kalerkantho

মিন্নি কেন জামিন পাবেন না : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মিন্নি কেন জামিন পাবেন না : হাইকোর্ট

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী কারাবন্দি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আগামী ২৮ আগস্ট এই রুলের ওপর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত ১৯ জুলাই মিন্নির বিচারিক (১৬৪ ধারায়) জবানবন্দি দেওয়ার এক দিন আগে ১৮ জুলাই বরগুনার পুলিশ সুপারের (এসপি) সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের লিখিত ব্যাখ্যা জানাতে এসপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার যাবতীয় নথিসংবলিত সিডি  (কেইস ডকেট) নিয়ে আগামী ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মিন্নির পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিন, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শাহানা পারভীন।

গতকাল শুনানিতে এ এম আমিনউদ্দিন বলেন, ‘মিন্নিসহ পাঁচজন এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাই এই পর্যায়ে মামলার তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার কোনো সুযোগ নেই। মিন্নি একজন ১৯ বছরের নারী। যেকোনো শর্তে জামিন চাচ্ছি। আদালত যে শর্ত দেবেন তাই মেনে নেওয়া হবে। জামিন দিলে মিন্নি পালাবেন না। তিনি তাঁর পিতার জিম্মায় থাকবেন।’

জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে বলা হয়, এটি একটি স্পর্শকাতর মামলা। এরই মধ্যে মিন্নিসহ ১৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিন্নিসহ পাঁচজন অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সবাই বলেছেন, এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মিন্নি। তাই তাঁকে জামিন দেওয়া ঠিক হবে না।

পুলিশের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে আদালতের প্রশ্ন

মামলার তদন্ত পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংবাদ সম্মেলন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শুধুই এই মামলা (রিফাত শরীফ হত্যা) নয়, আরো অনেক মামলায়ই দেখি, মামলার তদন্ত পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংবাদ সম্মেলন করে বলে, আসামি দোষ স্বীকার করেছে। মামলার তদন্ত পর্যায়ে তাদের এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া কতটুকু যুক্তিসংগত? এতে জনগণের মধ্যে কী ধারণার সৃষ্টি হয়? একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি বলেন, আসামি দোষ স্বীকার করেছে, তবে সংশ্লিষ্ট অধস্তন পুলিশের দায়িত্ব হয়ে যায় ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করার। এই মামলায় এসপি সাহেব সংবাদ সম্মেলন ডেকে কী করে বললেন যে মিন্নি দোষ স্বীকার করেছেন? এসপি বলার পর তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব হয়ে যায় তা প্রমাণ করা। এটা হলে মামলার তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। জনগণের মধ্যে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়। তাই এটা নিয়ে ভেবে দেখার সময় এসেছে। এ জন্য একটি নীতিমালা থাকা দরকার।

পুলিশ লাইনে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে আদালতের প্রশ্ন

গতকাল শুনানিতে আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিন বলেন, মিন্নিকে সাক্ষী হিসেবে তাঁর বক্তব্য জানতে পুলিশ ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টায় তাঁকে পুলিশ লাইনে ডেকে নেয়। এরপর রাত ১০টায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৯ বছরের একটি মেয়েকে পুলিশ লাইনে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের পরিণতি কী হতে পারে তা সবাই উপলব্ধি করতে পারে। এ ছাড়া এ মামলার আরেক আসামিকে ১ জুলাই গ্রেপ্তারের পর ১৪ জুলাই জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একটি বড় সময়ের ব্যবধান রয়েছে।

এ সময় আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, এমন হলে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু থাকে? কতটুকু সত্য বেরিয়ে আসার সুযোগ থাকে?

জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, মিন্নিকে অনেক পরে (মামলা হওয়ার) ডাকা হয়েছে। এর আগেই কজন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাতে মিন্নির সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে।

মিন্নির জবানবন্দি হাইকোর্টে

শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মিন্নি ও অন্য চার আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতকে দেখতে দেওয়া হয়। দুই বিচারপতি নীরবে আসামিদের জবানবন্দি পড়েন। এর মধ্যে মিন্নির জবানবন্দি পড়ার সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছ থেকে একটি কপি নিয়ে মিন্নির আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিনও পড়ে দেখেন। তিনি আদালতকে বলেন, ‘জবানবন্দিতে কী আছে তা পড়ব না। তবে বলি, ১৬৪ ধারায় মিন্নির জবানবন্দি পড়লে বোঝা যায়, এটা সাজানো।’

এর আগে গত ৮ আগস্ট বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন অবকাশকালীন বেঞ্চ জামিন দিতে রাজি না হওয়ায় আইনজীবী মিন্নির জামিনের আবেদন ফেরত নিয়েছিলেন। এ অবস্থায় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহীমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে জামিনের আবেদনটি শুনানির জন্য গতকাল উপস্থাপন করা হয়।

মন্তব্য