kalerkantho

জেআরসির সচিব পর্যায়ের বৈঠক

সাত নদীর পানিবণ্টন চুক্তির উদ্যোগ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাত নদীর পানিবণ্টন চুক্তির উদ্যোগ

ফেনী, ধরলা, দুধকুমার, মনু, খোয়াই, গোমতী ও মুহুরী—এই সাতটি নদীর পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সই করার লক্ষ্যে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। দীর্ঘ আট বছর পর গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এই অগ্রগতি হয়েছে। বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউপি সিং বলেন, ওই নদীগুলোর তথ্য-উপাত্ত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হালনাগাদ করা হবে। এরপর কয়েক মাসের মধ্যেই অন্তর্বর্তী বা কাঠামো চুক্তি হতে পারে।

আগামী অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে চুক্তিগুলো হতে পারে কি না জানতে চাইলে ইউপি সিং বলেন, এটি এখনই বলা খুব কঠিন।

এদিকে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ নিয়ে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে ভারত। তবে ওই ব্যারাজের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য প্রভাব জানতে একটি কমিটি করা হয়েছে।

পানিসম্পদসচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, ‘আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। এ দেশের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে জেআরসির মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে।’ গতকাল প্রায় দিনভর বৈঠকের পর ভারতের জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বড় কোনো সমস্যা নেই। ৫৪টি নদী আছে। গঙ্গা নিয়ে ১৯৯৬ সালে চুক্তি হয়েছে। পরিবেশ, পানিপ্রবাহ অনেক কমার চ্যালেঞ্জ থাকলেও চুক্তি ভালোভাবেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আরো আটটি নদীর ব্যাপারে যৌক্তিকভাবে ভালো অগ্রগতি হয়েছে। আমরা সমাধানের কাছাকাছি চলে এসেছি। ওই নদীগুলোর ব্যাপারেও কিছু ইস্যু আছে। যেমন ফেনী নদী ত্রিপুরা রাজ্যের পানি ও ছোট চাষাবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-উপাত্ত নেই।’

ভারতের সচিব বলেন, ‘ছয়টি নদীর ব্যাপারে আমাদের কাছে যে তথ্য-উপাত্ত আছে সেগুলো হালনাগাদ নয়। ওই তথ্য-উপাত্তগুলোর মধ্যে অসামঞ্জস্য আছে। আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদের জন্য দুই মাস সময় ঠিক করেছি। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হালাগাদ তথ্য পাওয়ার আশা করছি। এরপর আমরা ১৫ বছরের জন্য অন্তর্বর্তী বা কাঠামো চুক্তি করতে পারি। পরে আমরা আরো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে চুক্তি হালনাগাদ করতে পারি।’

ফেনী নদী প্রসঙ্গে ভারতীয় সচিব বলেন, ‘এ নদীটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ নদীর পানি ত্রিপুরায় খাবারের পানির জন্য এবং ছোট পরিসরে সেচকাজের জন্যও প্রয়োজন। দুই দেশের যৌথ কারিগরি কমিটি এই নদীর তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আলোচনা করবে।’

এদিকে বাংলাদেশের সচিব বলেন, ভারতে আন্ত নদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হিমালয় অঞ্চলের নদীগুলো নিয়ে আন্ত নদী সংযোগ প্রকল্প করা হলে তা বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হবে।

ভারতের সচিবও এ বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন নদীগুলো সংযোগের কোনো পরিকল্পনা ভারতের নেই।

বৈঠকে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা