kalerkantho

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য

হাসপাতালে ৭৬৫৮ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি

আরো পাঁচজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



হাসপাতালে ৭৬৫৮ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অনেক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সাত হাজার ৬৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয় ২৭ হাজার ৪৩৭ জন। এর মধ্যে গতকাল সকাল পর্যন্ত ১৯ হাজার ৭৬১ জন চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, মাদারীপুর ও খুলনায় আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত রবিবার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ঢাকার ৩৮টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১৫৯ জন, যা আগের দিন ছিল এক হাজার ৫৩ জন। অন্যদিকে গতকাল সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট দুই হাজার ৬৫ জন। গতকাল সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা মেডিক্যালে, ১৮৩ জন। আগের দিন যেখানে ছিল ১৩৪ জন। মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় ১১৮ জন, যা আগের দিন ছিল ৮৩ জন। মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০২ জন, যা আগের দিন ছিল ৯৭ জন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত শনিবার ভর্তি হয় ৯৮ জন, যা আগের দিন ছিল ৫৫ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে গতকাল সকাল পর্যন্ত নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ৯০৯ জন, যা আগের দিন ছিল ৮১৭ জন। সরকারি হিসাবে গতকাল পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়েছে।

ঢাকা, মাদারীপুর ও খুলনায় আরো পাঁচজনের মৃত্যু : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অথৈ সাহা (১১) নামের এক স্কুলছাত্রী মারা গেছে। গতকাল সকালে রাজধানীর আনোয়ারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সে বোয়ালমারী পৌর সদরের কামারগ্রামের ব্যবসায়ী কানাই সাহার মেয়ে এবং নিউ অলব্রাইট প্রি-ক্যাডেট স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অথৈ ছয়-সাত দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়। প্রথমে তাকে স্থানীয় চিকিৎসককে দেখানো হয়। পরে গত রবিবার তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাসান (১৩) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সে ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরমালিপা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। গতকাল সকালে তার মৃত্যু হয় বলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল ভোরে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারমিন আরা শাপলা (৩২) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম নাজমুল হকের স্ত্রী এবং জয়পুরহাটের শান্তিনগর এলাকার মৃত আব্দুস সালামের মেয়ে। শারমিনকে জয়পুরহাট থেকে ঢাকায় এনে গত রবিবার সকালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে মাদারীপুরের শিবচরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রিপন হাওলাদার (৩২) নামে এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (টিএইচও) ডা. মোকাদ্দেস আলী বলেন, ‘ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিপন মারা গেছেন। রিপন ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে শিবচরে এসেছিলেন। তাঁকে আমাদের হাসপাতালে এবং ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলা হলেও তিনি চিকিৎসা না নিয়ে বাড়িতে চলে যান। এরপর রবিবার রাতে আবার হাসপাতালে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।’

এ ছাড়া খুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খাদিজা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে খুলনার বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর তাফালবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সৌদিপ্রবাসী বেল্লাল মোল্লার স্ত্রী। স্বজনরা জানায়, জ্বর, মাথা ও বুকে ব্যথা নিয়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় শরণখোলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন খাদিজা। চিকিৎসক ইসিজি করিয়ে বলেন তাঁর হার্টে সমস্যা এবং প্রেসার কম। তিন দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সন্দেহে তাঁকে গত শুক্রবার রাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাঁকে ভর্তি করা হয় খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে তিনি মারা যান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ ব্রিফিং : এদিকে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার বিশেষ ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ‘ঈদের সময় ঢাকার বাইরে রোগীর সংখ্যা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেদিকে নজর রেখে আমরা এরই মধ্যে সারা দেশের হাসপাতালগুলোকে সতকর্তামূলক নির্দেশনা দিয়েছি। জেলা হাসপাতালগুলোর জন্য ১০ লাখ টাকা এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোর জন্য আপৎকালীন হিসাবে দুই লাখ টাকা করে বিশেষ মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে। কোথাও যাতে কোনো ওষুধ-উপকরণের সংকট না হয় সেদিকে আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। সেই সঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশে ঈদের ছুটিতে সব চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারীকে অন ডিউটিতে থাকতে হবে, কেউ স্টেশন লিভ করতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ মেকানিজম প্রয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব আঞ্চলিক দপ্তরের সিনিয়র কীটতত্ত্ববিদ ড. বি এন নাগপাল প্রমুখ। 

ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী : রাজধানী ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী মিলছে সবচেয়ে বেশি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি হিসাবের বাইরেও অনেক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এসব রোগীসহ জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৬ জন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে  ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩১২। এসব রোগীর মধ্যে ১১ জন স্থানীয়ভাবে এডিস মশায় আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। এদিকে উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন আজ মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জে সর্বাত্মক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

মন্তব্য