kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশেষজ্ঞ মত

অভারতীয় হলেই বলা যাবে না ‘বাংলাদেশি’

এম হুমায়ুন কবির

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভারতীয় হলেই বলা যাবে না ‘বাংলাদেশি’

আসামে নাগরিক তালিকার প্রভাব এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ওপর পড়ার কোনো কারণ দেখছি না। ভারত সরকার ও আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যারা তালিকাভুক্ত হতে পারেনি তাদের সামনে এখনো সুযোগ আছে। তারা ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে’ যেতে পারে। ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের’ মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হতে না পারলে তারা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট—সেই জায়গাগুলোতে যেতে পারে। কাজেই আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের জন্য এখনো সুযোগ আছে। সেই সুযোগ তারা কতটা কাজে লাগাবে বা কাজে লাগাতে পারবে কিংবা কী কী জটিলতা তা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। কাজেই এই মুহূর্তে এবং এই প্রেক্ষাপটে এটি আমাদের বিষয় নয়। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

তবে যেহেতু বিষয়টি অনেকাংশেই রাজনৈতিক এবং ‘বাংলাদেশ থেকে লোকজন ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে’—রাজনৈতিক মহলের এমন বক্তব্যই বেশি করে আলোচিত হচ্ছে; সে দিক থেকে আমরা কিন্তু খানিকটা অস্বস্তি বোধ করি। কারণ যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত না থাকার পরও তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশকে দোষারোপ করাটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আলোকে খুব প্রত্যাশিত নয়। সেটি একটি বিষয়।

দ্বিতীয় বিষয় হলো, এখন বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু লোক যদি আগামী দিনেও তালিকাভুক্ত হতে না পারে তবে তারা কোথায় যাবে, কী করবে সেটিও তো অনিশ্চিত। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট—আমরা এখন যার ভুক্তভোগী, এই সংকটের বিবর্তনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের খানিকটা চিন্তিত হওয়ার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি। তবে এই মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন এ বিষয়টির দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা, পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে আমরা যখন মনে করব তখন ভারতের কাছে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরা।

আসামের কোনো বাসিন্দা নিজেকে ভারতীয় হিসেবে প্রমাণ করতে না পারার অর্থ কিন্তু বাংলাদেশি নয়। আর এটি তারা (ভারত) বলেওনি। শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে এটি বলা হচ্ছে। কিন্তু আইনগতভাবে ওই বাদ পড়া লোকজন যদি ভবিষ্যতে কোনো কারণে তালিকাভুক্ত হতে না পারে তাহলে তারা ‘অভারতীয়’ হবে। সেটি হলে বাংলাদেশেই তাদের আসতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আসামে তো এমন এক হাজারের মতো লোক ‘ডিটেনশন ক্যাম্পে’ আছে। আগামী দিনে যারা নাগরিক তালিকায় নাম ওঠাতে পারবে না, ভারত তাদের ‘ডিটেনশন ক্যাম্পে’ রাখতে পারে বা অন্য কোনো জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের ‘বাংলাদেশি’ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এ ক্ষেত্রে আমাদের বাংলাদেশের অবস্থান হলো, বাংলাদেশ থেকে কেউ অননুমোদিতভাবে ভারতে যায় না। কোনো বাংলাদেশি বেআইনিভাবে ভারতে যায় না। আমার ধারণা, বাংলাদেশ সরকারের এই অবস্থান এই মুহূর্তে পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা নেই। সেই যুক্তিতে তারা সেখানে বেআইনি হলে বা নাগরিক তালিকায় তাদের নাম না থাকলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশে চলে আসবে—এটি আমার মনে হয় না। এ ব্যাপারে আমাদের যতটুকু সাবধানতা, মনযোগ রাখা দরকার সেটুকু আমাদের রাখতে হবে।

লেখক : বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত, বর্তমানে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট

শ্রুতলিখন : মেহেদী হাসান

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা