kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবরোধ অব্যাহত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবরোধ অব্যাহত

অবরোধের দ্বিতীয় দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবস্থান। ছবি : কালের কণ্ঠ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবরোধে গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম। উপাচার্যের পক্ষ থেকে একাধিক প্রতিনিধি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বললেও মতের মিল না হওয়ায় ফিরে গেছেন তাঁরা। দাবি মানা না হলে আজ বৃহস্পতিবার উপাচার্যকে অবরুদ্ধ কিংবা আটকে দেওয়া হতে পারে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিন দফা দাবি না মানায় দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি চলাকালে ভবন দুটির কোনো ফটকেরই তালা খুলতে পারেননি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে প্রথম দিনের মতো গতকালও কর্মস্থলে প্রবেশ করতে না পেরে অপেক্ষা করে ফিরে গেছেন তাঁরা। উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় ভর্তি পরীক্ষাসংক্রান্ত সভা।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উপাচার্যের পক্ষ থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নূরুল আলম ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আমির হোসেন প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেন। কিন্তু একমত না হওয়ায় তাঁরা ফিরে যান। পরে আবারও উপাচার্যের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মনজুরুল হক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান।

একপর্যায়ে আন্দোলনকারী একজন শিক্ষকের কাছে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসেননি।

এ প্রসঙ্গে সামাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার বলেন, ‘যেহেতু উপাচার্য অভিযুক্ত, সেহেতু আলোচনায়  জাবি উপাচার্যকে নির্বাহী প্রধান রেখে আমরা মিটিংয়ে বসব না। নির্বাহী প্রধান থাকবেন রাষ্ট্রপক্ষের কেউ অথবা ইউজিসির কেউ।’

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, ‘আমাদের তিন দফা দাবি মানা হয়নি। দাবি মেনে না নেওয়ায় আগামীকালও (আজ) অবরোধ চলবে। তার পরও যদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসে তাহলে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে লিফলেট বিতরণ করেছে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা