kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

অসদাচরণের অভিযোগ

হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু

► বিচারিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত
► ছুটি নিলেন তিন বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের (আচরণবিধি লঙ্ঘন) অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট তিন বিচারপতিকে বিচারিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত জানার পর সংশ্লিষ্ট তিন বিচারপতি গতকাল বৃহস্পতিবার ছুটির আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। এ কারণে ওই তিন বিচারপতির নাম গতকালের হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় রাখা হয়নি।

যে তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে তাঁরা হলেন বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি ড. কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক।

একসঙ্গে তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বাংলাদেশে এই প্রথম। এ ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিনউদ্দিন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ রকম পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অন্যান্যের মধ্যে যাঁরা নিজেদের সঠিক পথে পরিচালনা করছেন না তাঁদের প্রতি এটা একটি বার্তা।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মাননীয় তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাদের বিচারকার্য থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করা হয় এবং পরবর্তীতে তারা ছুটির প্রার্থনা করেন।’

জানা যায়, গতকাল সকালে অনুসন্ধানের কথা জানিয়ে তিন বিচারপতিকে বিচারকাজ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থেই তাঁদের বিচারিক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এর আগে বুধবার আপিল বিভাগের বিচারপতিদের এক বৈঠকে ওই তিনজনকে বিচারিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরও আগে ওই তিনজনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতি পরামর্শ করেছেন বলে জানা যায়। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত জানার পরই প্রধান বিচারপতি পদক্ষেপ নেন।

ওই তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে কোন প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধানকাজ চলবে তা আপিল বিভাগের সব বিচারপতি বসে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে। বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ উঠলে আগে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তদন্ত করত, কিন্তু সরকার সংবিধানের সেই পদ্ধতি বাতিল করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী করে। তাতে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে একটি আইন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল বলে রায় দিয়েছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের রিভিউ আবেদন বিচারাধীন। এরই মধ্যে হাইকোর্টের বিচারপতি মিজানুর রহমান ভুইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার আমলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়েছিল। এর পরও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল আছে কি না তা নিয়ে বিতর্ক ওঠে। এ অবস্থায় তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ কে কোন প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সিনিয়র তিন বিচারপতি বিষয়টি অনুসন্ধান করবেন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে আপিল বিভাগের সব বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, টেকনিক্যাল বিষয়ে বিতর্ক তুলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করেই প্রধান বিচারপতি অনুসন্ধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের সব বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, ‘ওই তিনজনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করেই প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইনজীবীরা সবাই চান আমাদের আদালতটা সব  বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকুক। এ কারণে অনেক আগে থেকেই সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে ও বিচার বিভাগকে কলুষমুক্ত রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ছিল আইনজীবীদের।’ তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে সঠিক রাস্তায় রাখার জন্য এটা প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতির প্রাথমিক দায়িত্ব।

তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে কী অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সেটা অনুসন্ধানের পরেই জানা যাবে। কী অভিযোগ তা জনসমক্ষে প্রকাশ করাটা বিচার বিভাগের জন্য শুভ হবে না। আর এটা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির ব্যাপার এবং সেভাবেই দেখতে হবে। তিনি বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। কোনো মন্ত্রী থাকতে পারে না, কোনো বিচারপতিও থাকতে পারে না এবং আমরা সাধারণ মানুষও থাকতে পারি না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা