kalerkantho

নাগরিকত্ব পেলেই ফিরবে রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর জানাজায় নিহত যুবলীগ নেতা ফারুকের ভাইকে লক্ষ্য করে গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নাগরিকত্ব পেলেই ফিরবে রোহিঙ্গারা

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে গতকাল রবিবার অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা সমবেত হয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও বিশ্বের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে ‘জেনোসাইড দিবস’ পালন করেছে। সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানোর চেষ্টা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। মিয়ানমারের নাগরিকত্ব ছাড়া কেউই কখনো ফিরবে না। নাগরিকত্ব পেলেই সবাই ফিরে যাবে।

এদিকে ‘জেনোসাইড দিবস’ পালনের সময় টেকনাফে অস্ত্রধারী কিছু রোহিঙ্গা গত শনিবার পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত এক রোহিঙ্গার জানাজার নামাজে অংশরত এক স্থানীয়কে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এই হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান গত বৃহস্পতিবার রাতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত যুবলীগ নেতা ওমর ফারুকের ভাই আমির হামজা।

জানা গেছে, যুবলীগ নেতা ফারুকের হত্যা মামলার আসামি দুই রোহিঙ্গা গত শনিবার ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। নিহতদের একজন মোহাম্মদ শাহ’র নামাজে জানাজা গতকাল দুপুরে জাদিমুরা শিবিরের পাশে জুম্মাপাড়া নামক এলাকায় আদায় করা হচ্ছিল। ওই শিবিরের প্রতিবেশী হিসেবে জানাজায় অংশ নিতে যান নিহত ফারুকের ভাই আমির হামজা। ওই জানাজায় ছিল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের একটি দল। তারা আমির হামজাকে দেখে জানাজা নামাজের মধ্যেই গুলিবর্ষণ শুরু করে। সে সময় প্রাণ বাঁচাতে লোকজন দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে।

আমির হামজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একজন মুসলমানের জানাজা হিসেবে আমি সেখানে উপস্থিত হই। আমার ভাইয়ের হত্যাকারীরা আমাকে দেখেই গুলিবর্ষণ শুরু করে। আমি চিৎকার দিয়ে দৌড়াতে থাকি। আমার ভাগ্য ভালো। টহলরত পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।’

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এ প্রসঙ্গে জানান, পরে পুলিশের উপস্থিতিতে জানাজার নামাজ শেষ হয়। সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা জাদিমুরা পাহাড়ের আস্তানায় আশ্রয় নিয়েছে তথ্য পেয়ে সেখানে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা গুলি ছুড়তে ছুড়তে গহিন পাহাড়ে গা ঢাকা দেয়। পুলিশের দল রোহিঙ্গাদের আস্তানার কিছু অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

‘জেনোসাইড দিবস’ পালন

গতকাল সকাল ৯টার দিকে উখিয়ার মধুরছড়া এক্সটেনশন-৪ রোহিঙ্গা শিবিরের খোলা মাঠে রোহিঙ্গারা বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে ‘জেনোসাইড দিবস’ পালন করে। সমাবেশে বক্তব্য দেন ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’র চেয়ারম্যান মুহিব উল্লাহ, মাস্টার আবদুর রহিম, মৌলভী ছৈয়দ উল্লাহ ও রোহিঙ্গা নারী নেত্রী হামিদা বেগমসহ আরো কয়েকজন। বক্তারা ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যা, ধর্ষণসহ বর্বর নির্যাতনের নিন্দা জানান এবং জড়িত সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী মগদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি জানান।

একই সঙ্গে তাঁরা শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্বদেশে ফেরার আকুতি জানান। তাঁরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক মর্যাদাসহ পাঁচ দফা দাবি মানতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান। তাঁদের অন্য চারটি দাবি হচ্ছে গণহত্যার বিচার, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, তাদের সহায়-সম্পদ ও ভিটেবাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা প্রদান।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সমাবেশে অংশ নিতে সকাল থেকে রোহিঙ্গারা দলে দলে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশে যোগ দেন। এ ছাড়া গতকাল উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, টেকনাফের উনচিপ্রাংসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরেও রোহিঙ্গা জেনোসাইডের বিচারের দাবিতে সমাবেশ করা হয়েছে। ওই সমাবেশগুলোতেও নাগরিকত্ব এবং ভিটেমাটি ফিরিয়ে দিয়ে তাদের প্রত্যাবাসন করার দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর জেনোসাইড সংঘটনের অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে হত্যাযজ্ঞ ও নির্মূল অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। প্রাণে বাঁচতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

 

মন্তব্য