kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রংপুর-৩ উপনির্বাচন

জল্পনাকল্পনা নিয়েও রাজনীতির মাঠ চাঙ্গা

নওশাদ জামিল ও স্বপন চৌধুরী, রংপুর থেকে   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জল্পনাকল্পনা নিয়েও রাজনীতির মাঠ চাঙ্গা

আসন্ন উপনির্বাচন ঘিরে এখন বেশ চাঙ্গা রংপুরের রাজনীতি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতির কারণে রাজনীতির মাঠ প্রাণবন্ত। চাপে থাকা বিএনপিও চাচ্ছে ঘুরে দাঁড়াতে। উপনির্বাচনে অংশ নিতে দলটি জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছোট দলগুলোও পিছিয়ে নেই। শক্তির দিক থেকে আকাশ-পাতাল ফারাক থাকলেও তারাও বড় স্বপ্ন দেখছে। রাজনীতি বিশ্লেষকরা একে রংপুরের রাজনীতির জন্যই শুভবার্তা হিসেবে দেখছেন।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৫ অক্টোবর। গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে।

গতকাল দিনভর রংপুর শহরের নানা জায়গা ঘুরে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপনির্বাচন ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা আর রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে রংপুরের রাজনীতি পুরোপুরি চনমনে। রংপুরে একসময় দাপুটে ছিল জাতীয় পার্টি, এখন অবশ্য তাদের রমরমা দিন নেই। সেখানে আওয়ামী লীগ ক্রমান্বয়ে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াচ্ছে। বিএনপি, জামায়াত তেমন শক্তিশালী না হলেও তাদেরও ভোটার রয়েছে। ছোটখাটো দলগুলো মাঠে থাকলেও তাদের তেমন প্রভাব নেই। বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজনীতির মাঠে নিয়মিত দেখা যায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলকে (বাসদ)। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলও (জাসদ) মাঝে-মধ্যে কর্মসূচি পালন করে। এ ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্য দলগুলোও মাঝেমধ্যে জানান দেয় তাদের উপস্থিতি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মামলা-গ্রেপ্তার আতঙ্ক এবং বিভিন্ন ধরনের বাধা থাকলেও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে দলটি। উপনির্বাচন ঘিরে দলের একাধিক নেতা মনোনয়নের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

রংপুর শহরের গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে বিএনপির কার্যালয়। দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল এখানে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। কার্যালয়ের সামনে ও চারদিকে পুলিশের কড়া পাহারা থাকলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে।

কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন দলের রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রইছ আহমেদ। আসন্ন উপনির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বরাবরই নির্বাচনমুখী দল। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আমাদের ধরেবেঁধে হারিয়ে দিলেও আমরা বগুড়ার উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সেখানে বিজয়ী হয়েছি। রংপুরের নির্বাচনেও অংশ নিতে আগ্রহী বিএনপি।’

রংপুর শহরের সর্বত্রই এখন শোভা পাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিলবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অন্তত ২০ নেতার ছবিসংবলিত পোস্টার ছড়িয়ে আছে শহরের আনাচে-কানাচে। ফাঁকে ফাঁকে চোখে পড়ে বিএনপির একাধিক নেতার প্রচারণা। রাজনীতির মাঠ দখল রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। বিএনপিও চাচ্ছে মাঠ দখল করতে।

তবে বিএনপির অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসনের বাধায় দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে পারছে না। দলের রংপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টিতেই বিএনপির কমিটি রয়েছে। পুলিশের বাধার কারণে বাকিগুলোতে আমরা কমিটি করতে পারিনি। কিন্তু তার পরও নেতাকর্মীরা হতাশ নয়। আমাদের কার্যক্রম এগিয়েছে ঠিকই। উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার তেমন সম্ভাবনা দেখছি না। যদি সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হয় তাহলে বিএনপির জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শূন্য আসন বগুড়া-৬-এর উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় রংপুরেও দলটির বা এর নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও চায় নির্বাচনে অংশ নিতে। এ অবস্থায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা আশায় বুক বেঁধেছে। কিন্তু তাদের দাবি, বিএনপির মনোনয়ন যেন স্থানীয় কোনো নেতাকে দেওয়া হয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে ২০ দলীয় জোটের শরিক পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের (পিপিবি) চেয়ারম্যান রিটা রহমানকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছিল বিএনপি। তখন দলের স্থানীয় নেতারা তাঁর পক্ষে-বিপক্ষে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে দ্বন্দ্বও ছিল। দল এবার মনোনয়ন দিতে ভুল করবে না এটাই নেতাদের প্রত্যাশা।

দলটির একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনার প্রথম দিকেই রয়েছে মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেনের নাম। অন্য আরো কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও মোজাফফর হোসেনের পক্ষেই সমর্থন বেশি। এ ছাড়া আরো যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন রংপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, বিএনপি নেতা কাওছার জামান বাবলা প্রমুখ।

প্রার্থী হিসেবে মোজাফফর হোসেন সুবিধাজনক স্থানে থাকবেন বলে অনেকেরই অভিমত। কারণ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে, গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে। উপনির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হলে এবং নির্বাচন প্রভাবমুক্ত হলে ভোটের লড়াই বেশ জমবে।

মোজাফফর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। ব্যক্তিগতভাবে আমিও নির্বাচন করতে চাই। যদি মনোনয়ন পাই, এলাকার মানুষ হিসেবে আমার পক্ষে জনরায় থাকবে।’ 

রংপুরের রাজনীতি, সমাজ বিশ্লেষক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘উপনির্বাচন ঘিরে রংপুরের রাজনীতিতে এখন জোয়ারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে চাচ্ছে। আওয়ামী লীগ দিন দিন তার উজ্জ্বলতা বাড়াচ্ছে। জাতীয় পার্টির মধ্যে নানা কোন্দল থাকলেও তারা হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। সব মিলিয়ে এটা রংপুরের রাজনীতির জন্যই শুভবার্তা মনে করি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা