kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দুই দফা হার পার্লামেন্টে

► চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পথ বন্ধ
►নজিরবিহীনভাবে আগাম নির্বাচন প্রত্যাখ্যান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দুই দফা হার পার্লামেন্টে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিচ্ছেদকে (ব্রেক্সিট) কেন্দ্র করে গত বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দুই দফা ভোটাভুটিতে পরাজিত হলেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। প্রথম দফায় বিরোধী দল ও নিজ দলের বিদ্রোহীরা পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘ব্রেক্সিট বিলম্ব বিল’ পাস করে, যাতে প্রধানমন্ত্রী ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ (চুক্তিহীন ব্রেক্সিট) বাস্তবায়ন করতে না পারেন। এর পাল্টা হিসেবে বরিস জনসন পার্লামেন্টে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনলে এমপিদের প্রয়োজনীয়সংখ্যক সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হন। দুটি ঘটনাকেই নজিরবিহীন বলছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম।

পরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বিরোধী দলের নেতা জেরেমি করবিনের অবস্থানকে ‘গণতন্ত্রের প্রতি কাপুরুষোচিত অপমান’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ব্রিটেনের ইতিহাসে এই প্রথম আগাম নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলেন কোনো বিরোধীদলীয় নেতা। জনসন বরাবরই বলে আসছেন,

ব্রেক্সিট এগিয়ে নিতে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

গত বুধবার প্রথম দফায় হাউস অব কমনসে বিরোধী দলগুলো ‘ব্রেক্সিট বিলম্ব বিল’ পার্লামেন্টে উত্থাপন করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির একটি বিদ্রোহী গ্রুপও।

এই বিলে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা করে পার্লামেন্টে আসতে না পারেন, তাহলে তাঁকে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ব্রেক্সিটের সময়সীমা ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাতে হবে। শুধু তা-ই নয়, এ অনুরোধ জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নকে যে চিঠি পাঠাবেন, তার ভাষাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে বিলটিতে।

বিলে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীকে আগামী ১৯ অক্টোবরের মধ্যে হয় একটি ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে পাস করতে হবে অথবা নো ডিল ব্রেক্সিটের পক্ষে এমপিদের সমর্থন নিতে হবে। এটি করতে না পালে তাঁকে ইইউ থেকে ব্রিটেনের বিদায়ের ৩১ অক্টোবরের তারিখ পিছিয়ে দিতে অনুরোধ জানাতে হবে।

তবে ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ আটকে দিয়ে পার্লামেন্টে বিরোধীদের এই বিল পাস করাকে ইইউয়ের কাছে ‘আত্মসমর্পণ বিল’ বলে বর্ণনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। সরকার জানিয়েছে, এই বিল আগামী শুক্রবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে উত্থাপন করা করা হবে।

এই বিল পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগামী ১৫ অক্টোবর আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন পার্লামেন্টে। কিন্তু পার্লামেন্টের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করার বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত একটি আইন (ফিক্সড টার্ম পার্লামেন্ট অ্যাক্ট ২০১১) রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যদি আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠান করতেই হয়, তাহলে দুই-তৃতীয়াংশ পার্লামেন্ট সদস্যের সমর্থন লাগবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উত্থাপিত আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়।

আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব রেখে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পার্লামেন্টকে বলেছিলেন, সরকারের আনা একের পর এক প্রস্তাব যদি পার্লামেন্ট পাস না করে, তাহলে সরকার পরিচালনা করা পুরোপুরি অসম্ভব। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে এটি নজিরবিহীন যে সরকার নির্বাচন দিতে চাচ্ছে আর বিরোধী দল সেটি প্রত্যাখ্যান করছে।

তবে বিরোধী দল লেবার পার্টি বলছে, তারা আগাম নির্বাচনের বিরোধী নয়। দুই বছর ধরে লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে লেবার পার্টির অগ্রাধিকার হচ্ছে ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ ঠেকানো। যখন পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে নো ডিল ব্রেক্সিট আর হচ্ছে না তখন নির্বাচনের ব্যাপারে বিরোধী দল লেবার পার্টির কোনো আপত্তি নেই।

এ বিষয়ে ছায়া চ্যান্সেলর জন ম্যাকডোনেল বলেন, লেবার পার্টি নির্বাচন চায়। তবে তারা প্রাধান্য দিচ্ছে ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ বন্ধ করা।

প্রধানমন্ত্রীর ভাইয়ের পতদ্যাগ : ব্রেক্সিট ইস্যুতে পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পরাজয়ের পরের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর ছোট ভাই জো জনসন পার্লামেন্ট সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। জো বলেছেন, পারিবারিক আনুগত্য ও জাতীয় স্বার্থের সংঘাতের কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তিনি ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ইইউ গণভোটে জো জনসন ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ভাই ব্রেক্সিটের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। গত বছর সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের ব্রেক্সিট চুক্তির বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছিলেন জো। কিন্তু কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা তাঁর ভাইকে দলীয় নেতা নির্বাচিত করার পর তিনি আবার সরকারে যোগ দেন। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা