kalerkantho

৫০৪৮ কিলোমিটার মহাসড়ক নাজুক

সংস্কার না হওয়ায় ঈদ যাত্রায় শঙ্কা

পার্থ সারথি দাস   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সংস্কার না হওয়ায় ঈদ যাত্রায় শঙ্কা

রাজধানী থেকে ঈদ যাত্রা শুরু হচ্ছে মূলত আগামী বৃহস্পতিবার। অথচ জাতীয় মহাসড়কগুলোর বহু অংশ নাজুক অবস্থায় রয়ে গেছে।

 গতকাল সোমবার পর্যন্ত সেগুলোর বেশির ভাগ অংশে মেরামতকাজ শুরুই হয়নি। তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর বলছে, পুরোদমে সংস্কারকাজ চলছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে সব মহাসড়ক যান চলাচলের উপযোগী করা হবে।

সওজ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে অধিদপ্তরের আওতাধীন পাঁচ হাজার ৪৮ কিলোমিটার মহাসড়ক নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে ২৬ জেলায় ৮০১ কিলোমিটার। বন্যায় সড়ক-মহাসড়কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকা।

সওজ অধিদপ্তরের মহাসড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (এইচডিএম) বিভাগের জরিপে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যার আগে থেকেই চার হাজার ২৪৭ কিলোমিটার মহাসড়ক খারাপ ছিল। গত বছরের নভেম্বর থেকে গত মার্চ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৪৫২ কিলোমিটার মহাসড়কের অবস্থা জানতে জরিপ চালানো হয়। জরিপ প্রতিবেদনের তথ্য মতে, এর মধ্যে চার হাজার ২৪৭ কিলোমিটার মহাসড়ক খারাপ অবস্থায় রয়েছে। অতিবৃষ্টিতে এসব অংশ আরো নাজুক হয়ে পড়ে।

সওজ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় সব মিলিয়ে ২৬ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০১ কিলোমিটার মহাসড়ক। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ১৫৩ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ১০১ কিলোমিটার ও জেলা মহাসড়ক ৫৪৬ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলা মহাসড়ক। বন্যায় সিরাজগঞ্জে ১৮৫ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কুড়িগ্রামে ৭২, নওগাঁয় ৭৮, গাইবান্ধায় ৩২, জামালপুরে ৪০, কক্সবাজারে ৭৯, শেরপুরে ৩০ ও রংপুরে ৮৮ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঈদের এক সপ্তাহ আগে অধিদপ্তরের সব সড়ক মেরামত করে চলাচলের উপযোগী রাখতে গত মাসে নির্দেশ দিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়া-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বহু অংশ এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কটি উদ্বোধনের পর এক বছরও পার হয়নি। কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের পর থেকে ঢাকার দিকে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক দেবে গেলে কার্পেটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বর্ষার কারণে কাজ ভালোভাবে করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করছেন। এই মহাসড়কের এলেঙ্গা, চন্দ্রা, কালিয়াকৈরসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ি চলতে হয় ধীরগতিতে। কোনো কোনো অংশে একদিকের গাড়ি থামিয়ে রেখে উল্টো দিকের গাড়ি আসার ব্যবস্থা করতে হয়।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শাহবাজপুর সেতুর কাজ শেষ হয়নি। সেতুর উভয় পাশের সড়কে বৃষ্টিতে তৈরি হয়েছে গর্ত। সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ যেতে আঞ্চলিক মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ, জাউয়া অংশ গাড়িচালকরা পার হয় অতি সতর্ক হয়ে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উত্তরা, টঙ্গী ও গাজীপুর চৌরাস্তায় বৃষ্টি হলেই পানি জমছে। সৃষ্টি হয়ে আছে গর্ত ও খানাখন্দ। এই রুটের এনা পরিবহনের বাসচালক সবুজ আলী বলেন, সাধারণ সময়েই ঢাকা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত যেতে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। ঈদে যানবাহন বেড়ে গেলে ভাঙা রাস্তায় যানজট আরো বাড়বে।

২২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের ৭১ কিলোমিটার অংশ খারাপ বলে সওজ অধিদপ্তরের জরিপেই উঠে এসেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটার নাজুক। এর মধ্যে ফেনী জেলায়ই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে ২৭ কিলোমিটার।

মেরামত করতে নির্দেশ সড়কমন্ত্রীর : সওজ অধিদপ্তরের সব ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক ঈদ যাত্রার আগেই মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিয়ে আসছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঈদ যাত্রার প্রস্তুতি বিষয়ে গতকাল সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অংশীজনদের নিয়ে সভা করেন সড়কমন্ত্রী। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সভায় উপস্থিত সওজ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তিনি আবারও তাগিদ দেন বন্যায় বিধ্বস্ত মহাসড়ক মেরামতকাজ ঈদের তিন দিন আগে শেষ করতে।

সভায় উপস্থিত সওজ অধিদপ্তরের ঢাকা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, মূলত আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক যান চলাচলের উপযোগী করতে মন্ত্রী মহোদয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যেই মেরামতকাজ শেষ হবে। গতকাল সভায় উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীরা। তাত্ক্ষণিকভাবে ওই সভা আহ্বান করা হয়।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মহাসড়ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে :  সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের ২৩টি তদারক দল ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানের সরেজমিন প্রতিবেদনও মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে। অবস্থা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল মন্ত্রী সভায় জানিয়েছেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে। ৬ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ঈদ যাত্রায় মহাসড়কের অবস্থা তদারক করা হবে।

 

মন্তব্য