kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রত্যাবাসনের তোড়জোড়

২১ পরিবারের সাক্ষাৎকার, শর্ত দিচ্ছে রোহিঙ্গারা

‘আঁরা এহন ন যাইয়্যুম’

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

২১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২১ পরিবারের সাক্ষাৎকার, শর্ত দিচ্ছে রোহিঙ্গারা

বহুল প্রত্যাশিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা আগামীকাল বৃহস্পতিবার। রোহিঙ্গারা এ মুহূর্তে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি না হলেও তারা স্বেচ্ছায় বোর্ডের কাছে এসে সাক্ষাত্কার দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সাক্ষাত্কার পর্বের প্রথম দিনে শতাধিক রোহিঙ্গার ২১টি পরিবার অংশ নেয়। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধিদের কাছে বলেছে, ‘আঁরা এহন ন যাইয়্যুম।’ অর্থাৎ আমরা এখন যাব না।

গতকাল সকাল ৯টা থেকেই ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য টেকনাফ সীমান্তের শালবাগান শিবিরে সাক্ষাত্কার টেবিল সাজিয়ে বসেছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকেই একে একে মিয়ানমারের ছাড়পত্রপ্রাপ্ত রোহিঙ্গারা সাক্ষাত্কার দিতে আসতে শুরু করে। সাক্ষাত্কার পর্বের সময় নির্ধারিত ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

সাক্ষাত্কার দিয়ে মিয়ানমারের নাইনসং গ্রামের বাসিন্দা রশিদ আমিন বলেন, ‘আমাকে ইউএনএইচসিআরের লোকজন খবর জানালে আমি সাক্ষাত্কার দিতে আসি। তাঁরা আমার কছে দেশে ফিরব কি না জানতে চাইলে আমি বলি, ফিরব না।’ তিনি বলেন, ‘দেশে ফেরার জন্য নাগরিকত্ব নিশ্চিত করাসহ চারটি শর্ত দিয়েছি।’ রশিদ আহমদ জানান, বর্তমানে তিনি শালবাগান আই-ব্লকের বাসিন্দা। ছয় সদস্য নিয়ে তাঁর সংসার। তিনি প্রথম শর্ত উল্লেখ করে বলেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে তাঁদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, মিয়ানমারে বর্তমানে যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে আগে তাদেরকেই নাগরিকত্ব দিতে হবে। সেটা যখন এপারের রোহিঙ্গারা নিশ্চিত হবে তখনই তারা ফিরে যাবে। চতুর্থত, রোহিঙ্গারা তাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি)  যে বিচার দাবি করে আসছে তা নিশ্চিত করতে হবে।

রুহুল আমিন নামের আরেক রোহিঙ্গা বলেন, তাঁর পরিবারের ১০ সদস্যের মধ্যে ৯ জনের ছাড়পত্র এসেছে। অন্য একজন অল্প দিন আগে বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছে। হয়তোবা এ কারণে ছাড়পত্র আসেনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা যাব না।’ তিনি আরো বলেন, কেউ তাঁকে জোর করে সাক্ষাত্কার দিতে বলেনি। তিনি স্বেচ্ছায় এসেছেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিয়োজিত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘প্রত্যাবাসন শুরু করার কাজ নিয়ে আমরা মোটেই হতাশ নই। আমরা শুরু করতে যাচ্ছি মাত্র। ২১টি পরিবার দেশে ফিরে যাবে কি না, তা জানানোর জন্য আজ (মঙ্গলবার) তারা তাদের মতামত দিতে হাজির হয়েছে স্বেচ্ছায়। এমন স্বেচ্ছামূলক সাক্ষাত্কার পর্বটিও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

আরআরআরসি বলেন, প্রথম দিনের সাক্ষাত্কার পর্বে যখন এত বেশিসংখ্যক রোহিঙ্গা এসেছে হয়তোবা আজ বুধবার সাক্ষাত্কার পর্বে আরো বহু রোহিঙ্গার সমাগম হবে। এভাবে প্রত্যাবাসন কাজটিকে ওরা (রোহিঙ্গা) সহজভাবে গ্রহণ করুক। তার পরই একদিন ঠিকই তারা ফিরবে তাদের ফেলে আসা বাড়িঘরে।

প্রত্যাবাসনে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত দিনের প্রত্যাবাসনের জন্য ২১টি পরিবারের রোহিঙ্গারা সম্মত না হলেও তাঁরা তাতে হতাশ নন। কর্মকর্তারা এটুকুতেই খুশি যে, অন্তত রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে না যাওয়ার জন্য কোনো বড় ধরনের মিছিল-মিটিং বা বিক্ষোভসহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি থেকে বিরত রয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, গত বছরের ১৫ নভেম্বরের প্রথম দফার প্রত্যাবাসনের কথা শুনে শত শত রোহিঙ্গা শিবির ছেড়ে পালিয়েছিল।

উল্লেখ্য, টেকনাফের অন্যতম সন্ত্রাসপ্রবণ রোহিঙ্গা শিবিরটি হচ্ছে শালবাগান শিবির। ওই শিবিরের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ খালেদ হোসেন জানিয়েছেন, ২৪ হাজার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এই শিবিরটি থেকেই বেশির ভাগ রোহিঙ্গার ছাড়পত্র দিয়েছে মিয়ানমার। যার সংখ্যা এ শিবিরটিরই রয়েছে তিন হাজার ৯১ জন। মোট তিন হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গার ছাড়পত্রের মধ্যে বাদ বাকি ৩৫৯ জন হচ্ছে অন্য তিনটি শিবিরের বাসিন্দা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা