kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

রাজধানীর ৫৫ নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডেঙ্গু পরীক্ষা

ডিএনসিসি কিট দিলেও দেয়নি ডিএসসিসি

শাখাওয়াত হোসাইন   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডিএনসিসি কিট দিলেও দেয়নি ডিএসসিসি

২৭টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কিন্তু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ২৮টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো কিট দেওয়া হয়নি। ফলে ডিএনসিসির নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হলেও প্রতি পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে ডিএসসিসির কেন্দ্রগুলোতে।

এদিকে কিট দেওয়া হলেও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সেবা সম্পর্কে না জানার কারণে ডিএনসিসির ২৭টি কেন্দ্রে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা খুব কম। অন্যদিকে টাকা নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার কারণে নগরবাসীর আগ্রহ নেই ডিএসসিসির নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। ফলে ডেঙ্গুর প্রাথমিক পরীক্ষার জন্যও হাসপাতালে ভিড় করছে নগরবাসী। নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সেবা সম্পর্কে নগরবাসীকে সচেতন করা গেলে হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষার জন্য চাপ কমত বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। গতকাল বৃহস্পতিবার নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ডিএনসিসির ২৭টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পাঁচটি মাতৃসদন এবং ১৭টি সূর্যের হাসি ক্লিনিকে গত ৩০ জুলাই ৪০টি করে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া ‘প্রাইমারি আরবান হেলথ কেয়ার প্রকল্প’ থেকে আরো ২৩টি কিট সরবরাহ করা হয় ডিএনসিসির ওই কেন্দ্রগুলোতে। কিট পাওয়ার পর থেকে ডিএনসিসির সব কটি কেন্দ্রে বিনা মূল্যে এনএস-১ পরীক্ষা শুরু করা হয়। তবে জনগণ সেবা সম্পর্কে না জানার কারণে সাড়া মিলছে কম। প্রতিদিন গড়ে মাত্র দুই-তিনজন সেবাগ্রহীতা ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে কেন্দ্রগুলোতে। গত ৩০ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত ২৩ দিনে প্রতিটি কেন্দ্র থেকে ৪০ জনের মতো ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছে। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে ওই সব কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক সেবাও দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর অবস্থা জটিল হলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। তবে জনগণকে সচেতন করতে সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংস্থাটির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার তেঁতুলতলা সড়কের নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক রুবাবা তাজরিন মিশা বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে বিনা মূল্যে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার জন্য নগরবাসী এখানে খুব একটা আসে না। এ পর্যন্ত ৪৩টি পরীক্ষা করেছি আমরা। পরীক্ষায় ১৩ জনের ডেঙ্গু ধরা পড়ে।’

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে থাকা ২৮টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো ধরনের কিট দেওয়া হয়নি। ফলে প্রকল্পের টাকায় কিট কিনতে হয়েছে নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের। তাই প্রতি পরীক্ষার জন্য ওই সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৫০০ টাকা করে রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার জন্য টাকা লাগায় নগরবাসী খুব একটা আসে না বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। তবে গত বুধবার থেকে নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে বিনা মূল্যে কিট সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা। বিনা মূল্যে পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। কিন্তু নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা তা অস্বীকার করেছেন। ডিএসসিসির মুগদা হাসপাতালের সামনে অবিস্থত নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা না প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন কোনো কিট না দেওয়ায় এখানে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। গত ১৫ দিনে মাত্র ৩০ জনের মতো রোগী পরীক্ষার জন্য এখানে এসেছে। পরীক্ষায় আটজনের ডেঙ্গু ধরা পড়ে।’

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমিনুর রহমান মামুন বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে আমরা উদ্যোগটি নিয়েছিলাম। কিন্তু এখনো সব কটি কেন্দ্রের কিট শেষ হয়নি। জনগণকে জানানোর সব ধরনের চেষ্টা ছিল। কিন্তু প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না নগরবাসীর।’

ডিএসসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট দেরিতে হলেও দেওয়া শুরু হয়েছে। গত বুধবার থেকে বিনা মূল্যে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।’ সরেজমিনে গিয়ে ওই তথ্যের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি তা অবহিত করতেই ফোন কেটে দেন মীর মুস্তাফিজুর রহমান।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা