kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

রপ্তানির নতুন পণ্য ও নতুন বাজার খুঁজুন

আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসাবান্ধব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রপ্তানির নতুন পণ্য ও নতুন বাজার খুঁজুন

রপ্তানি আরো বাড়াতে নতুন নতুন পণ্য সংযোজন এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের জন্য রপ্তানিকারকদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। ব্যবসায়ীরাই ব্যবসা করবে, তাদের কাজে আমরা সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা করব।’ প্রধানমন্ত্রী নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের প্রতি ব্যবসায়ীদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৬-১৭ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা যে পণ্যগুলো রপ্তানি করছি, সেখানে আপনাদের কাছে আরেকটি অনুরোধ থাকবে, আমাদের নতুন নতুন পণ্য সংযোজন করতে হবে রপ্তানির ক্ষেত্রে। পণ্য সংযোজনের জন্য আমাদের বহুমুখীকরণ করতে হবে। সেই সাথে পৃথিবীর কোন দেশে কোন জাতীয় পণ্যের চাহিদা বেশি সেদিকটায় বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। নতুন পণ্য, নতুন দেশ। এই নতুন দেশে নতুন পণ্য খুঁজে যাতে বের করতে পারি আর রপ্তানি করতে পারি, আমাদের বাজারটা যাতে আরো সম্প্রসারিত হয়, সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাংকে ঋণ নিতে গেলে অনেক উচ্চহারে সুদ দিয়ে ঋণ নিতে হয়, ডাবল ডিজিটে। এরই মধ্যে আমরা নির্দেশ দিয়েছি এটা সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে। কিছু কিছু ব্যাংক মেনেছে, কিছু কিছু ব্যাংক মানেনি এখনো। তবে সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। তাদের যা যা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সেটাও আমরা করে দিচ্ছি। কাজেই এটাকে আমরা সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে চাই।’

ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি, যাতে করে বিনিয়োগটা সহজ হয়।’ তা ছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়ও সহজ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সব কিছু যাতে অটোমেশনের মাধ্যমে হয় সেই পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কাজও করছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘যখনই আমরা বিনিয়োগের কথা বলি, তখন বলি একটা দক্ষ যুবসমাজ আছে। এই যুবসমাজই আমাদের শক্তি। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করলে দেশে ও বিদেশে কাজে লাগবে। সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই এটা বলি, সব সময়ই ব্যবসায়ীদের পাশে আছি। আমরা ব্যবসা করতে আসিনি।’ ব্যবসায়ীদের সব রকম সহযোগিতা দিয়ে দেশ যেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয় সে ব্যবস্থাই সরকার করছে বলে জানান তিনি।

এ সময় এক যুগ আগে দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ ছিল মোট জিডিপির ২৬ শতাংশ। এখন সেটা ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশ। তখন বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এখন সেটা দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কাজেই বুঝতে পারেন বেসরকারি খাতকে আমরা কত সুযোগ-সুবিধা এবং কত রকমের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আমাদের সরকার আসলে ব্যবসাবান্ধব সরকার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে কিন্তু আমাদের অর্থনীতি পরনির্ভরশীল নয়। নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। আমাদের উন্নয়ন বাজেটের ৯০ শতাংশই নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়।’ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা ইয়াসমিন, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে রপ্তানিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২৮টি ক্যাটাগরিতে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ২৯টি স্বর্ণ, ২১টি রৌপ্য এবং ১৬টি ব্রোঞ্জ ট্রফি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড’ টানা ষষ্ঠবারের মতো শ্রেষ্ঠ রপ্তানিকারক হিসেবে ২০১৬-১৭ সালের রপ্তানি স্বর্ণ ট্রফি জয় করে। ‘জাবের অ্যান্ড জুবায়ের লিমিটেড’ ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের জন্য আরো একটি স্বর্ণ ট্রফি লাভ করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা