kalerkantho

বিআরটিএতে ঘুষ বাণিজ্যের চক্র

ভুয়া নথিতে বিলাসী গাড়ি

পার্থ সারথি দাস ও ফারজানা লাবনী   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



ভুয়া নথিতে বিলাসী গাড়ি

আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও করদাতার পরিচিতি নম্বর ব্যবহার না করে ও ভুয়া কাগজপত্রে নিবন্ধন নিয়েই বিএমডাব্লিউ, আউডি, জাগুয়ারসহ বিভিন্ন দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গাড়ি আমদানিকারক থেকে শুরু করে বিআরটিএর কর্মকর্তা-দালালদের তৈরি করা চক্রের মাধ্যমে এই নিবন্ধনপ্রক্রিয়া চলে।

দফায় দফায় চিঠি দেওয়ার পরও বিআরটিএ এ ধরনের বিলাসবহুল গাড়ির তালিকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের কাছে দিতে চায়নি। সর্বশেষ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললে বিআরটিএ ৮৯১টি বিলাসবহুল গাড়ির তালিকা এনবিআরকে দিয়েছে। তালিকায় ২৫৭টি গাড়ির নিবন্ধনই দেওয়া হয়েছে করদাতার পরিচিতি নম্বর ছাড়া। এসব গাড়ির দাম এক কোটি থেকে ১০ কোটি বা এর চেয়েও বেশি।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় কমপক্ষে ৫০ হাজার বিলাসবহুল গাড়ি আছে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এর বড় অংশই ভুয়া নথিপত্রে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে এভাবে নিবন্ধন নিয়েছে গাড়ির মালিকরা। এনবিআর কর্মকর্তারা তদন্তে আরো জেনেছেন, কিছু গাড়ির নিবন্ধনে টিআইএন দেওয়া হলেও আয়কর রিটার্নে তা উল্লেখ করা হয়নি। তাঁরা বলছেন, এতে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কমপক্ষে ১১৭ কোটি টাকা।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, বিআরটিএর নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মোটরযানের নিবন্ধনের আবেদন করতে হয়। বিআরটিএ কার্যালয় আবেদন ও সংযুক্ত দালিলগুলো যাচাই-বাছাই করে সঠিক পেলে গ্রাহককে নিবন্ধন ফি জমা দিতে অ্যাসেসমেন্ট স্লিপ দেয়। তা জমা হওয়ার পর পরিদর্শনের জন্য গাড়ি বিআরটিএ কার্যালয়ে হাজির করতে হয়। গাড়ি পরিদর্শনের পর মালিকানা ও গাড়িসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিআরটিএ ইনফরমেশন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) নিবন্ধনের অনুমোদন দেন। নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স টোকেন প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরসহ গ্রাহককে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই টিআইএন সার্টিফিকেট ও অগ্রিম/অনুমিত আয়কর প্রদানের প্রমাণপত্রও লাগে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিআরটিএর ঢাকার মিরপুর, ইকুরিয়া; বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, ঝালকাঠি, নেত্রকোনা, পটুয়াখালী, জামালপুর, খাগড়াছড়ি, ফেনী ও কক্সবাজার কার্যালয় থেকে গাড়ির নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে ভুয়া নথিপত্রে। তদন্তে বের হয়ে আসছে ভুয়া নিবন্ধনে জড়িতদের অনেকের নাম-পরিচয়। যেমন শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের ব্যবহার করা একটি রেঞ্জ রোভার গাড়ি ২০১৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে আটক করেছিলেন শুল্ক গোয়েন্দারা। ওই গাড়ি (ভোলা ঘ ১১-০০-৩৫) ভুয়া আমদানি দলিলাদি দিয়ে নিবন্ধন নেওয়া হয়েছিল বিআরটিএ ভোলা কার্যালয় থেকে। এ ঘটনায় বিআরটিএ ভোলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) আইয়ুব আনছারীকে ওই কার্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিছুদিন পর তিনি প্রভাব খাটিয়ে বরিশাল বিভাগে বিআরটিএর ঝালকাঠি সার্কেল কার্যালয়ে বদলি হন। অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএর বিভিন্ন কার্যালয়ে বিলাসী গাড়ি অবৈধ নিবন্ধনে ঘুষ লেনদেনের তিনি অন্যতম হোতা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ সার্কেল অফিস থেকে ২০০২ থেকে ২০০৫ সালে ২১ হাজার ৮০৬টি ড্রাইভিং লাইসেন্সের নথি গায়েব করেছিলেন তখনকার সহকারী পরিচালক কাজী মাহবুবুর রহমান। ২০০১-০৭ সালে ঢাকা দক্ষিণের ইকুরিয়া অফিস থেকে এক হাজার ৬৪৪টি গাড়ি নিবন্ধনের নথি উধাও করেন ১০ জন কর্মকর্তা। উভয় ঘটনায় কর ও ফির টাকা নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। ইকুরিয়া বিআরটিএতে দুর্নীতির ঘটনায় জড়িত ১০ জনের মধ্যে ওই কার্যালয়ে তখন কারিগরি সহকারী হিসেবে কর্মরত আইয়ুব আনছারীও ছিলেন। কালের কণ্ঠে ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত ‘সরকারের টাকা পকেটে পুরে নথি গায়েব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আইয়ুব আনছারীর দুর্নীতির বিষয়টি উঠে এসেছিল। বিআরটিএ নিজেই তদন্ত করে ওই দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছিল। বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, আইয়ুব আনছারীদের মতো বিআরটিএর ১২টি কার্যালয়ে কমপক্ষে ২৪ জন কর্মকর্তা ভুয়া নথিপত্রে গাড়ির নিবন্ধন করছেন।

জানা যায়, মুসা বিন শমসেরের গাড়িটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের বিল অব এন্ট্রি-১০৪৫৯১১, তারিখ ১৩/১২/২০১১-এ ১৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে ভোলা বিআরটিএ থেকে নিবন্ধন করা হয়। নিবন্ধন নথিতে গাড়ির রং সাদা উল্লেখ থাকলেও উদ্ধার করা গাড়িটি কালো রঙের ছিল। নথিপত্র যাচাইয়ে এই বিল অব এন্ট্রি ভুয়া প্রমাণ পায় শুল্ক গোয়েন্দারা। 

বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (প্রকৌশল) লোকমান হোসেন মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাইভেট কার বা জিপের মতো গাড়ি নিবন্ধনে করদাতার পরিচিতিমূলক নম্বর (টিআইএন) অবশ্যই লাগে। তা না থাকার পরও গাড়ি নিবন্ধন করলে তা অন্যায় করা হয়েছে। মুসার গাড়ির ভুয়া নিবন্ধনে জড়িত আইয়ুব আনছারী বর্তমানে বরিশাল অঞ্চলে বিআরটিএর কোথাও কর্মরত বলে তিনি স্বীকার করেন।

এনবিআর বিআরটিএ থেকে যে ৮৯১টি বিলাসী গাড়ির তালিকা পেয়েছে তার মধ্যে বিএমডাব্লিউ গাড়িই বেশি। এনবিআর জানায়, এ খাতে শুল্ককর মিলিয়ে ধার্য করা আছে সর্বোচ্চ ৮২২ শতাংশ। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, টিআইএন নম্বর ছাড়া ও জাল নথিপত্রে গাড়ি নিবন্ধনের ঘটনায় গাড়ির মালিক একা নন, সিন্ডিকেট জড়িত। তদন্তে তা আগেও ধরা পড়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর কোটি টাকা বা তারও বেশি দামের গাড়ির নিবন্ধন নম্বর, নিবন্ধনের তারিখ, ম্যানুফ্যাকচারের বছর, ব্র্যান্ডের নাম, ইঞ্জিন নম্বর, চেচিস নম্বর, ব্যবহারকারীর টিআইএন, নাম, ঠিকানা, গাড়ি বিক্রেতার নাম, ঠিকানার তথ্য চেয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যানের কাছে প্রথম দফা চিঠি পাঠানো হয়। এ চিঠির কোনো জবাব দেয়নি বিআরটিএ। পরে গত ১৬ জানুয়ারি এনবিআর থেকে দ্বিতীয় দফা চিঠি পাঠানো হয়। তাতেও বিআরটিএ জবাব দেয়নি। শেষে গত ২৬ মে আবারও চিঠি পাঠানো হয় এনবিআর থেকে। এতে ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি যেমন—বিএমডাব্লিউ, ভলবো, মার্সিডিজ বেঞ্জ, আউডি, লেক্সাস, জাগুয়ার, হ্যামার, প্রাডো, পেট্রল টারবো ওয়াগন, ডিসকভারি, হ্যারিয়ারের মতো ব্র্যান্ডের গাড়ির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। তথ্য না পাঠালে বিআরটিএর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়। এই পর্যায়ে তথ্য পাঠায় বিআরটিএ। তবে তাতে সব তথ্য ছিল না। এনবিআর আবার সম্পূর্ণ তথ্যসহ প্রতিবেদন পাঠাতে অনুরোধ করে। এরপর কয়েক দিন আগে ৮৯১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা এনবিআরে পাঠানো হয়। 

এনবিআরের কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কয়েক দফা চিঠি দেওয়ার পর বিআরটিএর কাছ থেকে নামিদামি গাড়ির মালিক ও তাদের গাড়ির তথ্য পেয়েছি। কোটি কোটি টাকার গাড়ি নিবন্ধন হবে অথচ সেখানে টিআইএন থাকবে না—তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। আমরা গাড়ির মালিকের ঠিকানায় পৌঁছে যাব। তদন্ত করে দেখা হবে, যে ব্যক্তি কোটি টাকা দামের এসব গাড়ি ব্যবহার করছে তার প্রকৃত আয় কত, ব্যাংকে কী পরিমাণ অর্থ আছে, কী পরিমাণ সম্পদের মালিক সে। কেন এবং কিভাবে টিআইএন ছাড়া গাড়ি নিবন্ধন করছেন তিনি। বিআরটিএ কিভাবে নিবন্ধন দিয়েছে, তাও আমরা দেখব।’

জানা গেছে, এনবিআর এসব গাড়ির তালিকা সংশ্লিষ্ট সব কর অঞ্চলে পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল থেকে গাড়ির মালিকদের আয়কর নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

টিআইএন ছাড়া নিবন্ধিত গাড়ির মধ্যে ঢাকা মেট্রো-গ ২২-২৫০৭ নম্বরের আউডি গাড়িটি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ভুঁইয়া সেন্টার, ৬৮ দিলকুশা, ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রো-গ ২২-২৮৭৬ আউডি গাড়ি মশিউর হোসেন উদয়ের নামে ৩৪ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, আউয়াল সেন্টার, ১২ তলা, বনানী ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধন করা হয়েছে। একই ব্র্যান্ডের ঢাকা মেট্রো ঘ ৩৭-৪০৪৬ নম্বরের গাড়ি ২০১৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সায়মা রাশেদুর রহমান ও ওহেদুর রহমান শিশিরের নামে ঢাকার ১৬ ললিত মোহন দাশ লেন ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধন করা হয়। ঢাকা মেট্রো-খ ১৫-০২৪০ নম্বরের আউডি গাড়ি নিবন্ধন নেওয়া হয় ২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার ধানমণ্ডির গ্রিন রোডের একটি ঠিকানায়। ভোলা খ ১১-০০০৪ নম্বরের আউডি গাড়ি নিবন্ধন হয় ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর ঢাকার খিলগাঁওয়ের ২৭১ নম্বর বাসার ঠিকানায়। চট্ট মেট্রো-গ-১২৭৪৭৫ নম্বরের গাড়িটি নিবন্ধন করা হয় ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর ঢাকার সোনারগাঁও রোডের সোনারতরী টাওয়ারের ঠিকানা ব্যবহার করে।  

টিআইএন ছাড়াই গাড়ি নিবন্ধন করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে, আরলা ফুড বাংলাদেশ লি., ঠিকানা কটন হাউস (১৭ তলা), বাড়ি নম্বর ২, রোড নম্বর ১১৩/এ, গুলশান ২। ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিএমডাব্লিউ ব্র্যান্ডের গাড়ি নিবন্ধন দেওয়া হয় এ প্রতিষ্ঠানের নামে। একই ব্র্যান্ডের ঢাকা মেট্রো ঘ-৩৩-৯৫১৫ গাড়ি ২০১৮ সালের ৪ অক্টেবর নিবন্ধন হয় সান ইয়ার্ড পলি ভিনাইল ইন্ডাস্ট্রিজের নামে। এ ক্ষেত্রে ঠিকানা দেওয়া হয় বাড়ি ২১, রোড ৪, সেকশন ৩, উত্তরা। 

এনবিআরের তদন্তে বের হয়েছে, গাড়ি নিবন্ধনের সময়ে টিআইএন উল্লেখ করলেও আয়কর রিটার্নে গাড়ির কথা উল্লেখ করেনি এমন মালিকও আছে। যেমন ১৩৩৩৬৩১৪৭৯৮৮ ইটিআইএন আছে এমন করদাতা তার বিলাসবহুল গাড়ির কথা আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেনি।

বারভিডার সাবেক সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন কালের কণ্ঠকে বলেন, আইন-কানুন মেনে যেকোনো গাড়ি নিবন্ধন করতে হলে অবশ্যই ইটিআইএন জমা দিতে হবে। এ ছাড়া কিভাবে গাড়ি নিবন্ধন হয়? ইটিআইএন ছাড়া নিবন্ধন করার মানে হলো রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া এবং নিজের সম্পদের হিসাব গোপন রাখা।

বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে বিআরটিএ : বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেন, ‘আইয়ুব আনছারীর বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া যেসব জেলায় গাড়ি নিবন্ধনে দুর্নীতি হয়েছে তার তালিকা ধরে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব।’

এনবিআর সদস্য  মো. মেফতাহ উদ্দিন খান বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই কোটি কোটি টাকা দামের গাড়ি নিবন্ধনের সময়ে ইটিআইএন জমা দেয়নি অনেকে। ইটিআইএন ছাড়া গাড়ি নিবন্ধন করা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে গাড়ির মালিক যেমন দায়ী, যে বা যাঁরা নিবন্ধন দিয়েছেন, তিনি বা তাঁরাও দায়ী।

সিন্ডিকেটের কথা স্বীকার করলেন আনছারী

বিআরটিএ ঝালকাঠি কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক আইয়ুব আনছারী গতকাল ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। কারণ এর আগের দিন মঙ্গলবার দুদকের বরিশালের একটি দল ঝালকাঠি বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে আনছারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর উচ্চপর্যায়ে তদবির করতে তিনি ঢাকায় আসেন। কালের কণ্ঠ’র প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মুসা বিন শমসেরের গাড়ি নিবন্ধনে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ভোলা থেকে আমাকে সাসপেন্ড করে প্রধান কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মামলাটি এখনো চলছে। ইকুরিয়া কার্যালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আমি পরে রেহাই পাই। গাড়ি নিবন্ধনে সিন্ডিকেট আছে, তবে আমি জড়িত নই।’ তিনি জানান, পাঁচ মাস আগে তাঁকে ঝালকাঠিতে বদলি করা হয়। তাঁর বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ডেবরা গ্রামে।

 

 

মন্তব্য