kalerkantho

শুক্রবার । ১৭ জানুয়ারি ২০২০। ৩ মাঘ ১৪২৬। ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র উন্নয়ন বিশ্বে দৃষ্টান্ত

টুইটে নরেন্দ্র মোদি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র উন্নয়ন বিশ্বে দৃষ্টান্ত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে শুধু এই অঞ্চল নয়, সারা বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় টুইট বার্তায় এ তথ্য জানায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করে পাঁচটি টুইট বার্তা দিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রথমটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সপ্তম বৈঠকে যোগ দিতে ভারত সফররত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সাক্ষাতের তথ্য দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় টুইটে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শক্তিশালী ও ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং আন্ত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানান।

তৃতীয় টুইটে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে দ্রুত অগ্রযাত্রায় জোরালো অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে ভারতের চিরস্থায়ী অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় চতুর্থ টুইটে বলেছে, ‘তিনি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) মন্তব্য করেন যে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশটি (বাংলাদেশ) শুধু এই অঞ্চল নয়, সারা বিশ্বে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।’

পঞ্চম টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর নিজের পক্ষে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। সফররত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির শ্রদ্ধা নিবেদন ও শোক প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ধন্যবাদ জানান।’

এদিকে ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত কর্মসূচির অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় বৈঠকে নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন মোদি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে মাদকসহ সব চোরাচালান বন্ধ করার লক্ষ্যে ভারত সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে মাদক চোরাচালান বন্ধসহ একটি নিরাপদ ও কার্যকর সীমান্ত প্রতিষ্ঠায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ভারত সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত সরকার এরই মধ্যে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং ভারত সরকার মনে করে, এ সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করে সহযোগিতা করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি মত দেন, আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নে বিমসটেক কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে কোনো সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী যাতে ভারতসহ অন্য কোনো দেশের ক্ষতি করতে না পারে সে বিষয়ে বাংলাদেশের নীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বাংলাদেশ বিশ্বে এক ‘রোল মডেল’ বলে অভিহিত করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অবলোকন করার জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণের তাগিদ দেন।

ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, সুরক্ষাসেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান, আইজিপি ড. মো. জাবেদ পাটোয়ারী ওই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। 

এর আগে গত বুধবার নয়াদিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বৈঠকে উভয় পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে। আন্ত সীমান্ত অপরাধ দমনের প্রয়োজনীয়তার কথা তারা পুনর্ব্যক্ত করে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা