kalerkantho

চামড়া নিয়ে সমঝোতা

♦ আজ থেকে বিক্রি শুরু করবে আড়তদাররা ♦ পাওনা পরিশোধ নিয়ে সিদ্ধান্ত ২২ আগস্ট
♦ ১০ হাজার পিস চামড়া নষ্ট হয়েছে : শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চামড়া নিয়ে সমঝোতা

কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা নিয়ে আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। আজ সোমবার থেকে আড়তদাররা চামড়া বিক্রি করবে। ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের যে পাওনা রয়েছে সেটা আদায়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে আগামী ২২ আগস্ট। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন এবং চামড়া খাতসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বসে এসব সমস্যার সমাধান করবে।

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব বিষয় জানান শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্যসচিব মফিজুল ইসলাম, শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম ও ব্যবসায়ী নেতারা।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ বলেন, এক কোটি চমড়ার মধ্যে এ বছর ১০ হাজার পিস চামড়া নষ্ট হয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ চামড়া পানিতে ফেলে দেওয়ার যে তথ্য গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, সেটা সঠিক নয়। বরং এটা যদি হয়েই থাকে, তাহলে সেটা বিএনপি করেছে। তারা রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচিতে সফল হতে না পেরে বিনিয়োগ করে এটা করেছে বলে তিনি মনে করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এক কোটি চামড়ার মধ্যে এবার ০.১০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে। এবার যেহেতু গরম পড়েছে সে জন্যই ১০ হাজার পিস চামড়া নষ্ট হয়েছে। কিন্তু প্রতিবছর এমনিতেই ০.৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে থাকে বলে ব্যবসায়ীরা বৈঠকে জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এখানে কাজ করেছে বলে জেলা থেকে যারা এসেছে তারা জানিয়েছে। এগুলো আমরা গুরুত্ব দিই না। আমরা এ বিষয়ে সচেতন। এখন চামড়া পুড়িয়ে ছবি দিলে আমাদের কিছু করার নেই।’

বৈঠকে দেনা-পাওনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে কিন্তু তারা পাওনার জন্য কখনো কমপ্লেইন করেনি। সেখানে যে আস্থার বিষয়, সেটা কাজ করেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত না, কিন্তু তারা না বুঝে অধিক লাভের আশায় এখানে বিনিয়োগ করে। আর পুঁজি হারালে তাদের মাথা নষ্ট হয়ে যায়। এ ধরনের ব্যবসায়ীরাই এবার মিডিয়াকে মিসগাইড করেছে।’ তিনি বলেন, চামড়াশিল্পে কোনো সমস্যা নেই। এটা গতানুগতিক। চামড়া কেনা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। চামড়ার বিষয়ে নীতিমালা হচ্ছে। আর আজকের (গতকাল) বৈঠকে বিষয়টা সমাধান হয়েছে। তাদের মধ্যে যে দেনা-পাওনার বিষয়টা রয়েছে, সেটা আগামী ২২ তারিখ তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবে।

চামড়া রপ্তানির বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা কাঁচামাল, রপ্তানি করা একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার। আমরা প্রয়োজন মনে করলে রপ্তানি করব। সেই সিদ্ধান্ত নেব পরে।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, চিটাগাং ও সিলেটে বেশি চামড়া নষ্ট হয়েছে। নাটোরে নষ্টই হয়নি। আর কুষ্টিয়ায় কিছু নষ্ট হয়েছে।’

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আজ (গতকাল) থেকে চামড়ার মার্কেট ওপেন (বাজার খোলা)। দেনা-পাওনার বিষয়ে আমরা আগামী ২২ আগস্ট আবার বসব। এফবিসিসিআইকে সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা দুই পক্ষের সঙ্গে বসে সমাধান করে দেবে। যে সমস্যা ট্যানারির মধ্যে রয়ে গেছে, তা সমাধানে মন্ত্রী ও উপদেষ্টা কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।’

এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেছেন, তিনি মনে করেন কয়েকজন চামড়া ব্যবসায়ীর জন্য আজ পুরো চামড়াশিল্প বিপর্যস্ত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে তিনি এসব জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, তবে কি সরকারকে বিব্রত করতে কৌশলে কোরবানির পশুর চামড়া পুঁতে ফেলা এবং ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। সরকারকে বিব্রত করতে কেউ পরিকল্পিতভাবে এটা করেছে। মিডিয়াতে এত হৈচৈ পড়ল কেন। যদি নাটোর, কুষ্টিয়া, বগুড়ায় কিছু না হয়ে থাকে, তাহলে চট্টগ্রাম আর সিলেটে কেন এমন হলো। এসব জায়গায় চামড়া কেন পুঁতে ফেলা হলো। এখানে আসলে দায়টা কার। সেটা তো জানতে হবে।

আড়তদার সমিতির নেতারা বৈঠকে তথ্য তুলে ধরে বলেন, অন্তত ৩৫ লাখ পিস চামড়া নষ্ট হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সালমান এফ রহমান এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম ও সিলেটে চামড়া নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা তদন্তের জন্য একটি কমিটি করার প্রস্তাব করেন একজন ট্যানারি মালিক। এতে কারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা বেরিয়ে আসবে। এ সময় হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ট্যানারি মালিকরা সব সময় ব্যাংকের সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু তাঁরা কোনো সুবিধা পান না। তাঁর এই বক্তব্যের পর আড়তদার সমিতি ও ট্যানারি মালিকরা চামড়া কারসাজির দায় মিডিয়ার ওপর চাপিয়ে বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিতে থাকেন। মানিকগঞ্জ থেকে আসা একজন ব্যবসায়ী বলে ওঠেন—এটা সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বেকায়দায় ফেলতে করা হয়েছে। এসব মিডিয়ার সৃষ্টি।

একজন আড়তদার উত্তেজিত হয়ে বলেন, ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করেন। তাঁরা আড়তদারদের বিপদে ফেলেন। তাঁরা কোরবানির পর দুই-আড়াই মাস কোনো চামড়া কেনেন না। পরে সেটা গন্ধ হয়ে যায়। যারা চামড়ার ব্যবসা করে তারা জানে—দুই-আড়াই মাস পড়ে থাকলে চামড়ার কী অবস্থা হয়। এরপর নিলেও অর্ধেক বাদ দিয়ে দেয়। অর্ধেক নেয়। টাকা চাইতে গেলেও তারা খারাপ আচরণ করে। এ সময় ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিরাও পাল্টা বক্তব্য দিতে থাকেন। এ নিয়ে বৈঠকে হট্টগোল তৈরি হয়। পরে সালমান এফ রহমান ও বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান দুই পক্ষকে শান্ত করেন

মন্তব্য