kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

গুগল-ফেসবুককে ৯০০০ কোটি টাকা ৩ মোবাইল কম্পানির

এনবিআরের হিসাবে গরমিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গুগল-ফেসবুককে ৯০০০ কোটি টাকা ৩ মোবাইল কম্পানির

তিনটি মোবাইল অপারেটর কম্পানি (গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবি) গত পাঁচ বছরে গুগল ও ফেসবুককে আট হাজার ৭৪৪ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিয়ে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মাত্র ১৩৩ কোটি টাকা। হিসাবের এই গরমিল বা অসামঞ্জস্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে আদালত থেকে সময় দেওয়া হয়েছে এনবিআরকে।

হাইকোর্ট আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইন্টারনেটভিত্তিক সব ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা-ও জানাতে এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল বৃহস্পতিবার ওই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। আদালতে বিটিআরসির পক্ষে

প্রতিবেদন দাখিল করেন আইনজীবী এ কে এম আলমগীর পারভেজ। রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

আদালতে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের উপপরিচালক প্রকৌশলী মো. নাহিদুল হাসানের সই করা প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এতে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবি গুগল ও ফেসবুককে ১০৪ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫৯৬ মার্কিন ডলার (আট হাজার ৭৪৪ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা) দিয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোন দিয়েছে ৪৩ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার ৬২৯ ডলার, বাংলালিংক দিয়েছে ২৮ কোটি ৬৪ লাখ ৬৯ হাজার ৯৬৭ ডলার এবং রবি দিয়েছে ৩২ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার। 

তবে একই বিষয়ে এনবিআর আরেকটি প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে ১৩৩ কোটি টাকার হিসাব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে গত ২৩ জুন হাইকোর্ট এনবিআরকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু গতকাল এনবিআর আদালতের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য সময় চায়। আদালত এনবিআরকে ফের প্রতিবেদন দাখিল করতে সময় বেঁধে দিয়েছেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট সার্চ ইঞ্জিন গুগল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ ইন্টারনেটভিত্তিক সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া ইন্টারনেট মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন, ডোমেইন বিক্রি এবং বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স বিক্রির ফিসহ যেকোনো লেনদেনের বিপরীতে যে পরিমাণ টাকা পরিশোধ করা হয় তা থেকে আদায়যোগ্য রাজস্ব সংগ্রহ করতে বলা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের ছয় আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউসার, অ্যাডভোকেট আবু জাফর মো. সালেহ, অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার বিশ্বাস, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মাজেদুল কাদেরের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই আদেশ দেন আদালত। অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি আদালত রুল জারি করেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা