kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার বাইরে ১০ জেলায় ডেঙ্গুর হানা বেশি

► সর্বোচ্চ রোগী বরিশাল ও ময়মনসিংহে
► আরো তিনজনের মৃত্যু
► ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন রোগী ১৫৭২

তৌফিক মারুফ   

২১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ঢাকার বাইরে ১০ জেলায় ডেঙ্গুর হানা বেশি

ওঠানামা করছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কোথাও বাড়ছে, আবার কোথাও কমছে। গড় হিসাবে গত তিন দিনে কিছুটা কমলেও ঢাকার কোনো কোনো হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে। একই অবস্থা ঢাকার বাইরেও। সরকারি-বেসরকারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬৪ জেলার মধ্যে ৬০টিতেই জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে কমবেশি ডেঙ্গু রোগী রয়েছে। এ ছাড়া এই জেলাগুলোবেষ্টিত আটটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও রোগী রয়েছে এবং প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। তবে ওই ৬০ জেলার মধ্যে ১০টিতে রোগীর উপস্থিতি বেশি। জেলাগুলো হলো বরিশাল, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, বগুড়া, যশোর, খুলনা, মানিকগঞ্জ ও চট্টগ্রাম।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর, বরগুনার আমতলী ও শরীয়তপুরের ডামুড্যায় আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৫৭২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, ‘ঢাকার বাইরে যারা আক্রান্ত হচ্ছে বা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই মূলত ঢাকা থেকে যাওয়া। তারা হয়তো রাজধানীতে বসেই ভাইরাস বহন করে নিয়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে অন্য জায়গায়। পরে অনেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়, আবার অনেকে ঢাকায় এসে কোনো না কোনো হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এদিকেও আমাদের নজরদারি রয়েছে। প্রতিদিনই ঢাকার বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। দিচ্ছেন নানা দিকনির্দেশনা।’

এদিকে রাঙামাটি, বান্দরবান, রাজশাহী ও পঞ্চগড়ে নতুন আক্রান্ত নেই। আর ঢাকা মহানগরীর সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোর পরই একক কোনো হাসপাতাল হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, এ সংখ্যা এক হাজার ৩২৮ জন। ওই হাসপাতাল থেকে এরই মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ১৫৬ জন। এরপরই এক হাজার ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, কিশোরগঞ্জে ৮০৯ জন, কুমিল্লায় ৮০৪ জন, চাঁদপুরে ৭৭৫ জন, বগুড়ায় ৬৯৭ জন, যশোরে ৬৭৬ জন, খুলনায় ৬০২ জন, মানিকগঞ্জে ৭৭৭ জন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫৩৪ জন। বাকি জেলাগুলোতে ৫০০ জনের নিচে রোগী ভর্তি হয়েছিল। এর মধ্যে গতকাল সকাল পর্যন্ত ঢাকার বাইরে সর্বোচ্চ বরিশাল মেডিক্যালে ১৭২ জন, ঝিনাইদহে ১৬৫ জন, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ১৪৪ জন, মানিকগঞ্জে ১৩২ জন ও কিশোরগঞ্জে ১০৪ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বাকি সব এলাকায় রোগীর সংখ্যা ১০০ জনের নিচে। অন্যদিকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তিও হয়েছে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই ৪৮ জন, এর পরে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে যশোরে ৩৫ জন আর সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা মেডিক্যালে সর্বোচ্চ ১২৯ জন ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ১০৫ জন ভর্তি হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১২২ ও ৮১ জনে।

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ বাকির বলেন, ‘প্রতিদিনই এখানে ডেঙ্গু রোগী যেমন ভর্তি হচ্ছে, তেমনি সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরছে। এখানে যারা চিকিৎসা নিয়েছে তাদের কয়েকজন বাদে বেশির ভাগই ঢাকা থেকে আসা। যদিও জনবলের অভাবে এর কোনো শতকরা হার নির্ণয় করতে পারিনি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের তথ্য অনুসারে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১৫৭২ জন, যা আগের দিনের চেয়ে ৩ শতাংশ কম। এ সময়ে ঢাকায় নতুন ভর্তি ও ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৭৫০ ও ৭৫৬ জন, ঢাকার বাইরে নতুন ভর্তি ও ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৮২২ ও ১০৭৯ জন। আগের দিন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছিল ঢাকায় ৭৫০ জন ও ঢাকার বাইরে ৮৫৮ জন। এ হিসাবে আগের দিনের চেয়ে ঢাকায় নতুন রোগী ভর্তি কম হয়েছে সাতজন এবং ঢাকার বাইরে নতুন রোগী কম ভর্তি হয়েছে ৩৬ জন।

এদিকে নতুন-পুরনো রোগী মিলে সারা দেশে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ভর্তি হওয়া চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ৪৭০ জন, যা আগের দিনের চেয়ে ৪ শতাংশ কম। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে মোট ভর্তি রোগী তিন হাজার ৪১৩ জন ও ঢাকার বাইরে তিন হাজার ৫৭ জন। এ হিসাবে এ পর্যন্ত ঢাকা ও ঢাকার বাইরের মোট রোগীর যথাক্রমে ৮৯ শতাংশ ও ৮৬ শতাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫৬ হাজার ৩৬৯ জন ও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেওয়া রোগীর সংখ্যা ৪৯ হাজার ৮৫৯ জন। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১০টি পরিদর্শক দল বিভিন্ন হাসপাতালে পরিদর্শনে নিয়োজিত আছে। প্রতিদিন পরিচালক, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরো তিনজনের মৃত্যু : এদিকে ফরিদপুর থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত সোমবার রাতে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন রিকশাভ্যান চালক সাহেব আলী (৪৫)। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়া গ্রামের মনসের আলীর ছেলে। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে গত সোমবার দুপুরে সাহেব আলী আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখানে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এ পর্যন্ত এই হাসপাতালে সাত ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত সোমরার রাতে বরগুনার আমতলীর সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগমের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। তিনি আমতলী একে হাই স্কুলসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। কলাপাড়ার নীলগঞ্জ দৌলতপুর সালেহিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. সোহরাফ হোসেন স্বপন তালুকদারের স্ত্রী আসমা বেগম গত শনিবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তিনি প্রথমে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। গত সোমরার রাত ৮টার দিকে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমাকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বরিশালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুরের ডামুড্যায় গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সুরাইয়া আক্তার (৩২) নামের এক গৃহবধূ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি ডামুড্যা উপজেলা সদরের কামাল হোসেন ঢালীর স্ত্রী। এ নিয়ে শরীয়তপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিন নারীর মৃত্যু হলো। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা