kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খালেদার মত ছাড়া জোট ছাড়ছে না জামায়াত

এনাম আবেদীন   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খালেদার মত ছাড়া জোট ছাড়ছে না জামায়াত

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মত না নিয়ে ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যাচ্ছে না জামায়াতে ইসলামী। জোটমুখী তৎপরতা কমে গেলেও এ বিষয়ে দলটি নিজেরা অবস্থান স্পষ্ট করবে না। তবে খালেদা জিয়া জোট ভাঙার ঘোষণা দিলেই কেবল বিএনপির সঙ্গ ছাড়বে দলটি। জামায়াতের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে দলটির এমন অবস্থানের কথা জানা গেছে।

সূত্র মতে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার কোনো বৈঠকেই জোট ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্তত দুজন সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেছেন, জামায়াত জোট করেছে খালেদা জিয়ার সঙ্গে। তিনি এখন কারাগারে। ফলে তাঁর নির্দেশনা ছাড়া জামায়াত কোনো অবস্থান গ্রহণ করবে না।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চারদলীয় জোট (পরে ২০ দল) গঠনকারী চার নেতার মধ্যে তিনজন মারা গেছেন।

এখন বেঁচে আছেন কেবল জোটনেত্রী খালেদা জিয়া। সুতরাং জোট থাকা না থাকার প্রশ্নে তাঁর চিন্তা ও মতামত গুরুত্ব পাবে এটি স্বাভাবিক।’ তা ছাড়া এই জোট দেশের মানুষের কল্যাণে গঠিত হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলো যত দিন পর্যন্ত অনুভব করবে তত দিন পর্যন্ত এই জোট থাকবে।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার আরেক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সম্পর্ক খারাপ হলে ২২টি আসনে ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচন করার সুযোগ জামায়াত পেত না।’

২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০ দলীয় জোট আছে, জামায়াতও আছে। ভবিষ্যতেও এই জোট থাকবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরে নানা কারণে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হচ্ছে না। শিগগিরই বৈঠক ডাকা হবে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০ দলীয় জোট টিকে আছে। এই জোট ভাঙার কোনো আশঙ্কা নেই।’ তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ নির্বাচনেও আমরা অংশ নিয়েছি জোটগতভাবে। এ অবস্থানের এখনো বদল হয়নি। ভবিষ্যতে কী হবে সেটি সময় বলে দেবে।’ 

১৯৯৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জামায়াতের তখনকার আমির গোলাম আযম এবং ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বে চারদলীয় জোট গড়ে উঠেছিল। এদের মধ্যে খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি তিনজনই মারা গেছেন। এরশাদ জোট ছেড়ে চলে যাওয়ার পর জাতীয় পার্টির তৎকালীন মহাসচিব নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে একাংশ চারদলীয় জোট টিকিয়ে রাখে। মঞ্জুও প্রয়াত। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল চারদলীয় জোট ১৮ দলে এবং ২০১৪ সালের ২৮ জুন ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়।

তবে গঠনের ২০ বছর পর এখন সবচেয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে জোটের। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর ২০ দলীয় জোটের কার্যকর কোনো বৈঠক হয়নি। সর্বশেষ গত ২৪ জুন জোটের বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব ছিল না। আবার এলডিপির সভাপতি অলি আহমদের নেতৃত্বে গঠিত ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চে’র কর্মসূচি পালনেও জামায়াত নেপথ্যে থেকে ভূমিকা পালন করছে বলে বিএনপির কাছে তথ্য আছে। অলি আহমদ নিজেও জামায়াতের পক্ষে সরব হয়েছেন। তবে গত ২৭ জুন জাতীয় মুক্তি মঞ্চ নামে আলাদা একটি প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দিয়েও ২০ দলীয় জোট ছাড়েননি অলি। একইভাবে জামায়াতও অলিকে দূর থেকে সমর্থন দিলেও জোট ত্যাগের ঘোষণা দেয়নি।

দলীয় সূত্রের দাবি, জামায়াত মনে করে বিএনপিকে ছেড়ে অলির সঙ্গে প্রকাশ্যে নেমে খুব বেশি লাভ নেই। তবে অলি আহমদ জামায়াতের পক্ষে কথা বললে সেটি তাদের দলের জন্য বেশ ইতিবাচক। তাই দূর থেকে মুক্তি মঞ্চকে তারা কিছুটা সমর্থন করছে।

এদিকে দলগতভাবে বিএনপিও জামায়াতকে জোট থেকে বের করে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে না। বরং ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ২২টি আসনে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি দলটিকে তারা ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছে। যদিও এই ইস্যুতে প্রভাবশালী একটি দেশের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব আরো বেড়েছে বলে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ মনে করেন। তবে ওই দেশটির সঙ্গে আরো বেশ কিছু ইস্যু এবং দেশি-বিদেশি নানা সমীকরণের কারণেও সমঝোতা আটকে আছে। আবার বিএনপি ছেড়ে দিলে সরকার জামায়াতকে নিয়ে ‘রাজনীতি’ করবে এমন ভাবনাও কাজ করছে বিএনপিতে। ফলে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়লে এখনই ফল পাওয়া যাবে এমন সিদ্ধান্তে বিএনপি আসতে পারছে না। 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা