kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

বিশেষজ্ঞ মত

মিয়ানমার মোটেও বদলায়নি

ইমতিয়াজ আহমেদ

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মিয়ানমার মোটেও বদলায়নি

রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারে ফিরে যাবে, কী ভরসায় যাবে? তারা মিয়ানমারের কোন কথায় বিশ্বাস করে যাবে? রোহিঙ্গাদের ফেরার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সবার আগে যা দরকার তা হলো মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন। এটি সংশোধন করেও বদলানো যেতে পারে বা নতুন আইনও করা যেতে পারে। আমার মনে হয় না, ওই আইন যত দিন না সংশোধন হচ্ছে তত দিন সেখানে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আসবে।

মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের ফলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে গেছে। ওই আইন পরিবর্তন করা হলে রোহিঙ্গারা স্বস্তি বোধ করবে। রোহিঙ্গারা তখন মনে করবে যে মিয়ানমারের কথার মূল্য আছে।

আমি মনে করি না, মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আন্তরিক। মূলত আগামী মাসে জাতিসংঘের অধিবেশন বসছে। মিয়ানমার জানে, সেই অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বড় চাপ আসবে। সে কারণে তারা দেখাচ্ছে যে তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং জাতিসংঘ বা এনজিওগুলোর কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরছে না।

মূল বিষয়টি হলো মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর ‘জেনোসাইড’ বা রীতিমতো ‘ক্রাইম অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি’ (মানবতাবিরোধী অপরাধ) সংঘটিত হয়েছে। এরপর পরিস্থিতির তো কোনো উন্নতির খবর তারা জানে না। রোহিঙ্গারা কী কারণে যাবে? কোনো পরিবর্তন তো মিয়ানমারে আসেনি। জেনোসাইডের শিকার হওয়া একটি জনগোষ্ঠীকে যদি বলা হয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের অধিকার দেওয়া হবে তাহলে তো তারা বিশ্বাস করবে না। আর মিয়ানমারের ওই কথায় তারা ফিরেও যাবে না।

মিয়ানমারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। সেই পরিবর্তন যখন আসবে তখনই নতুন আইনের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা সেখানে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। তখনই বলা যাবে যে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তরিক। আমি আপাতত মনে করি না, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চায়। বরং তারা এক ধরনের কূটনীতি খেলছে।

লেখক : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিচালক, সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ

শ্রুতলিখন : মেহেদী হাসান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা