kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশেষজ্ঞ মত

ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বিলাসী ব্যয় কমাতে হবে

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বিলাসী ব্যয় কমাতে হবে

মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঞ্চয়ের হার বেশি। তাই সঞ্চয় বাড়াতে হলে এ শ্রেণির মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। কারণ যারা ব্যবসায়ী তারা সঞ্চয় করে কম, বিনিয়োগ করে বেশি। তাই ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সব ধরনের আমানতের সুদহার ৬ শতাংশে বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এতে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে উৎসাহ হারাবে। কারণ এই সুদের ওপরও কর কাটা হবে। তখন আমানতের সুদহারের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার হিসাবে নিলে প্রকৃত মুনাফা বলে কিছুই থাকবে না।

কাজেই ঋণের সুদহার কমাতে আমানতের সুদহার বেঁধে দেওয়া ঠিক হবে না। এর পরিবর্তে ব্যাংকগুলোকে উচ্চ মুনাফার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। পরিচালন ব্যয় ও বিলাসী খরচের লাগাম টানতে হবে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রে উেস কর বাড়ানোর সিদ্ধান্তও সঠিক হয়নি। যাদের জন্য এই সঞ্চয় প্রকল্প, তারা আসলে কতটুকু সুবিধাভোগী, তারা আসলে কত টাকাই বা মুনাফা পায়! কর বাড়ার ফলে তাদের মুনাফা তো এখন কমবে। তাই এগুলো সবই নেতিবাচক সিদ্ধান্ত। আবার করপোরেট করের হারও বেশি। এতে প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয়ও নিরুৎসাহ হচ্ছে। ফলে কী করে আপনি জাতীয় সঞ্চয়ের হার বৃদ্ধি করবেন। এ থেকে বোঝা যায় সরকারের নীতিগুলো সম্পূর্ণভাবে সঞ্চয়ের পরিপন্থী। অর্থাৎ মানুষকে সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করার ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। তাই সঞ্চয় বাড়াতে হলে সাধারণ ও স্বল্প আয়ের মানুষের উপযোগী নীতি গ্রহণ করতে হবে। সঞ্চয়ের পরিধি ও ইনস্ট্রুমেন্ট বাড়াতে হবে। সেকেন্ডারি বন্ড মার্কেট গতিশীল করা যেতে পারে।

সঞ্চয় কমে গেলে বিনিয়োগের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ বিনিয়োগের জন্য যে মূলধনের প্রয়োজন সেটি সঞ্চয় থেকেই আসবে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ : সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা