kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সবুজ-সজীব সাফল্যের খোঁজে বাংলাদেশ

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সবুজ-সজীব সাফল্যের খোঁজে বাংলাদেশ

মলিন শিবিরে সবুজের সজীবতা! যে সজীবতা আপাতত শুধু পোশাকেই এসেছে। সাফল্যে অনূদিত হয়নি এখনো। হয়নি বলেই আরো উতলা বাংলাদেশ।

অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের বক্তব্য থেকে স্বাগতিক দলের মরিয়া মনোভাবের সবশেষ অবস্থা এমনই দেখাচ্ছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টে ঐতিহ্যের সাদা পোশাকে রঙের আঁচড় নিয়ে নামছে বাংলাদেশও। সাদা পোশাকের পেছনে থাকছে নাম এবং জার্সি নম্বরও। সে জন্য বেছে নেওয়া রংটি সবুজ-সজীব। ড্রেসিং রুমে নতুন সেই পোশাকের ট্রায়াল চলতে চলতেই কী মনে পড়ে গেল যে গত কিছুদিনে বাংলাদেশ সাফল্যে এমন সজীব হতে পারেনি?

হতেও পারে। তবে যা-ই হোক, সাফল্য আসলেই নেই। বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজে ভরাডুবি জাতীয় দলের। প্রায় একই অবস্থা এর নিচের অন্যান্য দলেরও। দেশের মাটিতে আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচের সিরিজ হেরেছে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ ‘এ’ দল ওয়ানডে সিরিজ ড্র করলেও তা নিয়েও আছে নয়ছয় করার অভিযোগ। শক্তিশালী বলে স্বীকৃত নয়, এমন কয়েকটি দলের সঙ্গে বেঙ্গালুরুতে চার দিনের ম্যাচের টুর্নামেন্ট খেলেও ফাইনালে যেতে পারেনি বিসিবি একাদশ। সব মিলিয়েই বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন গুমোট হাওয়া।

তাতে ছড়িয়ে পড়া অস্বস্তি টের পাওয়া যায় সাকিব আল হাসানের কথায়। একটি জয় দিয়ে তা থেকে বেরিয়ে আসার আকুতিই যেন শোনা গেল তাঁর কণ্ঠে, “সার্বিকভাবে গত কিছুদিন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভালো সময় কাটেনি। সব দিক থেকেই। সেটি ‘এ’ দল বলুন, একাডেমি বলুন, কোথাও আমরা ভালো পারফরম করতে পারিনি। শুধু অনূর্ধ্ব-১৯ দল ফাইনাল খেলেছে ইংল্যান্ডে। সেদিক থেকে চিন্তা করলে আমাদের জন্য এই ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা যদি এই ম্যাচ ভালোভাবে জিততে পারি, আমার কাছে মনে হয় অনেক কিছুই আবার একটু স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।”

জিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বাংলাদেশ যে কৌশল অবলম্বন করতে চলেছে, সেটি একরকম ‘আগুন নিয়ে খেলা’ই। আফগানদের বৈচিত্র্যময় স্পিন আক্রমণ তাদের অপেক্ষায়। তবে পাল্টা ঘূর্ণিজালে সফরকারীদের কাবু করার ছকও যে কষা হয়ে গেছে, সেটি বুঝতে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল শেষ বিকেলের কয়েকটি দৃশ্য ফুটিয়ে তুললেই যথেষ্ট। এই ভেন্যুর প্রধান কিউরেটর প্রাভীন হিঙ্গানিকার পিচ কাভার তুলে ফেললেন। শুধু তা-ই নয়, ভারতের বিদর্ভ ক্রিকেট রাজ্যের সাবেক অধিনায়ক এবং অফস্পিনার নিজেও হাত ঘোরাতে শুরু করে দিলেন। এই ভারতীয়র কয়েকটি ডেলিভারি এমন শার্প টার্ন করল যে স্বাগতিক শিবিরের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহে হিঙ্গানিকারকে আগাম পাস মার্ক দেওয়া যেতেই পারে।

ম্যাচ শুরুর ১৮ ঘণ্টা আগে এমন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা জানলে আফগান শিবির থেকে নিশ্চিতভাবেই অভিযোগ তোলা হতো। অবশ্য ততক্ষণে অনুশীলন সেরে হোটেলে ফিরে গেছেন রশীদ খানরা। তারও আগে আফগান অধিনায়ক অভিজ্ঞতায় নিজেদের পিছিয়ে রাখলেও সমানে-সমান লড়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাও ব্যক্ত করে গেলেন। জানিয়েছেন, ভারতের মাটিতে তাদের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট খেলার ঘোর তাঁরা কাটিয়ে উঠেছেন নিজেদের দ্বিতীয় টেস্টেই। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যে টেস্টে আফগানিস্তান জিতেছেও। টেস্ট পরিবারের আরেক নবীন সদস্যকে হারানোর আত্মবিশ্বাস ফুটিয়ে তুলতে চান সাকিবদের বিপক্ষেও, ‘ছোট কিংবা বড়, যে দলের বিপক্ষেই জিতুন না কেন, জয় সব সময়ই আপনার মধ্যে বিশ্বাস ও প্রাণশক্তির সঞ্চার ঘটাবে। আইরিশদের বিপক্ষে আমাদের সবশেষ টেস্ট থেকে আমরা সেটি পেয়েছিও। ভারতের সঙ্গে অতি উত্তেজনায় আমরা খেই হারালেও পরের টেস্টেই শতকরা ৮০-৯০ ভাগ উন্নতি করেছি এবং জিতেছি। সেই জয় এখানেও আমাদের পুরো আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।’ 

সেই লক্ষ্যে দুর্দান্ত এক স্পিন আক্রমণ সঙ্গী আফগানদের। বাংলাদেশও যে পাল্টা স্পিন বিষই ছড়াতে চায়, সাকিবের কথায় সেটিও স্পষ্ট। চট্টগ্রামে সবশেষ টেস্টেও চারজন স্পিনার খেলিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই ম্যাচে অবশ্য একজন পেসার খেলেছিলেন। ঢাকায় পরের টেস্টে তা-ও নয়। যদিও দেশের মাঠে স্পিননির্ভরতা নিয়ে সমালোচনায় কোনো যুক্তি দেখেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। পাল্টা জবাবও তৈরি তাঁর, ‘যখন ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় খেলা হয়, চারজন পেসার খেলে, কোনো স্পিনার খেলে না, সেগুলো নিয়ে তো আমরা সমালোচনা করি না।’ 

অব্যর্থ ফর্মুলায় আস্থা রাখার দিকেই তাই ঝোঁক সাকিবের, ‘আমরা যখন দেশে খেলি, তখন পেসারদের খুব বেশি ব্যবহার করি না। কারণ এখন আমরা জেতার কথা চিন্তা করি। আগে যখন খেলেছি, তখন আমরা সব সময় দুজন পেসার খেলিয়েছি। তখন আমরা সেভাবে সাফল্য পাইনি। সে কারণেই আমরা পরিকল্পনা বদলেছি। আমার মনে হয় না এতে কোনো ভুল আছে।’

আফগানদের বিপক্ষে অবশ্য সেটি ভুল প্রমাণিত হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা হলেও থাকছে। আছে পাল্টা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও। তবে সেই ঝুঁকিমুক্তির ছক না কেটে নিশ্চয়ই ঝুঁকি নিচ্ছে না সবুজ-সজীব সাফল্যের খোঁজে থাকা বাংলাদেশও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা