kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাপায় প্রকাশ্য বিরোধ

কাদেরকে আটকাতে স্পিকারকে পাল্টা চিঠি রওশনের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাদেরকে আটকাতে স্পিকারকে পাল্টা চিঠি রওশনের

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে সংগঠনটিতে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করে গত মঙ্গলবার বিকেলে একটি চিঠি দেওয়া হয় স্পিকারকে। এ খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে রওশন এরশাদ গতকাল বুধবার স্পিকারকে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন।

জাপায় জি এম কাদের ও রওশনের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। তবে তা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর। এরশাদের মৃত্যুর পর জি এম কাদের অবশ্য রওশনের বাসায় গিয়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। দুজন একটি সমঝোতায়ও পৌঁছান। তবে রংপুর উপনির্বাচন ও বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনের ইস্যুতে সেই সমঝোতা ভেস্তে গিয়ে বিরোধ আরো প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে।

জাপার চেয়ারম্যান পদ নিয়ে রওশন এরশাদ প্রথম প্রশ্ন তোলেন গত ২৩ জুলাই, গণমাধ্যমে দেওয়া এক চিঠির মাধ্যমে। ওই সময় জি এম কাদের এটিকে উড়োচিঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর গত ৩১ আগস্ট এরশাদের চেহলাম অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ছেলে সাদকে নিয়ে রংপুরে যান রওশন এরশাদ। ওই সময় কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রওশন বলেন, ‘সম্মেলনেই সিদ্ধান্ত হবে জাপার চেয়ারম্যান কে।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে স্পিকারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। কাজী ফিরোজ রশীদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলটি চিঠিটি পৌঁছে দেয়। একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির ২৫ জন সদস্যের মধ্যে ১৫ জন জি এম কাদেরের পক্ষে আছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ওই চিঠি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ রওশন গতকাল গুলশানে নিজের বাসায় অনুসারীদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, ফকরুল ইমাম, লিয়াকত হোসেন খোকা ও রওশন আরা মান্নান। পরে বিকেলে তিনি স্পিকারকে পাল্টা চিঠি দেন। রওশনের ওই চিঠি স্পিকারের দপ্তরে পৌঁছে দেন জাপার সংসদ সদস্য ফকরুল ইমাম। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রওশন আজ বৃহস্পতিবার গুলশানের বাসায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।

স্পিকারকে দেওয়া রওশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, জি এম কাদেরকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া চিঠি বিধিসম্মত হয়নি। তাঁকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু এ ব্যাপারে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এমপিদের নিয়ে বসিনি; দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বসেছিলাম রওশন এরশাদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মপন্থা ঠিক করতে। সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য নয়।’

জি এম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া পত্রের সঙ্গে সম্মতিপত্র দেওয়া ১৫ জন এমপি হলেন—মশিউর রহমান রাঙ্গা, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, কাজী ফিরোজ রশিদ, অধ্যাপিকা মাসুদা রশিদ চৌধুরী, লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, গোলাম কিবরিয়া টিপু, নুরুল ইসলাম তালুকদার, সালমা ইসলাম, পনির উদ্দিন আহমেদ, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, নাজমা আকতার, শরিফুল ইসলাম জিন্না, মেজর (অব.) রানা, মোহাম্মদ সোহেল ও আদেলুর রহমান।

রওশনের বাসায় গতকালের বৈঠক থেকে জি এম কাদেরকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে জাপা ফের ভাঙনের মুখে পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘এ নিয়ে বিরোধের কী আছে? জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট বলা আছে যে—বেশির ভাগ সংসদ সদস্য যাঁর পক্ষে তিনি নেতা হবেন। দলের ২৫ জন এমপির মধ্যে ১৫ জনই জি এম কাদেরের পক্ষে। সুতরাং তিনিই নেতা হবেন এটা স্বাভাবিক। সে কারণে আমাদের দেওয়া চিঠি গঠতন্ত্রবিরোধী হয়নি।’ অন্যদিকে রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত সংসদ সদস্য ফকরুল ইমাম বলেন, ‘জি এম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করে চিঠি দেওয়া বিধিসম্মত হয়নি। এ কারণে কোনো পদক্ষেপ না নিতে স্পিকারকে রওশন এরশাদ চিঠি দিয়েছেন। বিধান হচ্ছে—জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সভায় এ নিয়ে আলোচনা হতে হবে এবং পরিপূর্ণভাবে এজেন্ডা দিয়ে বৈঠক আহ্বান করতে হবে। এটা দলের গঠনতন্ত্রেও বলা আছে। অথচ তার কিছুই করা হয়নি। গোপনে একটি চিঠি স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে। এটা গঠতন্ত্রের বরখেলাপ।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা