kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

৩৩ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে নয়!

►২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৪৪৬,,আরো দুজনের মৃত্যু
►৯০ শতাংশ সুস্থ হয়ে, হাসপাতাল ছেড়েছে

তৌফিক মারুফ   

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৩৩ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে নয়!

গত ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬১ হাজার ৩৮ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে ৫৪ হাজার ৯৫৬ জন। হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ছিল ছয় হাজার ৩৫ জন। মারা গেছে ৪৭ জন। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইইডিসিআরের তথ্য অনুসারে তাদের হাতে থাকা সম্ভাব্য ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্য-উপাত্ত থেকে ৮০ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ৪৭ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে বলে নিশ্চিত করেছে। বাকি ৩৩ জনের মৃত্যুর কারণ অন্য বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। কিন্তু এই ৩৩ জন কোথায় মারা গেল তার হিসাব আগের দিনের মতো গতকালও মেলাতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কারণ তাদের তথ্যবিবরণী অনুসারে ৪৭ জনের বাইরে ৩৩ জনের মৃত্যু তো দূরের কথা অতিরিক্ত একজনও কোথাও মারা যায়নি। কোনো হাসপাতাল থেকেই ৪৭ জনের বেশি আর কোনো মৃত্যুর তথ্য দেয়নি। যদিও বাস্তবে মৃতের সংখ্যা এর তিন গুণেরও বেশি বলে তথ্য রয়েছে কালের কণ্ঠসহ অন্য সব গণমাধ্যমের কাছেই।

জানতে চাইলে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাছে ৮০টিরও বেশি মৃত্যুর তথ্য এসেছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও অন্যান্য মাধ্যমে। এর মধ্যে ৮০টি মৃত্যু তথ্য বিশ্লেষণ সম্পন্ন হয়েছে। যেখান থেকে ৪৭টি মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। বাকি ৩৩টি মৃত্যু ঠিক ডেঙ্গুতেই হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। কিন্তু ৪৭টির বেশি মৃত্যু তথ্য কেন হাসপাতালগুলো কন্ট্রোল রুমে পাঠায়নি তা আমি ঠিক বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ৪৭ জনের বাইরে থাকা ৩৩ জনের মৃত্যু বিভিন্ন হাসপাতালেই হয়েছে, কিন্তু তাদের মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়নি বলে আইইডিসিআর যেহেতু নিশ্চিত করেছে তাই এ ক্ষেত্রে মোট ডেঙ্গু রোগীর তথ্য থেকে ওই ৩৩ জনের তথ্য বাদ দেওয়া উচিত হবে। কিন্তু তাই বলে মৃত্যুর প্রাথমিক তথ্যে ওই সংখ্যা কেউ দিবে না, সেটা নয়। হাসপাতালগুলো কেন সব মৃত্যুর তথ্য কন্ট্রোল রুমে সঠিকভাবে দিচ্ছে না সেটা দেখতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু যোগ-বিয়োগ মিলিয়ে দিলেই তো হবে না আমরা সঠিক চিত্র চাই। কোনো কিছু গোপন করতে চাই না বলেই তো যখন যে তথ্য পাই তা গণমাধ্যমসহ সবাইকে জানিয়ে দেই। তার পরও কোনো ভুলভ্রান্তি থাকলে সেগুলোও ঠিক করে নেওয়া হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে।’

৯০ শতাংশ সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য অনুসারে গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত সবচেয়ে কমসংখ্যক নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অন্যদিকে ভর্তীকৃতদের মধ্যে ৯০ শতাংশ সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা। তাঁর দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৭ আগস্ট নতুন রোগী ভর্তি হয়েছিল এক হাজার ৪৬০ জন, ১৮ আগস্ট এক হাজার ৭০৬ জন, ১৯ আগস্ট এক হাজার ৬১৫ জন, ২০ আগস্ট এক হাজার ৫৭২ জন, ২১ আগস্ট এক হাজার ৬২৬ জন, ২২ আগস্ট এক হাজার ৫৯৭ জন এবং গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্বর্তী ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৪৪৬ জন। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরীর ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮৯ জন এবং ঢাকার বাইরের সারা দেশে ভর্তি হয়েছে ৭৫৭ জন। অন্যদিকে নতুন ও পুরনো মিলে গতকাল সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ভর্তি ছিল ছয় হাজার ৩৫ জন রোগীর মধ্যে ঢাকায় তিন হাজার ৪১১ জন ও ঢাকার বাইরে দুই হাজার ৬২৪ জন।

আরো দুজনের মৃত্যু : এদিকে গতকাল ঢাকায় ও সাতক্ষীরায় আরো দুজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

আমাদের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান শাহানারা আক্তার (৩৭)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী গ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী। গত ১৮ আগস্ট শাহানারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে তাঁর দেবর জিয়াউর রহমান জানান।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা