ে যেতে পারত ভারতের দেরাদুনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা নিজেদের আগের টেস্টেই। খেলেছিলেন ৯৮ ও ৭৬ রানের দুটি ইনিংস। সেবার সেঞ্চুরি মিস করলেও পণ করেছিলেন আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হবেন তিনিই। তা হয়েছেনও। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনের শেষে সেঞ্চুরির স্বপ্নপূরণের দুয়ারে দাঁড়িয়ে তাঁর সতীর্থ আসগর আফগানও (৮৮*)। তাঁদের ব্যাটিংয়ের আলোয় দিনের শেষে বাংলাদেশও অন্ধকার না দেখে পারছে না।

পারছে না কারণ আফগানরা ৫ উইকেট হারিয়ে তুলে ফেলেছে ২৭১ রান। তাও আবার এমন উইকেটে যেখানে প্রচুর টার্নের আশায় নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো পেসার ছাড়াই নেমে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রত্যাশিত টার্নের দেখা মেলেনি। না মিললেও সামনেই মিলতে পারে। মিলে গেলে নানা সমস্যাও উন্মুক্ত হয়ে থাকবে। কারণ আফগানরাও তো দুই লেগস্পিনার এবং একজন করে চায়নাম্যান ও অফস্পিনারের দারুণ বৈচিত্র্য নিয়ে নেমেছে। তার ওপর বাংলাদেশও টস হারায় চাওয়ামতো আগে ব্যাটিং নিতে পারেনি। কাজেই উইকেট ভাঙতে শুরু করলে যখন টার্ন আরো বাড়তেই থাকবে, তখন প্রতিপক্ষের বৈচিত্র্যময় স্পিনের সামনে চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়ার ঝুঁকিও কম নয়। সেখানে আফগানদের প্রথম দিনেই পৌনে তিন শ রান করে ফেলাই বেকায়দার পড়ার আশঙ্কা জাগিয়ে রাখছে।

অথচ সাবধানী শুরুর পরও দিনের প্রথম সেশনে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরা গিয়েছিল। সেই চেপে ধরার শুরুও তাইজুলের হাত ধরেই। আফগান ওপেনার আহসানউল্লাহ জানাতকে (৯) বোল্ড করে ফেরান। একটু মারমুখী হতে চাওয়া অন্য ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানকেও (২১) লং অফে ক্যাচ বানান মাহমুদ উল্লাহর। এরপর মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে মাহমুদও নিজের প্রথম ওভারেই অফস্পিনে সাফল্যের মুখ দেখেন। হাশমতউল্লাহ শহিদি (১৪) স্লিপে ক্যাচ দেন সৌম্য সরকারকে। তাতেই ৭৭ রানে ৩ উইকেট খুঁইয়ে বিরতিতে যাওয়া আফগানদের যেন আরো চেপে ধরার অপেক্ষা ছিল তখন।

কিন্তু বিরতির পর সময় যতই যায়, ততই সেই চাপ আলগা হয়ে যেতে থাকে রহমত ও আসগরের ব্যাটে। বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বোলিংয়ে নানা অদলবদল এনেও আর সেই জুটি ভাঙতে পারেন না। সাতজন স্পিনার ব্যবহার করলেও অটল ওই জুটি। তাই দিনের দ্বিতীয় সেশনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী আফগানরা। এই সেশনে ৩৫.২ ওভারে ১১৪ রান তোলে সফরকারীরা। ৩ উইকেটে ১৯১ রান নিয়ে চা বিরতিতে যাওয়ার সময় রহমত শাহের নামের পাশে ৯৭ রান।

এই রান করার পথে তিনি খেলতে থাকেন লম্বা পায়ে। যাতে বাংলাদেশের স্পিনারদের বল টার্ন করার বিন্দুমাত্র সুযোগও না পায়। এই ‘লং স্ট্রাইড’ নিয়ে খেলার কৌশলে দারুণ সফল রহমত সেঞ্চুরি করেন চা বিরতির পরপরই, নাঈম হাসানের বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে স্বপ্নের চৌকাঠ পার হন ১৮৬ বলে। পরের বলেই নাঈমকে উইকেট বিলিয়ে এলেও অবিচল আসগর আফগানও তিন অঙ্কের পথে।

তাতে পথ হারানোর পথে থাকা বাংলাদেশও এখন ‘রহমত’ প্রত্যাশা করছে নিশ্চয়ই!

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা