kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে

যুগ্ম সচিবের দায় নেই, অভিযুক্ত ঘাটের তিন কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুগ্ম সচিবের দায় নেই, অভিযুক্ত ঘাটের তিন কর্মী

মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে একজন ভিআইপির (যুগ্ম সচিব) অপেক্ষায় প্রায় দুই ঘণ্টা ফেরি আটকে রাখার কারণে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কমিটি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলেও আলোচিত যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের কোনো দোষ খুঁজে পায়নি কমিটি। তবে ফেরি দেরিতে ছাড়ার জন্য ওই সময় ঘাটে দায়িত্বরত তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অ্যাম্বুল্যান্স, লাশবাহী যান-গাড়ি পারাপারে ব্যবস্থা গ্রহণসহ সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৩ অক্টোবর হাইকোর্ট নিয়মিত খোলার পর প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। অবশ্য আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা রয়েছে হাইকোর্টের।

প্রতিবেদনে যে তিনজনকে দায়ী করা হয়েছে তাঁরা হলেন ঘাট ম্যানেজার সালাম হোসেন, প্রান্তিক সহকারী খোকন মিয়া এবং উচ্চমান সহকারী ও গ্রুপপ্রধান ফিরোজ আলম। কাজে অবহেলা, ঘাট ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা ও বিআইডাব্লিউ পরিপত্র লঙ্ঘন করে বিলম্বে ফেরি ছাড়ার জন্য তাঁদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাটে লাইফ সাপোর্টে থাকা রোগীবাহী অ্যাম্বুল্যান্স ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে জেনেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অ্যাম্বুল্যান্স পারাপারে সহায়তা না করে ‘কুমিল্লা ফেরি’ নির্ধারিত সময়ের আনুমানিক দুই ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সৃষ্টিতে তাঁরা (তিনজন) দায়ভার এড়াতে পারেন না। ফেরি ছাড়তে দুই ঘণ্টা দেরি না করলে হয়তো তিতাসকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুগ্ম সচিব সরকারি সফরে থাকায় যে রুটে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল সে রুটে ধর্মঘট চলায় বিকল্প রুট হিসেবে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে যান। এ জন্য তিনি আগেই মাদারীপুরের জেলা প্রশাসকের সহায়তা চান। জেলা প্রশাসক ঘাটের ম্যানেজারকে বিষয়টি জানান। এরপর ম্যানেজারের সঙ্গে যুগ্ম সচিবের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মুমূর্ষু রোগী অপেক্ষা করার তথ্য ঘাট ম্যানেজার যুগ্ম সচিব বা জেলা প্রশাসককে জানাননি। তাই তাঁকে অভিযুক্ত করার মতো যুক্তিসংগত কোনো কারণ নেই বলেই প্রতীয়মান হয়।

প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে যে সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে তা হলো : ১. ঘাট থেকে ফেরি ছাড়া ও পৌঁছানোর সময় স্থায়ী লগবুক-রেজিস্টারে লিখে মাস্টারকে স্বাক্ষর করতে হবে; ২. ফেরিঘাটে ভিড়িয়ে বা ফেরির র‌্যাম্প উঠিয়ে কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য অপেক্ষা করা  যাবে না; ৩. নীতিমালা অনুযায়ী ভিআইপি সুবিধা চেয়ে কেউ ফেরি পারাপার হতে চাইলে তাঁকে অবশ্যই তাঁর সরকারি ভ্রমণ বিবরণী আগে থেকে ফেরি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে আগে যোগাযোগ সাপেক্ষে ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়ম শিথিল করা যেতে পারে; ৪. সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স, লাশবাহী অ্যাম্বুল্যান্স-গাড়ি পারাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে; ৫. প্রত্যেক ঘাট ও ফেরিতে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে গাড়ি ও ফেরি পারাপারের বিষয় পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে; ৬. ঘাট ও ফেরিতে কর্মরত সবাইকে নাম ট্যাগসহ নির্দিষ্ট পোশাক (ইউনিফর্ম) পরিধান করতে হবে এবং ৭. ফেরিঘাট ও ফেরিতে জরুরি গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল নম্বরগুলো প্রদর্শন করতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুলাই রাতে যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় কাঁঠালবাড়ী ১ নম্বর ঘাটে প্রায় দুই ঘণ্টা ফেরি বসিয়ে রাখা হয়। ফলে অ্যাম্বুল্যান্সেই মৃত্যু হয় তিতাসের। এ নিয়ে এক রিট আবেদনে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ জুলাই এক আদেশে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন। কমিটি তদন্ত শেষে হাইকোর্টে দাখিল করার জন্য ৩৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেয়।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা