kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সম্মেলনেই সিদ্ধান্ত হবে জাপার চেয়ারম্যান কে

নওশাদ জামিল   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সম্মেলনেই সিদ্ধান্ত হবে জাপার চেয়ারম্যান কে

রংপুর শহরের দর্শনা মোড়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাস। বাসার পাশেই লিচুবাগানে সমাহিত করা হয়েছে এরশাদকে। গতকাল শনিবার এ বাসার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে এরশাদের চেহলাম ও দোয়া মাহফিল। দুপুরে এরশাদের কবর জিয়ারত করে এবং চেহলামে অংশ নিতে রংপুরে এসেছিলেন সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। দোয়া মাহফিল শেষে পল্লী নিবাসে কালের কণ্ঠকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এরশাদের বিধবা স্ত্রী রওশন এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টিতে চেয়ারম্যান পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব নেই। প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। সুস্থ ও সুন্দর প্রতিযোগিতা গণতন্ত্রেরই অনন্য উদাহরণ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কে হবেন, জাপার কেন্দ্রীয় সম্মেলনেই তার সমাধান হবে। শিগগিরই সেই সম্মেলন হবে।’ 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদেরকে মানছেন কি না জানতে চাইলে রওশন এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির বিপুল কর্মী ও সমর্থক চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকেও চান। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে যাঁরা ভালোবাসেন, আমাকেও তাঁরা বিশেষ পছন্দ করেন। সারা দেশের বিপুল কর্মী ও সমর্থকরা আমাকে ভালোবাসেন। তাঁদের দোয়া ও আশীর্বাদই আমার সম্পদ। ব্যক্তিজীবনে এরশাদ সারা জীবন মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করেছেন। খুব অল্প সময়ে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে গেছেন। এরশাদের স্বপ্নের অনেক কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। তাঁর অসমাপ্ত কাজ আমি এগিয়ে নিতে চাই। এরশাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে, দীর্ঘদিনের রাজনীতির অভিজ্ঞতার আলোকেই জাতীয় পার্টির প্রধান কে হবেন, আমরা তা নিয়ে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেব।’

বিশেষ সাক্ষাৎকারে রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব-কোন্দল, রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে গৃহদাহ, জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎসহ নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন। রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রকাশ্য কোন্দল-কলহ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র রংপুর। রংপুর সদর আসনে নির্বাচনে বরাবরই জয়ী হয়েছেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আমিও এখানে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছি। আসন্ন উপনির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে জাতীয় পার্টিতে কলহ নেই। কোন্দলও নেই। একাধিক প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। শিগগিরই আমরা দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেব উপনির্বাচনে কে দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন।’

এরশাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ রংপুর-৩ সদর আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন কি না জানতে চাইলে রওশন এরশাদ বলেন, ‘এরশাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে জনগণের প্রথম পছন্দ আমাদের ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ। আশা করি, উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে আমার ছেলে মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে জয়ী হবে। এরশাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। অবশ্য আমরা এখনো দলীয় সিদ্ধান্ত নিইনি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেব।’

রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো মিটিং হয়নি জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এখনো কথা হয়নি। আসন্ন উপনির্বাচন দলীয়ভাবে হবে, নাকি মহাজোটের ব্যানারে হবে—সেটি নিয়ে আমরা তাঁর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমরা শিগগিরই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পদ এবং উপনির্বাচন নিয়ে জাপা আবার ভাঙনের মুখে পড়বে কি না জানতে চাইলে রওশন এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ পার্টি। এতে ভাঙনের কোনো আশঙ্কা নেই। যারা জাতীয় পার্টিকে ভাঙতে চায় তারাই নানা গুজব ছড়াচ্ছে। জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নেই। আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্বও নেই। জাতীয় পার্টি এখন আরো শক্তিশালী, পরিণত ও অভিজ্ঞ পার্টি। যারা জাতীয় পার্টি ও পল্লীবন্ধুকে ভালোবাসেনি, যারা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা বিশ্বাস করে না, এখন তারা জাতীয় পার্টিতে বিভেদ খুঁজছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমার সঙ্গে কারো দ্বন্দ্ব নেই। জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করায় জি এম কাদেরের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে। সেটি দ্বন্দ্ব ও কলহ নয়। যখন তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় তখন আমি বলেছি যে জাতীয় পার্টির যথাযথ ফোরামে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সিদ্ধান্ত নিতে হলে জাতীয় পার্টির সম্মেলনেই নিতে হবে। পার্টির গঠনতন্ত্র অনুসারে সম্মেলনেই সিদ্ধান্ত হবে চেয়ারম্যান কে হবেন।’

জাতীয় পার্টি কিংবা এরশাদের জনপ্রিয়তা উত্তরবঙ্গে হ্রাস পাচ্ছে কি না জানতে চাইলে রওশন এরশাদ বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ শুধু নয়, গোটা বাংলাদেশরই জনপ্রিয় নেতা ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মানুষ তাঁকে জান দিয়ে ভালোবাসে। উত্তরবঙ্গের মানুষের সঙ্গে এরশাদের আবেগময় সম্পর্ক, ভালোবাসার সম্পর্ক। রংপুরের সঙ্গে এরশাদের নাড়ির সম্পর্ক। কিন্তু এরশাদকে শুধু রংপুরের নেতা নয়, জাতীয় নেতা হিসেবে দেখতে হবে। মূল্যায়ন করতে হবে। কেননা তিনি সারা বাংলাদেশেই জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। এরশাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে আমি তাঁর স্বপ্নকে ছড়িয়ে দিতে চাই। এরশাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে চাই।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা