kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কর্মপরিকল্পনা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

নতুন জনবল কী করছে, দুই সিটিকে জানাতে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন জনবল কী করছে, দুই সিটিকে জানাতে নির্দেশ

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে বছরজুড়ে এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা রয়েছে কি না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। বিষয়টি জেনে আগামী ২৬ আগস্ট আদালতকে তা অবহিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে কত রোগী ভর্তি হয়েছে, এর একটি পরিসংখ্যানও দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে আদালত দুই সিটি করপোরেশনকে নতুন জনবল নিয়োগ, তারা কিভাবে, কোথায়, কতক্ষণ কাজ করছে তার বিস্তারিত প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। গত ১৫ জুলাই আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ঢাকার দুই মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল এ আদেশ দেন আদালত। গতকাল আদালতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।

গতকাল শুনানিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাইনুল হাসান আদালতে বলেন, মশক নিধনে ও সচেতনতা সৃষ্টিতে উত্তর সিটি করপোরেশনকে প্রায় এক হাজার ৬০০ এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে দুই হাজার ২০০ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগে আদেশ দেওয়া হয়েছে। ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এ খাতে।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, মশা তো কমছে না। প্রতিদিনই প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি লোক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আদালত বলেন, এ বছর যেহেতু মশার প্রকোপ দেখা দিয়েছে, সেটা যে আগামী দিনেও হবে না তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ জন্য মশা নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের কর্মপরিকল্পনা থাকা দরকার; যেমনটা কলকাতায় রয়েছে। তারা মশা নিধনে এরিয়াল স্প্রে করে থাকে। আদালত আরো বলেন, এডিশ মশার প্রকোপ নিয়ে এ বছর অনেক আগে থেকেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সিটি করপোরেশনগুলো তা আমলে নেয়নি। এ ক্ষেত্রে দুই সিটির অবহেলা রয়েছে।

আমাদের উদ্বেগ থাকবেই

আদালত বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে। ভর্তীকৃত রোগীর সংখ্যা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে ওই ওষুধ কতটা কার্যকর। যখন রোগী ভর্তি শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে তখন প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে। যতক্ষণ পর্যন্ত হাসপাতালে রোগী ভর্তি বন্ধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের উদ্বেগ থাকবেই।;

ঈদে মানুষ বাড়ি যাওয়ায় মশা কামড়াতে পারেনি

শুনানিকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আইনজীবী আদালতকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে সারা দেশে ৬ শতাংশ রোগী কমেছে। এ সময় আদালত বলেন, ‘আপনারা (সিটি করপোরেশন) তো আর সারা দেশে ওষুধ ছিটান না। তাই সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমলে সেটা তো আপনাদের কর্মকাণ্ডের ফল না। ওটা বাই ন্যাচারালই কমছে। আর রোগী কমার কথা যদি বলেন তাহলে বলতে হবে, ঈদে মানুষ ঢাকা ছেড়ে বাড়ি যাওয়ায় মশা কামড়াতে পারেনি। এখন আবার মানুষ ঢাকায় ফিরে এসেছে, তাই এক সপ্তাহ পর বোঝা যাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কমেছে কি না।’

আবারও কি দক্ষিণের মশা উড়ে উত্তরে চলে যায়?

আদালত ডিএনসিসির আইনজীবীর কাছে জানতে চান, মশা মারার নতুন ওষুধ এনেছেন? নতুন ওষুধে কি মশা মরে? নাকি আবার দক্ষিণের মশা উড়ে উত্তরে চলে যায়? আদালত বলেন, ‘আপনাদের গাফিলতি রয়েছে।’

জবাবে আইনজীবী বলেন, ৪০ হাজার লিটার নতুন ওষুধ কেনা হয়েছে। ১১ আগস্ট থেকে এই ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। আদালত বলেন, নতুন ওষুধে মশা কি মরছে? জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘অনেকটা কার্যকর। আর আমরা যত তথ্য-উপাত্ত দিই না কেন যতক্ষণ পর্যন্ত হাসপাতালে রোগী ভর্তি বন্ধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো কিছুই ঠিকভাবে চলছে বলা যাবে না।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘আমরা যখন দেখব হাসপাতালে রোগী ভর্তি বন্ধ হচ্ছে, তখনই বুঝব যে মশার ওষুধ কার্যকর এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধ করা গেছে।’

আইনজীবী বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। কর্মীদের জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। পুরো কার্যক্রম মনিটর করা হচ্ছে।

এ সময় আদালত বলেন, ‘এভাবে বললে হবে না। কী কাজ হচ্ছে, কে কে কোথায় কাজ করছে, তা সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিতভাবে আমাদের কাছে দাখিল করুন।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা