kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মন্ত্রীর প্রটোকলে থাকা পুলিশের ওপর বোমা

সায়েন্স ল্যাব মোড়ে এ হামলায় দুই পুলিশ আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মন্ত্রীর প্রটোকলে থাকা পুলিশের ওপর বোমা

গত রাতে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় বোমা হামলায় আহত এএসআই ও কনস্টেবলকে উদ্ধার করেন তাঁদের সহকর্মীরা। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে গত রাতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম গাড়িতে করে যাওয়ার সময় বোমা হামলায় তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের এক এএসআই এবং সড়কে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় এলাকায় এ হামলা হয়।

আহত এএসআই শাহাবুদ্দিন (৩৫) ও কনস্টেবল আমিনুলকে (৪০) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শাহাবুদ্দিনের দুই পায়ে এবং আমিনুলের হাতে বোমার স্লিন্টার বিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলার ঘটনার পরপরই ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে পুলিশ।

সূত্র জানায়, ঘটনার সময় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এলিফ্যান্ট রোড দিয়ে ধানমণ্ডি যাওয়ার জন্য সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় পার হচ্ছিলেন। তাঁর গাড়িকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল প্রটোকলের পুলিশের একটি দল। পুলিশের নিরাপত্তা দেওয়া গাড়িটি ছিল মন্ত্রীর গাড়ির পেছনে। সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে যানজট থাকায় নিরাপত্তার গাড়ি থেকে এএসআই শাহাবুদ্দিন নেমে ট্রাফিক কনস্টেবল আমিনুলকে যানজট সরাতে সহায়তা করেন। মন্ত্রীর গাড়ি মোড় পেরিয়ে যাওয়ার সময় আমিনুল নিরাপত্তা রক্ষার গাড়িতে উঠতে যান। ঠিক ওই সময়ই বোমাটি ছুড়ে মারা হয়। পুলিশ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, পাশের ফুট ওভারব্রিজ থেকে বোমাটি ছুড়ে মারা হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কে বা কারা ঘটনা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি জঙ্গি হামলা নাকি অন্য কোনো ঘটনা, সেটা তদন্ত না করে বলা যাবে না।’ বিস্ফোরণের কিছু সময় পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। পরে পুলিশপ্রধান জাবেদ পাটোয়ারীও সেখানে যান। মন্ত্রী তাজুল ইসলাম পরে হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ওই সময় বেশ যানজট ছিল। হঠাৎ বোমা বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। রাস্তায় রক্ত পড়ে থাকে। অন্য পুলিশ সদস্যরা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর আরো পুলিশ এসে ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে মোড়ের পুলিশ বক্সের সামনের বিস্ফোরণ স্থানটি ঘিরে রাখে।

ডিএমপি গণমাধ্যম শাখার উপপুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ককটেলের আঘাতে দুজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল গুলিস্তানে ট্রাফিক পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমার বিস্ফোরণে দুই ট্রাফিক পুলিশ এবং কমিউনিটি পুলিশের এক সদস্য আহত হন। তার আগে ২৬ মে রাতে মালিবাগে এসবি অফিসের সামনে একটি পিকআপে বোমা হামলায় ট্রাফিক পুলিশের এএসআই রাশেদা আক্তার এবং রাস্তায় থাকা রিকশাচালক লাল মিয়া আহত হন।

গত ২৩ জুলাই রাতে সচিবালয়ের পাশে পল্টন মোড়ের পুলিশ বক্স ও মানিক মিয়া এভিনিউয়ের গোল চত্বরের খামারবাড়ি পুলিশ বক্সের পাশ থেকে বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিটি ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) দায় স্বীকার করে। এসব ঘটনায় স্থানীয় জঙ্গিদের সন্দেহ করা হলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির খবর জানা যায়নি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা