kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পুলিশের ওপর বোমা

বিস্ফোরণ ঘটানো হয় রিমোট কন্ট্রোলে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিস্ফোরণ ঘটানো হয় রিমোট কন্ট্রোলে

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের গাড়িবহরে হামলা চালানো বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে দূর থেকে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে। টার্গেট ছিল বহরের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ।

পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে টার্গেট করে এই বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এ ঘটনার জের ধরে নিরাপত্তা নিয়ে সারা দেশে পুলিশকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। একই সঙ্গে দেশের সব দূতাবাসসহ মন্ত্রীদের চলাচলের ক্ষেত্রে আরো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় গত শনিবারের বোমা বিস্ফোরণসহ গত পাঁচ মাসে তিনটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটল। প্রতিটি ঘটনার আলামত একই ধরনের দাবি করে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পুলিশকে টার্গেট করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে এর নেপথ্যে কোনো জঙ্গি সংগঠন, না অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রয়েছে সে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। আগের ঘটনাগুলোর মতোই শনিবারের ঘটনায়ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) দায় স্বীকার করেছে। তবে পুলিশ প্রশাসন তাত্ক্ষণিক বিষয়টি একই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে নারাজ।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি) ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে ঘটনার ছায়া তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার নিউ মার্কেট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে’ হামলার অভিযোগে বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন সায়েন্স ল্যাবরেটরি পুলিশ বক্সের এসআই জহিরুল ইসলাম।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হামলায় কে বা কারা জড়িত, তা ঘটনার দ্বিতীয় দিনে এসেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল রাজধানীর গুলিস্তানে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা হামলায় ট্রাফিক কনস্টেবল নজরুল ইসলাম ও লিটন এবং কমিউনিটি পুলিশ আশিক আহত হন। এরপর ২৬ মে মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে বোমা হামলায় ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদা আক্তার বাবলী ও রিকশাচালক লাল মিয়া আহত হন। গত ২৩ জুলাই রাতে পল্টন মোড় ও খামারবাড়ি পুলিশ বক্সের কাছে ফেলে রাখা বোমা উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ঘটনায় আইএস দায় স্বীকার করলেও প্রকৃতপক্ষে জড়িতদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য মেলেনি।

সিটিটিসির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, আগের ঘটনাগুলোতে দূরনিয়ন্ত্রতি আইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) ব্যবহার করা হয়েছিল। সর্বশেষ শনিবারের ঘটনায়ও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো সাধারণ হাতবোমা বা ককটেল বোমা থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী। 

ডিএমপির কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল নিজ কার্যালয়ে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে এসব হামলার ঘটনায় টার্গেট পুলিশ। ঘটনার পরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তও সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

আইএসের দায় স্বীকার সম্পর্কে ডিএমপির কমিশনার বলেন, ‘এসব বোমা হামলায় জড়িতদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো সংগঠনের আদৌ যোগাযোগ আছে কি না, নাকি অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দায় স্বীকারের এসব প্রচারণা, তা জানার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। অনভিপ্রেত কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর করতে না পারা, পাকিস্তান-আফগানিস্তান বা সিরিয়ার মতো রাষ্ট্র করতে না পারার কারণে একটি গোষ্ঠী পুলিশকে টার্গেট করতে পারে।’

এদিকে পুলিশের ওপর এই হামলার ঘটনা বড় কোনো হামলার ‘টেস্ট কেস’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে যে এটি দূরনিয়ন্ত্রিত (রিমোট কন্ট্রোল চালিত) একটি হামলা। এটি টেস্ট কেস হতে পারে। হয়তো বড় ধরনের কোনো হামলার পরিকল্পনা আছে।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গতকাল সচিবালয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে আইএস বলতে কিছু নেই।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম গাড়িতে করে যাওয়ার সময় তাঁর নিরাপত্তাবহরে দায়িত্বরত পুলিশের ওপর বোমা হামলায় এএসআই শাহাবুদ্দিন ও কনস্টেবল আমিনুল আহত হন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা