kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বাভাবিক হয়ে আসছে হাসপাতালগুলো

২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৭৮৩ আরো ৩ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



স্বাভাবিক হয়ে আসছে হাসপাতালগুলো

আতঙ্ক ছড়ানো ডেঙ্গুর প্রকোপ কমলেও আক্রান্ত হয়ে এখনো ভর্তি হচ্ছে রোগী। গতকাল রাজধানীর শিশু হাসপাতাল থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কমে আসায় হাসপাতালগুলোও স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করেছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে গড়ে তোলা বিশেষ সেলে ভিড় কমতে শুরু করেছে। এমনকি কোনো কোনো সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় বর্ধিত শয্যাও খালি হতে শুরু করেছে। বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ কমে এসেছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে মাত্র ৯২ জন। আর ঢাকার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ১২টি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৫২ জন। যা গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে আগস্টের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কয়েক গুণ বেশি ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসছে। সেই সঙ্গে সারা দেশে মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক কমে আসছে। তবু আমরা ডেঙ্গুর ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাব। কারণ এখনো সামনে চলতি মাসে তুলনামূলক কম হলেও ঝুঁকির মধ্যেই থাকতে হবে।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মামুন মোর্শেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের যে অতিরিক্ত ভিড় হয়েছিল এই হাসপাতালে তা এখন আর নেই। বরং নির্ধারিত বেড খালিও হতে শুরু করেছে। এটা খুবই ভালো লক্ষণ ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে। তবু আমরা চিকিৎসার ধারা অব্যাহত রাখছি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৭৮৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। অন্যদিকে ওই একই সময়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছে ৯৬৮ জন। এ ছাড়া বেসরকারি হিসেবে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ভর্তি হয়েছে ৩৪৪ জন ও ঢাকার বাইরে ৪৩৯ জন। এর মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬৪ জন। সমসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে মিটফোর্ড হাসপাতালেও। অন্য হাসপাতালগুলোর মধ্যে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৫, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩৪, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ছয় ও কুর্মিটোলা হাসপাতালে ১৬ উল্লেখযোগ্য। একই সময়ে ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৫ জন। আর বিভাগ হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছে খুলনা বিভাগে ১০৭ জন। জেলা হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছে যশোরে ৪৫ জন। অন্যদিকে ঢাকায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছে ১০ জন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে।

গত ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭২ হাজার ৭৪৫ জন। এ সময়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছে ৬৮ হাজার ৮১১ জন। গতকাল সকাল পর্যন্ত মোট ভর্তি ছিল তিন হাজার ৭৪৬ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে দুই হাজার ১১১ জন ও ঢাকার বাইরে এক হাজার ৬৩৫ জন। এ ছাড়া ১৮৮টি মৃত্যু তথ্যের পর আর কোনো নতুন তথ্য আসেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমে। এর মধ্যে ৯৬টি মৃত্যু তথ্য পর্যালোচনার পর আর কোনো পর্যালোচনা গত তিন দিনে সম্পন্ন হয়নি। ফলে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার সংখ্যা ৫৭ বহাল ছিল।

আরো তিনজনের মৃত্যু : আমাদের যশোর অফিস থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল ভোরে যশোরের বেসরকারি কুইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহজাহান আলী মাস্টার (৭০) নামের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মারা যাওয়ার ছয় ঘণ্টা আগে ওই রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আগে থেকেই তিনি কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিয়েও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সোমবার রাতে খুলনার গাজী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতক্ষীরার কলোয়ার উপজেলার গৃহবধূ রহিমা বেগম (৫০) মারা যান। স্বজনরা জানায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমে তাঁকে সাতক্ষীরার সিবি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে নেওয়া হয়েছিল খুলনার গাজী হাসপাতালে। তাঁর স্বামী ইয়াসিন আলীও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, চট্টগ্রামে বিপ্লব দাস (২৫) নামে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বিপ্লব দাস চন্দনাইশ থানার দোহাজারী এলাকার সন্তোষ দাসের ছেলে।

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর আগে নগরের পার্কভিউ হাসপাতালে বাদশা মোল্লা (৫৫) মারা যান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিপ্লব দাস নামে এক যুবককে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই যুবক ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শিশু রোগী ১৭ জন এবং বাকি ৮৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা