kalerkantho

মোমেনকে দেখেই পম্পেও

ডোন্ট আস্ক মি ইওর রাশেদ চৌধুরী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডোন্ট আস্ক মি ইওর রাশেদ চৌধুরী

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে দেখা হয়েছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের। দেখা হওয়ামাত্রই তিনি বলেন, ‘ডোন্ট আস্ক মি ইওর রাশেদ চৌধুরী’ (আপনাদের রাশেদ চৌধুরীর বিষয়ে জানতে চাইবেন না)। বঙ্গবন্ধুর ওই খুনিকে ফেরত পাঠাতে এর আগে পম্পেওকে জোরালোভাবে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ড. মোমেন। এবার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বার্ষিকী তথা জাতীয় শোক দিবসের প্রাক্কালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে আবারও রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তুলবেন তা আগেই আঁচ করেছিলেন মাইক পম্পেও।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন গতকাল রবিবার ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরাত আনার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আগে অন্তত দু-একজন খুনিকে তিনি ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সব খুনির অবস্থানের ব্যাপারে সরকার নিশ্চিত, তাও নয়। রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছে। ওই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি জোর দিয়ে বলেছি, ‘আপনারা সুশাসনের, আইনের শাসনের কথা বলেন। আমি যদি আমার আদালতের রায় কার্যকর না করি তাহলে আমি আইনের শাসন কিভাবে করব। আপনি আমাকে সাহায্য করবেন।”

তখন পম্পেও বলেছিলেন, তিনি পরে জানাবেন। আর এবার যখন ব্যাংককে দেখা হলো তখন তিনি রাশেদ চৌধুরীর প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

আরেক খুনি নূর চৌধুরীর আশ্রয়দাতা দেশ কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের সঙ্গেও গত সপ্তাহে ব্যাংককে আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের ফাঁকে সাক্ষাৎ হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের। পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, ‘কানাডা, ইউ শুড নট মেক কানাডা আ হাব অব অল মার্ডারার্স অ্যান্ড কিলারস।’ (কানাডা, আপনাদের কানাডাকে খুনি ও হত্যাকারীদের কেন্দ্র বানানো উচিত হবে না)।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দেন, তাঁর দেশের আইন খুব স্পর্শকাতর। ফাঁসি হতে পারে এমন কোনো ব্যক্তিকে কানাডা ফেরত দেয় না। নূর চৌধুরীর বিষয়টি এখন আর কানাডা সরকারের নির্বাহী বিভাগের হাতে নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ‘প্রক্রিয়াগতভাবে তোমার দেশ শয়তান, খুনিদের দেশ হয়ে যাচ্ছে। অবৈধ লোকটাকে তোমরা আশ্রয় দিয়েছ। তোমাদের কাছে আমাদের অনুরোধ, তোমরা যদি আইনের শাসনের কথা বলো তাহলে ওই ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানো উচিত।’

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনকে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কথা বলে জানাবেন।

রাশেদ চৌধুরী নাকি ডেভিড ওয়াটসন! : বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মধ্যে ফেরারি রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরী ছাড়া বাকিদের ব্যাপারে সরকারের স্পষ্ট ধারণা নেই বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই খুনিদের ফেরাতে আশ্রয়দাতা দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, খুনিদের ঠিকানা সংগ্রহ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যদি তাদের বাড়ির সামনে গিয়ে সকাল-বিকাল সুবিধামতো বিক্ষোভ করে তাহলে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার ওই খুনিদের ইসরায়েলের মতো অপহরণ করে তুলে আনতে নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি ইঙ্গিত দেন, খুনিদের অনেকে নিজেদের নামও বদলে ফেলেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাশেদ চৌধুরীর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘রাশেদ চৌধুরী নাকি ডেভিড ওয়াটস?’ সুতরাং ওরা নাম পরিবর্তন করেও থাকতে পারে।” তিনি বলেন, ‘তৎকালীন সরকারগুলো তাদের শুধু টাকা-পয়সাই দেয়নি, বিভিন্ন রকম পাসপোর্টও দিয়েছে। কোনটায় কী নাম আছে তা আমরা জানি না। এ কারণে আমরা তাদের শনাক্ত করতে পারিনি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর যারা ওই খুনিদের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিল তাদের ব্যাপারে তদন্ত ও শাস্তি হওয়া উচিত।’

 

মন্তব্য